কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
ও চাঁদ-মুখের মধুর হাসনি
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ
॥ ভাটিয়ারি॥

ও চাঁদমুখের     মধুর হাসনি
সদাই মরমে জাগে।
মুখ তুলি যদি     ফিরিয়া না চাহ
আমার শপথি লাগে॥
রামা হে ক্ষেম অপরাধ মোর।
মদনবেদন     না যায় সহন
শরণ লইলুঁ তোর॥ ধ্রু॥
তোমার অঙ্গের     পরশে আমার
চিরজীবী হউ তনু।
জপতপ তুহুঁ     সকলি আমার
করের মোহন বেণু॥
দেহ গেহ সার     সকলি আমার
তুমি সে নয়ানতারা।
তিল আধ আমি     তোমা না দেখিলে
সব বাসি আন্ধিয়ারা ॥
এত পরিহার     করিয়ে তোমারে
মনে না ভাবিহ আন।
কবজ লিখিয়া     লেহ যে আমার
দাস করি অভিমান॥
জ্ঞানদাস কহে     শুনহ সুন্দরি
এ কোন ভাব-যুগতি।
কানু সে কাতর     সদয় হইয়া
কেন না কর প্রতীতি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ ভাটিয়ারি॥

ও চাঁদ-মুখের     মধুর হাসনি
সদাই মরমে জাগে।
মুখ তুলি যদি     ফিরিয়া না চাহ
আমার শপথি লাগে॥
রামা হে ক্ষেম অপরাধ মোর।
মদন-বেদন     না যায় সহন
শরণ লইলুঁ তোর॥ ধ্রু॥
তোমার অঙ্গের     পরশে আমার
চিরজীবী হউ তনু।
জপতপ তুহুঁ     সকলি আমার
করের মোহন বেণু॥
দেহ গেহ সার     সকলি আমার
তুমি সে নয়ানতারা।
তিল আধ আমি     তোমা না দেখিলে
সব বাসি আন্ধিয়ারা ॥
এত পরিহার     করিয়ে তোমারে
মনে না ভাবিহ আন।
কবজ লিখিয়া     লেহ যে আমার
দাস করি অভিমান॥ ১
জ্ঞানদাস কহে     শুনহ সুন্দরি
এ কোন ভাব-যুগতি।
কানু সে কাতর     সদয় হইয়া
কেন না কর প্রতীতি॥

টীকা---
ও চাঁদমুখের মধুর হাসি সদাই মর্মে জাগিতেছে। যদি মুখ তুলিয়া না চাহ, আমার শপথ লাগে। রামা হে, আমার অপরাধ ক্ষমা কর। মদন-বেদন সহা যায় না, তোমার শরণ লইলাম। তোমার অঙ্গের পরশে আমার তনু চিরঞ্জীবি হউক। তুমি আমার জপ-তপ সর্বস্ব, আমার করের মোহন বেণুও তুমিই। আমার দেহ গেহের সার, আমার সকলি তুমি, তুমি আমার নয়নের তারা। তিল আধ তোমাকে না দেখিলে আমি সব অন্ধকার দেখি। তোমাকে এত পরিহার করিতেছি, মনে অন্য ভাবিও না। আমি তোমার দাসরূপে অঙ্গীকারপত্র লিখিয়া দিতেছি। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, সুন্দরি শোন, এ তোমার কোন ভাবের যুক্তি! কানু কাতর, সদয় হইয়া কেন তাহার কথার বিশ্বাস করিতেছ না?

১ --- আমাকে দাসরূপে গ্রহণ করিয়া স্বীকারপত্র লিখিয়া লও।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ও চাঁদমুখের মধুর হাসনি
        সদাই মরমে জাগে।
মুখ তুলি যদি ফিরিয়া না চাহ
        আমার শপথি লাগে॥
রামা হে ক্ষম অপরাধ মোর।
মদনবেদন না যায় সহন
        শরণ লইলুঁ তোর॥
তোমার অঙ্গের পরশে আমার
        চিরজীবী হউ তনু।
জপতপ তুহুঁ সকলি আমার
        করের মোহন বেণু॥
দেহ গেহ সার সকলি আমার
        তুমি সে নয়ানতারা।
তিল আধ আমি তোমা না দেখিলে
        সব বাসি আন্ধিয়ারা ॥
এত পরিহার করিয়ে তোমারে
        মনে না ভাবিহ আন।
কবজ লিখিয়া লেহ যে আমার
        দাস করি অভিমান॥
জ্ঞানদাস কহে শুনহ সুন্দরি
        এ কোন ভাব-যুগতি।
কানু সে কাতর সদয় হইয়া
        কেন না কর প্রতীতি॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^