কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
পহিল বয়েস একে আরে নব আরতি
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

পহিল বয়েস একে     আরে নব আরতি
আর তাহে কানুর সোহাগ।
এত রস আদর     বাদ করল বিহি
কুলবতী কেমন অভাগ॥
সজনি না জানিয়ে এত পরমাদ।
একে মোর অন্তর     পোড়য়ে নিরন্তর
তিল এক নাহি অবসাদ॥
গৃহে গুরু দুরুজন     ভয়ে সভয় মন
তাহাতে অধিক শ্যাম-নেহা।
নহিযে স্বতন্তর     কানুর বিচ্ছেদ-ডর
সে তাপে তাপিত দুন দেহা॥
কিবা করি কিবা হয়     আপনা বুঝিল নয়
নিরবধি উড়ু উড়ু চিত।
জ্ঞানদাস কহে     মনে অনুমানিয়ে
বিষাধিক বিষম পিরীত॥

টীকা---
একে প্রথম বয়স, তাহাতে নূতন অনুরাগ, তাহার উপর কানুর সোহাগ। এত রসের আদর, বিধাতা বাদ সাধিল। কুলবতীর কেমন অভাগ্য দেখ। সখি, এত প্রমাদ হইবে জানি না। একে আমার অন্তর নিরন্তর পুড়িতেছে, এক তিলের জন্যও বিরাম নাই। তাহার উপর গৃহের গুরুজনের ভয়ে সর্ব্বদা সভয় মন। সবার অধিক শ্যামের প্রেমের জ্বালা। স্বতন্ত্র নই, কানুর বিচ্ছেদ ভরে দেহ দ্বিগুণ তাপিত হয়। কি করি, কি করিতে কি হয়, আপনাকেও বুঝিতে পারি না। নিরবধি চিত্ত উড়ু উড়ু করে। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, মনে অনুমান কারিতেছি, পিরীতি বিষাধিক বিষম।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, অনুরাগ, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

পহিল বয়েস একে     আরে নব আরতি
আর তাহে কানুর সোহাগ।
এত রস আদর     বাদ করল বিহি
কুলবতী কেমন অভাগ॥
সজনি না জানিয়ে এত পরমাদ।
একে মোর অন্তর     পোড়য়ে নিরন্তর
তিল এক নাহি অবসাদ॥
গৃহে গুরু দুরুজন     ভয়ে সভয় মন
তাহাতে অধিক শ্যাম-লেহা।
নহিয়ে সতন্তর     কানুর বিচ্ছেদ-ডর
সে তাপে তাপিত দুন দেহা॥
কিবা করি কিবা হয়     আপনা বুঝিল নয়
নিরবধি উড়ু উড়ু চিত।
জ্ঞানদাস কহে     মনে অনুমানিয়ে
বিষাধিক বিষম পিরিত॥

টীকা---
একে প্রথম বয়স, তাহাতে নূতন আরতি, আবার তাহার উপর কানুর সোহাগ, এত রস, এত আদরে বিধাতা বাদ সাধিল, কুলবতীর এ কেমন অভাগ্য। সজনি, এত প্রমাদ হইবে জানি না, একে আমার অন্তর নিরন্তর পুড়িতেছে, তিলের জন্যও বিরাম নাই। গৃহে দুর্জন গুরুজন, তাহাদের ভয়ে মন সর্বদা ভীত, তাহাতে অত্যধিক শ্যামের প্রীতি, নিজের স্বাধীনতা নাই। কানুর সহিত বিচ্ছেদাশঙ্কা দেহকে দ্বিগুণ তাপে দগ্ধ করিতেছে। কি করিব, কি হইবে, নিজেই বুঝিতে পারি না। নিরবধি মন উড়ু উড়ু করে। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, মনে অনুমান হয়, বিষম পিরীতি বিষেরও অধিক।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পহিল বয়েস একে আরে নব আরতি
        আর তাহে কানুর সোহাগ।
এত রস আদর বাদ করল বিহি
        কুলবতী কেমন অভাগ॥
সজনি না জানিয়ে এত পরমাদ।
একে মোর অন্তর পোড়য়ে নিরন্তর
        তিল এক নাহি অবসাদ॥
গৃহে গুরু দুরুজন ভয়ে সভয় মন
        তাহাতে অধিক শ্যাম নেহা।
নহিয়ে স্বতন্তর কানুর বিচ্ছেদ ডর
        সে তাপে তাপিত দুন দেহা॥
কিবা করি কিবা হয় আপনা বুঝিল নয়
        নিরবধি উড়ু উড়ু চীত।
জ্ঞানদাস কহে মনে অনুমানিয়ে
        বিষাধিক বিষম পিরীত॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^