কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
গাঢ় মান
॥ শ্রীরাগ॥
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ।
পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দনরেহ।
ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন।
গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥ ধ্রু॥
জগমাহা জানয়ে অছু ভাল মন্দ।
হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান।
ইথে বড় আছে কি ধনীন্ অবজান॥
নিজ মনমন্দিরে করহ বিচার।
জীবন নহ বিনু পর উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান।
জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
॥ শ্রীরাগ॥
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ।
পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দনরেহ।
ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন।
গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥ ধ্রু॥
জগমাহা জানয়ে অছু ভাল মন্দ।
হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান।
ইথে বড় আছে কি ধনীন্ অবজান॥
নিজ মনমন্দিরে করহ বিচার।
জীবন নহ বিনু পর উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান।
জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান (চ) গাঢ় মান
॥ শ্রীরাগ॥
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ। পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দন-রেহ। ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন। গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥ ধ্রু॥
জগমাহা জানয়ে মঝু ভাল মন্দ। হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান। ইথে বড় আছে কি ধনিয় অবজান॥
নিজ মন-মন্দিরে করহ বিচার। জীবন নহ বিনু পর-উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান। জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ।
পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দন-রেহ।
ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন।
গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥
জগমাহা জানয়ে মঝু ভাল মন্দ।
হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান।
ইথে বড় আছে কি ধনীয় অব জান॥
নিজ মন মন্দিরে করহ বিচার।
জীবন নহ বিনু পর-উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান।
জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের দূতী শ্রীরাধাকে বলিতেছেন --- চিরদিন ফুলে মধু থাকে না, দ্বিতীয়ার চাঁদ প্রহরের পর দেখা যায় না, দিনরাত চন্দনের রেখা থাকে না --- যৌবনও ঐরূপ (স্বল্পস্থায়ী) জানিও। যে ধন চলিয়াই গিয়াছে বা যাইবে তাহার জন্য কানাইকে বঞ্চনা করিও না। জগতের মধ্যে সকলেই নিজের ভাল মন্দ বুঝে, হিংসক লোকের সঙ্গে কখনও দন্দ বা মনের মিল হয় না। যাচক বুঝিয়া দান না করার চেয়ে ধনীর আর অবমাননা কি আছে? তোমার নিজের মনের মন্দিরেই বিচার কর। পরের উপকার বিনা জীবনে ফল কি? এইসব জানিয়া যদি অবধান হও (আমার কথায় মন দাও) তাহা হইলে জানদাস বলেন যে জগতে প্রশংসা হইবে।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ।
পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দনরেহ।
ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন।
গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥
জগমাহা জানয়ে অছু ভাল মন্দ।
হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান।
ইথে বড় আছে কি ধনীন্ অবজান॥
নিজ মনমন্দিরে করহ বিচার।
জীবন নহ বিনু পর উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান।
জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
*********************
মান (চ) গাঢ় মান
॥ শ্রীরাগ॥
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ। পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দন-রেহ। ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন। গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥ ধ্রু॥
জগমাহা জানয়ে মঝু ভাল মন্দ। হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান। ইথে বড় আছে কি ধনিয় অবজান॥
নিজ মন-মন্দিরে করহ বিচার। জীবন নহ বিনু পর-উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান। জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ।
পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দন-রেহ।
ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন।
গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥
জগমাহা জানয়ে মঝু ভাল মন্দ।
হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান।
ইথে বড় আছে কি ধনীয় অব জান॥
নিজ মন মন্দিরে করহ বিচার।
জীবন নহ বিনু পর-উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান।
জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের দূতী শ্রীরাধাকে বলিতেছেন --- চিরদিন ফুলে মধু থাকে না, দ্বিতীয়ার চাঁদ প্রহরের পর দেখা যায় না, দিনরাত চন্দনের রেখা থাকে না --- যৌবনও ঐরূপ (স্বল্পস্থায়ী) জানিও। যে ধন চলিয়াই গিয়াছে বা যাইবে তাহার জন্য কানাইকে বঞ্চনা করিও না। জগতের মধ্যে সকলেই নিজের ভাল মন্দ বুঝে, হিংসক লোকের সঙ্গে কখনও দন্দ বা মনের মিল হয় না। যাচক বুঝিয়া দান না করার চেয়ে ধনীর আর অবমাননা কি আছে? তোমার নিজের মনের মন্দিরেই বিচার কর। পরের উপকার বিনা জীবনে ফল কি? এইসব জানিয়া যদি অবধান হও (আমার কথায় মন দাও) তাহা হইলে জানদাস বলেন যে জগতে প্রশংসা হইবে।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চির দিন না রহে কুসুমে মকরন্দ।
পহরে না পাইয়ে দূতিয়াক চন্দ॥
অহনিশি না রহে চন্দনরেহ।
ঐছন জানিয়ে যৌবন এহ॥
শুন শুন সুন্দরি কি বলিব আন।
গত ধন লাগি না বঞ্চহ কান॥
জগমাহা জানয়ে অছু ভাল মন্দ।
হিংসক জন সঞে কভু নহে দন্দ॥
যাচক বুঝি যো না করয়ে দান।
ইথে বড় আছে কি ধনীন্ অবজান॥
নিজ মনমন্দিরে করহ বিচার।
জীবন নহ বিনু পর উপকার॥
অতএ জানি যদি হয়ে অবধান।
জ্ঞানদাস কহ জহতে বাখান॥
*********************
