কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধাকৃষ্ণের পরস্পরের বেশবিন্যাস
॥ ধানশী॥
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ।
সিন্দূরে সুন্দর করিবরকুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান।
চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব রে সখি রস অবশেষ ।
দুহুঁ বনাওল দুহুঁ জন বেশ॥ ধ্রু॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জনজোড়।
কাজর চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ।
কবরী বনাওল বিদগধরাজ॥
রতনজড়িত মণিকাঞ্চনদাম।
চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁজন বেশে ভেল দুহুঁজন ভোর।
জ্ঞানদাস কহ বৈদগধি ওর॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধাকৃষ্ণের পরস্পরের বেশবিন্যাস
॥ ধানশী॥
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ। সিন্দূরে সুন্দর করিবর-কুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান। চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব যে সখি রস অবশেষ। দুহুঁ বনাওল দুহুঁ জন বেশ॥ ধ্রু॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জনজোর। কাজরে চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ। কবরী বনাওল বিদগধরাজ॥
রতন জড়িত মণি-কাঞ্চন-দাম। চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁজন বেশ ভেল দুহুঁজন ভোর। জ্ঞানদাস কহ বৈদগধি ওর॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ।
সিন্দুরে সুন্দর করিবর কুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান।
চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব রে সখি রস অবশেষ ।
দুহুঁ বনাওল দুহুঁ জন বেশ॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জন জোড়।
কাজর চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ।
কবরী বনাওল বিদগধ রাজ॥
রতন-জড়িত মণি-কাঞ্চন-দাম।
চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁ জন বেশে ভেল দুহুঁ জন ভোর।
জ্ঞানদাস কহ বৈদগধ ওর॥
টীকা ---
বিলাসের পর কিশোর-কিশোরী পরস্পরের বেশভূষা করিয়া দিতেছেন। প্রথমে নাগর আরম্ভ করিলেন। তিনি রাধার কপালে সিন্দূর দিতে যাইয়া তাঁহার করি কুম্ভতুল্য স্তনে সিন্দূর দিয়া দিলেন। রসিকা নাগরী তাহার প্রতিশোধ লইলেন না --- তিনি কানাইয়ের চেয়ে লোক ভাল (অধিক সুজান) ; তিনি কান্তের কপালে চন্দন দিয়া চাঁদ আঁকিয়া দিলেন। সখি! রসের বথা কি বলিব! দুই জনে দুই জনার বেশ বানাইলেন। খঞ্জনতুল্য নয়ন-যুগলে কজ্জলের অঞ্জন পরাইয়া দিলেন, কমলতুল্য নয়নে কাজল দিয়া যেন পদ্মের কোলে ভ্রমর (চঞ্চরি) বসাইলেন। রসিকবর নানারকম ফুল চুলে পরাইয়া রাধার কবরী বানাইয়া দিলেন। মণিরত্নখচিত সুবর্ণ হার এবং অতুলনীয় সুচিক্কণ চূড়া বানাইলেন। উভয়ে উভয়ের বেশ বানাইয়া আনন্দে বিহ্বল হইলেন। জ্ঞানদাস বলেন রসজ্ঞতার পরাকাষ্ঠা হইল।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ।
সিন্দূরে সুন্দর করিবরকুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান।
চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব রে সখি রস অবশেষ ।
দুহুঁ বমাওল দুহুঁ জন বেশ॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জনজোড়।
কাজর চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ।
কবরী বনাওল বিদগধরাজ॥
রতনজড়িত মণিকাঞ্চনদাম।
চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁজন বেশে ভেল দুহুঁজন ভোর।
জ্ঞানদাস কহ বৈদগধি ওর॥
*********************
॥ ধানশী॥
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ।
সিন্দূরে সুন্দর করিবরকুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান।
চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব রে সখি রস অবশেষ ।
দুহুঁ বনাওল দুহুঁ জন বেশ॥ ধ্রু॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জনজোড়।
কাজর চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ।
কবরী বনাওল বিদগধরাজ॥
রতনজড়িত মণিকাঞ্চনদাম।
চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁজন বেশে ভেল দুহুঁজন ভোর।
জ্ঞানদাস কহ বৈদগধি ওর॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধাকৃষ্ণের পরস্পরের বেশবিন্যাস
॥ ধানশী॥
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ। সিন্দূরে সুন্দর করিবর-কুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান। চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব যে সখি রস অবশেষ। দুহুঁ বনাওল দুহুঁ জন বেশ॥ ধ্রু॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জনজোর। কাজরে চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ। কবরী বনাওল বিদগধরাজ॥
রতন জড়িত মণি-কাঞ্চন-দাম। চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁজন বেশ ভেল দুহুঁজন ভোর। জ্ঞানদাস কহ বৈদগধি ওর॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ।
সিন্দুরে সুন্দর করিবর কুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান।
চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব রে সখি রস অবশেষ ।
দুহুঁ বনাওল দুহুঁ জন বেশ॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জন জোড়।
কাজর চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ।
কবরী বনাওল বিদগধ রাজ॥
রতন-জড়িত মণি-কাঞ্চন-দাম।
চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁ জন বেশে ভেল দুহুঁ জন ভোর।
জ্ঞানদাস কহ বৈদগধ ওর॥
টীকা ---
বিলাসের পর কিশোর-কিশোরী পরস্পরের বেশভূষা করিয়া দিতেছেন। প্রথমে নাগর আরম্ভ করিলেন। তিনি রাধার কপালে সিন্দূর দিতে যাইয়া তাঁহার করি কুম্ভতুল্য স্তনে সিন্দূর দিয়া দিলেন। রসিকা নাগরী তাহার প্রতিশোধ লইলেন না --- তিনি কানাইয়ের চেয়ে লোক ভাল (অধিক সুজান) ; তিনি কান্তের কপালে চন্দন দিয়া চাঁদ আঁকিয়া দিলেন। সখি! রসের বথা কি বলিব! দুই জনে দুই জনার বেশ বানাইলেন। খঞ্জনতুল্য নয়ন-যুগলে কজ্জলের অঞ্জন পরাইয়া দিলেন, কমলতুল্য নয়নে কাজল দিয়া যেন পদ্মের কোলে ভ্রমর (চঞ্চরি) বসাইলেন। রসিকবর নানারকম ফুল চুলে পরাইয়া রাধার কবরী বানাইয়া দিলেন। মণিরত্নখচিত সুবর্ণ হার এবং অতুলনীয় সুচিক্কণ চূড়া বানাইলেন। উভয়ে উভয়ের বেশ বানাইয়া আনন্দে বিহ্বল হইলেন। জ্ঞানদাস বলেন রসজ্ঞতার পরাকাষ্ঠা হইল।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পহিলহি নায়র করল আরম্ভ।
সিন্দূরে সুন্দর করিবরকুম্ভ॥
বিদগধ নায়রি অধিক সুজান।
চন্দন চান্দ কয়ল নিরমাণ॥
কি কহব রে সখি রস অবশেষ ।
দুহুঁ বমাওল দুহুঁ জন বেশ॥
অঞ্জনে রঞ্জল খঞ্জনজোড়।
কাজর চঞ্চরি কঞ্জহি কোর॥
বিবিধ কুসুমে করু কুন্তল সাজ।
কবরী বনাওল বিদগধরাজ॥
রতনজড়িত মণিকাঞ্চনদাম।
চূড়া চিকণ কয়ল অনুপাম॥
দুহুঁজন বেশে ভেল দুহুঁজন ভোর।
জ্ঞানদাস কহ বৈদগধি ওর॥
*********************
