কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
হাসিয়া হাসিয়া মুখ নিরখয়ে
হাসিয়া হাসিয়া মুখ নিরখিয়ে
হাসিয়া হাসিয়া মুখ নিরখিতে
হাসিয়া হাসিয়া মুখ নিরখিয়া

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৬৯১-নং পদসংখ্যা, ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া     মুখ নিরখয়ে
মধুর কথাটি কয়।
ছায়ার সহিতে     ছায়া মিশাইতে
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গে যে     পিরিতি করয়ে
কি জানি কি তার হয়॥ ধ্রু॥
সহজ রসের     আকর সে যে
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি     ও গীম-দোলনি
রমণী-মানস-চোর।
জ্ঞানদাস কহে     সে পিয়া-পিরিতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংকলন” এর ২৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া,     মুখ নিরখিয়ে
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিতে     ছায়া মিশাইতে
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গে যে     পিরীতি করয়ে
কি জানি কি তার হয়।
সহজে রসের     আকার সে যে
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে, আপন
অঙ্গেতে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি     ও গিম দোলনি
রমণী মানস চোর।
জ্ঞান দাস কহে,     সো পিয়া-পিরীতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত।
॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া,     মুখ নিরখিয়া,
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিতে,     ছায়া মিশাইতে,
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে,     পিরীতি করয়ে,
কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের,     আকার সে যে,
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন,     উড়িতে আপন,
অঙ্গেতে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি,     ওগিম দোলনী,
রমণী মানস চোর।
জ্ঞানদাস কহে,     সে পিয়া পিরীতি,
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত।
॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া,     মুখ নিরখিয়া,
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিতে,     ছায়া মিশাইতে,
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে,     পিরীতি করয়ে,
কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের,     আকার সে যে,
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন,     উড়িতে আপন,
অঙ্গেতে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি,     ওগিম দোলনী,
রমণী মানস চোর।
জ্ঞানদাস কহে,     সে পিয়া পিরীতি,
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্র্য।
॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া, মুখ নিরখিয়া, মধুর
কথাটী কয়। ছায়ার সহিতে, ছায়া মিশা-
ইতে পথের নিকটে রয়॥ আলো সই
সে জন মানুষ নয়। তাহার সঙ্গেতে,
পিরীতি করয়ে, কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের, আকার সে যে, ভাবের
অঙ্কুর তায়। বাতাসে বসন, উড়িতে আপন,
অঙ্গেতে ঠেকাইয়া যায়॥ চমক চলনি,
ওগিম দোলনী, রমণী মানস চোর। জ্ঞান-
দাস কহে, সো পিয়া পিরীতি, মরমে
পশিল তোর॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে
॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া,     মুখ নিরখিয়া,
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিতে,     ছায়া মিশাইতে,
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে,     পিরীতি করয়ে,
কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের,     আকর সে যে,
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন,     উড়িতে আপন,
অঙ্গেতে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি,     ওগিম দোলনী,
রমণী-মানস-চোর।
জ্ঞানদাস কহে,     সে পিয়া-পিরীতি,
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া,     মুখ নিরখিয়া,
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিতে,     ছায়া মিশাইতে,
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই, সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে,     পিরীতি করয়ে,
কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের,     আকর সে যে,
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন,     উড়িতে আপন,
অঙ্গেতে ঠেকাইয়া যায়॥
চমকে চলনি,     অগিম দোলনী,
রমণী-মানস-চোর।
জ্ঞানদাস কহে,     সে পিয়া-পিরীতি,
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১৬৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ রসোদ্গার
॥ রাগিণী শ্রীরাগ - তাল লোফা॥

হাসিয়া হাসিয়া, মুখ নিরখিয়া, মধুর কথাটি কয়। ছায়ার
সহিতে, ছায়া মিলাইতে, পথের নিকটে রয়॥ আলো সই, সেজন
মানুষ নয়। তাহার সঙ্গেতে, পিরীতি করিয়া, কি জানি কি তার
হয়॥ সহজে রসের, আকর সেজন, ভাবের অঙ্কুর তায়। বাতাসে
বসন, উড়িতে আপন, অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥ চমক চলনি, ও
গীম দোলনী, রমণী মানস চোর। জ্ঞানদাস কহে, সো পিয়া
আরতি, মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হাসিয়া হাসিয়া     মুখ নিরখয়ে
মধুর কথাটি কয়।
ছায়ার সহিতে     ছায়া মিশাইতে
পথের নিকটে রয়॥

আলো সই, সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গে যে     পিরিতি করয়ে
কি জানি কি তার হয়॥

সহজ রসের     আকর সে যে,
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥

চমকি চলনি     ওগীম-দোলনি
রমণী-মানস-চোর।
জ্ঞানদাস কহে---     সে পিয়া-পিরিতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ২২৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গারানুরাগ
॥ ॥

হাসিয়া হাসিয়া     মুখ নিরখিতে
মধুর কথাটি কয়।
ছায়ার সহিতে     ছায়া মিলাইতে
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে     পিরীতি করিয়ে
কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের     আকার সে যে
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়ে যায়॥
চমক চলনী     ও গীম দোলনী
রমণী মানস চোর।
জ্ঞান দাস কহে     সে পিয়া পিরীতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, প্রেমবৈচিত্র্য, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া     মুখ নিরখিয়া
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিত     ছায়া মিলাইতে
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই, সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে     পিরীত করয়ে
কি জানি কি তার হয়॥
সহজ রসের     আকর সে যে
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি     ও গিম দোলনী
রমণী মানস চোর।
জ্ঞান দাস কহে     সো পিয়া পিরীতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ নানা রস-কৈতুক-স্মৃতি ]
॥ ধানশী॥

হাসিয়া হাসিয়া     মুখ নিরখিয়া
মধুর কথাটী কয়।
ছায়ার সহিতে     ছায়া মিশাইতে
পথের নিকটে রয়॥

আলো সই, সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে     পিরীতি করয়ে
কি জানি কি তার হয়॥

সহজে রসের     আকার সে যে
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥

চমক চলনি     ও গিম দোলনি
রমণী-মানস চোর।
জ্ঞানদাস কহে     সো পিয়া পিরীতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (১৩৬০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬২৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী - দুঠুকী॥

হাসিয়া হাসিয়া     মুখ নিরখয়ে
মধুর কথাটি কয়।
ছায়ার সহিতে     ছায়া মিশাইতে
পথের নিকটে রয়॥
আলো সই সে জন মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গে যে     পিরিতি করয়ে
কি জানি কি তার হয়॥ ধ্রু॥
সহজ রসের     আকর সে যে
ভাবের অঙ্কুর তায়।
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥
চমক চলনি     ওগীম-দোলনি
রমণী-মানস-চোর।
জ্ঞানদাস কহে     সে পিয়া পিরিতি
মরমে পশিল তোর॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ সিন্ধুড়া॥

হাসি হাসি মোর     মুখ নিরখয়ে
মনে মনে কথা কয়।
কায়ার সহিতে     ছায়া মিশাইতে
পথের নিকটে রয়॥
সই সে জনা মানুষ নয়।
তাহার সঙ্গেতে     পিরিতি করিলে
না জানি কি জানি হয়॥ ধ্রু॥
বাতাসে বসন     উড়িতে আপন
অঙ্গে ঠেকাইয়া যায়॥
সহজে রসের     আকার, কতেক
ভাবের উদয় তায়।
ও গীম-দোলনি     চমক চলনি
রমণী-মানস-চোর।
জ্ঞানদাস বলে     ভালই বুঝিলে
মরমে লাগল মোর॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^