কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
অলপ বয়সে মোর রস পরকাশ
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নবোঢ়া মিলন
সখীশিক্ষা
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার উক্তি
॥ শ্রীরাগ॥

অলপ বয়সে মোর রস পরকাশ।
না পুরে অলপ ধনে দারিদ আশ॥
হামারি পরশরস কৃপণক দান।
অমিয়া ভরমে কেহ করু বিষ পান॥
এ হরি এ হরি না ধরহ চীর।
হাম অবলা তুহুঁ রতিরণধীর॥ ধ্রু॥
তরল নয়ানশর অথির সন্ধান।
শিখাওল নবীন গুরু পাঁচবাণ॥
লহু লহু হাস বচন আধ মীঠ।
অবেকত মুকুরে বেকত নহ দীঠ॥
শিশির সময় নহ পিককূল গাব।
কলিকা কমলে ভ্রমরা নাহি যাব॥
অতয়ে জানি অব কর অবধান।
জ্ঞানদাস কহ নাহি মন মান॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবোঢ়া মিলন @
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার উক্তি
॥ শ্রীরাগ॥

অলপ বয়সে মোর রস পরকাশ।   না পুরে অলপ ধনে দারিদ আশ॥
হামারি পরশ-রস কৃপণক দান।   অমিয়া-ভরমে কেহ করু বিষ পান॥
এ হরি এ হরি না ধরহ চীর।   হাম অবলা তুহুঁ রতি-রণ-ধীর॥ ধ্রু॥
তরল নয়ান-পর অথির সন্ধান।   নবীন শিখাওল গুরু পাঁচবাণ॥
লহু লহু হাম বচন আধ মিঠ।   অবেকত মুকুরে বেকত নহ দিঠ॥
শিশির সময় নহ পিককুল গাব।   কলিকা কমলে ভ্রমরা নাহি যাব॥
অতয়ে জানি অব কর অবধান।   জ্ঞানদাস কহ নাহি মন মান॥

@ এই পর্যায়ের পদগুল্র উপর ভাবে ও ভাষায় বিদ্যাপতির প্রভাব স্পষ্ট।

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অলপ বয়সে মোর রস পরকাশ।
না পুরে অলপ ধনে দারিদ আশ॥
হামারি পরশরস কৃপণক দান।
অমিয়া ভরমে কেহ করু বিষপান॥
এ হরি এ হরি না ধরহ চীর।
হাম অবলা তুহুঁ রতিরণধীর॥
তরল নয়ানশর অথির সন্ধান।
শিখাওল নবীন গুরু পাঁচবাণ॥
লহু লহু হাস বচন আধ মীঠ।
অবেকত মুকুরে বেকত নহ দীঠ॥
শিশির সময় নহ পিককূল গাব।
কলিকা কমলে ভ্রমরা নাহি যাব॥
অতয়ে জানি অব কর অবধান।
জ্ঞানদাস কহ নাহি মন মান॥

টীকা ---
অল্পবয়স্কা শ্রীরাধার প্রথম মিলনে কাকুতি।

তুলনীয় ---
 জাবে ন মালতি কর পরগাস।
 তাবে ন তাহি মধু বিলাস॥
 লোভ পরি হরি সূনহি রাঁক।
 ধকে কি কেও কুই বিপাক॥
 তেজ মধুকর এ অনুবন্ধ।
 কোমল কমল লীন মকরন্দ॥
 এখনে ইচ্ছসি এহন সঙ্গ।
 ও অতি সৈসবে ন বুঝ রঙ্গ॥
        (বিদ্যাপতি ২৮৮)
 অর্থাৎ যতদিন মালতী না ফোটে ততদিন তাহার উপর ভ্রমর বিলাস করে না। লোভ ছাড়িয়া হে দরিদ্র শুণ। সহসা বিপাকে পড়িতেছ কেন? ভ্রমরের রীতি ত্যাগ কর। এখনও কোমল কমলে মধু বিলীন হইয়া আছে। এখনই ইহার সঙ্গ ইচ্ছা করিতেছ? ও এখনও অতি শিশু, রঙ্গ বুঝে না।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অলপ বয়সে মোর রস পরকাশ।
না পুরে অলপ ধনে দারিদ আশ॥
হামারি পরশরস কৃপণক দান।
অমিয়া ভরমে কেহ করু বিষপান॥
এ হরি এ হরি না ধরহ চীর।
হাম অবলা তুহুঁ রতিরণধীর॥
তরল নয়ানশর অথির সন্ধান।
শিখাওল নবীন গুরু পাঁচবাণ॥
লহু লহু হাস বচন আধ মীঠ।
অবেকত মুকুরে বেকত নহ দীঠ॥
শিশির সময় নহ পিককূল গাব।
কলিকা কমলে ভ্রমরা নাহি যাব॥
অতয়ে জানি অব কর অবধান।
জ্ঞানদাস কহ নাহি মন মান॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^