কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
বেশ ধরি নাপিতানী চলিল নাগর-মণি
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৫৩-পৃষ্ঠায়,শারদ রাস, অন্যভাবে মিলন, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বেশ ধরি নাপিতানী     চলিল নাগর-মণি
আনন্দিত হঞা বড় মন।
পদ আধ চলি যাএ     পুলকিত সব গাএ
রাধা-পদ-সেবার কারণ।
গোকুল নগর হৈতে     আইলা সে জাবটেতে
রাজপথ দিয়া চলি যাএ।
হেনই সময়ে দেখি     রাধিকার এক সখী
শ্যামা নারী দেখিয়া সুধাএ॥
কোথায় তোমার স্থিতি     হও তুমি কোন্ জাতি
কিবা কাজে আইলে ব্রজপুরে।
তোমার এ রূপ দেখি     জুড়াইল দুটি আঁখি
স্বরূপ করিয়া কহ মোরে॥
নাপিতানী কহে সই     মথুর নগর রই
হেথা আইনু কামাবার তরে।
সারাদিন করি বৃত্তি     আমার সে এই নীতি
সন্ধ্যাকালে ফিরি যাই ঘরে॥
সখী বলে বলি আমি     রাই আগে যাবে তুমি
নাপিতিনী বলে চল যাব।
সখী কহে রহ তুমি     গোচর করিএ আমি
তবে তমার রাই-আগে লব॥
নাপিতানী কহে ভাল     তবে সেহ চলি গেল
রাধা-আগে দিল দরশন।
জ্ঞানদাস কহে এবে     করজোড় করি তবে
ধীরে ধীরে করে নিবেদন ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, নাপিতানীবেশে মিলন, ৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সজনীকান্ত দাসের পুথি, ৯১-পৃষ্ঠা।

বেশ ধরি নাপিতানী     চলিল নাগর-মণি
আনন্দিত হঞা বড় মন।
পদ আধ চলি যাএ     পুলকিত সব গায়
রাধা-পদ-সেবার কারণ।
গোকুল নগর হৈতে     আইলা সে জাবটেতে
রাজপথ দিয়া চলি যায়।
হেনই সময়ে দেখি     রাধিকার এক সখী
শ্যামবর্ণ দেখিয়া সুধায়॥
কোথায় তোমার বসতি     হও তুমি কোন্ জাতি
কিবা কাজে আইলে ই ধারে।
তোমার এ রূপ দেখি     জুড়াইল দুটি আঁখি
স্বরূপ করিয়া কহ মোরে॥
নাপিতানী কহে তবে     মোর ঘর মধুপুরে
হেথা আইনু কামাবার তরে।
সারাদিন করি বিত্তি     আমার সে এই নিত্যি
সন্ধ্যাকালে যাই আমি ঘরে॥
সখী বলে বলি আমি     রাই আগে যাবে তুমি
নাপিতানী বলে চল যাব।
সখী কহে দাঁড়াও তুমি     গোচর করিএ আমি
তবে তোমায় রাধা-আগে লব॥
নাপিতানী কহে ভাল     তবে সেহ চলি গেল
রাধা-আগে দিল দরশন।
জ্ঞানদাস কহে এবে     করজোড় করি তবে
ধীরে ধীরে করে নিবেদন॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^