কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
রুপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৭০১- নং পদসংখ্যা, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রুপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন-চাঁদে চীত হরি নেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধই সুধায় সিঁচিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরিতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পাইয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী।
তাম্বুল অধরে অধরে লেই বাঁটি॥
করে কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ-তনু আধ-আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রুপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন চাঁদ চিত রহি গেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
সুধুই সুধায়সি চকিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পারিয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী।
তাম্বুল অধরে অধরে লই ষাটি॥
করে কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ-তনু আধ-আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন।
॥ শ্রীরাগ॥

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন চাঁদ চিত রহি গেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধুই সুধায়সি চকিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পারিয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরুঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটি ।
তাম্বুল অধরে অধরে লই বাটি॥
করে কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ শ্রীরাগ॥

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥ মনক
মনোরথ মনমথ দেল। চন্দন চাঁদ চিত
রহি গেল॥ এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধুই সুধায়সি চকিত ভেল অঙ্গ॥ আরতি
গুরুয়া পিরীতি নহ থোর। লাখ মুখে কহিতে
না পারিয়ে ওর॥ পরশে অবশ তনু বেশ
নিরুঝম্প। ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী। তাম্বুল
অধরে অধরে লই বাটি॥ করে কত ভাতি
কয়ল কত রঙ্গ। জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ
আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে
॥ শ্রীরাগ॥

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন চাঁদ চিত রহি গেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধুই সুধায়সি চকিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পারিয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরুঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
তরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী ।
তাম্বুল অধরে অধরে লই বাটি॥
করে কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৭ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মন্মথ দেল।
চন্দন চাঁদে চীত হরি নেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধই সুধায় সিঁচিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরিতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পাইয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী ।
তাম্বুল অধরে অধরে লেই বাঁটি॥
করি কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ-আধ অঙ্গ॥

টীকা ---
চন্দন চাঁদে চিত হরি নেল --- শ্যামের কপালে চন্দন দিয়া আঁকা চাঁদ আমার মন চুরি করিয়া লইল।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ শ্রীরাগ॥

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন চাঁদ চিত রহি গেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধুই সুধায়সি চকিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাজ মুখে কহিতে না পারিয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরুঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
তরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী ।
তাম্বুল অধরে অধরে লই বাটি॥
করে কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন-চাঁদ চিত রহি গেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
সুধুই সুধায়সি চকিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পারিয়ে ওর॥
করি কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন চান্দে চিত হরি নেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধুই সুধায় সিঁচিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরিতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পাইয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটি।
তাম্বূল অধরে অধরে নেই বাঁটি॥
করি কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ শ্রীরাগ॥

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দনচাঁদে চিত হরি নেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধই সুধায় সিঁচিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পাইয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী ।
তাম্বূল অধরে অধরে নেই বাঁটি॥
করি কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রুপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দন-চাঁদে চিত হরি নেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধই সুধায় সিঁচিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরিতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পাইয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী।
তাম্বুল অধরে অধরে লেই বাঁটি॥
করি কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ-তনু আধ-আধ অঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ হেরি লোচন তিরপিত ভেল।
গুণ শুনি শ্রবণ সফল ভৈ গেল॥
মনক মনোরথ মনমথ দেল।
চন্দনচাঁদে চিত হরি নেল॥
এ সখি এ সখি আজুক রঙ্গ।
শুধই সুধায় সিঁচিত ভেল অঙ্গ॥
আরতি গুরুয়া পিরীতি নহ থোর।
লাখ মুখে কহিতে না পাইয়ে ওর॥
পরশে অবশ তনু বেশ নিরঝম্প।
ঘামল সব তনু উপজল কম্প॥
সরস সম্ভাষণ হাস পরিপাটী ।
তাম্বূল অধরে অধরে নেই বাঁটি॥
করি কত ভাতি কয়ল কত রঙ্গ।
জ্ঞান কহে দুহুঁ তনু আধ আধ অঙ্গ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^