কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
দুহুঁ দিঠিঅঞ্চল বচন সমাপল
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পরস্পর সঙ্কেত
॥ ধানশী॥

দুহুঁ দিঠিঅঞ্চল     বচন সমাপল
চৌদিশে কত আছে আনে।
দুহুঁ জন বুঝল     কেহো নাহি সমুঝল
ঐছন দুহুঁ যে সিয়ানে॥
সখি রাই কলাবতি কানে।
কি দুহুঁ মনোভব     মনহি বুঝাওল
কিয়ে দুহুঁ আপন সুজানে॥
ভুজে ভুজে বান্ধি     উরহি দরশায়ল
রমণী সমুঝল কাজে।
আপন শিরোরুহ     করে পরশায়ল
সময় বুঝায়ল সাজে॥
করকমলে মুখ-     কমল লুকায়ল
আন সমুঝায়ল নাহ।
জ্ঞানদাস কহ     তরুণি উন নহ
তৈছে কয়ল নিরবাহ॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ দিঠি-অঞ্চল     বচন সমাপল
চৌদিশে কত আছে আনে।
দুহুঁ জন বুঝল     কেহো নাহি সমুঝল
ঐছন দুহুঁ যে সিয়ানে॥
সখি রাই কলাবতি কানে ।
কি দুহুঁ মনোভব     মনহি বুঝাওল
কিয়ে দুহুঁ আপন সুজানে॥
ভুজে ভুজে বান্ধি     উবহি দরশায়ল
রমণী সমুঝল কাজে।
আপন শিরোরুহ     করে পরশায়ল
সময় বুঝায়ল সাজে॥
কর-কমলে মুখ-     কমল লুকায়ল
আন সমুঝায়ল নাহ।
জ্ঞানদাস কহ     তরুণি উন নহ
তৈছে কমল নিরবাহ ॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ দিঠি-অঞ্চল     বচন সমাপল
চৌদিকে আছে কত আনে।
দুহুঁ জন বুঝল     কেহ নাহি বুঝল
ঐছন দুহুঁ জন শেয়ানে॥
সখি রাই কলাবতী কানে।
কি দুহুঁ মনোভব     মনোহি বুঝায়ল
কিয়ে দুহুঁ আপন সুজানে॥ ধ্রু॥
ভুজে ভুজে বাঁধি     উরহি দরশায়ল
রমণী সমুঝব কাজে।
আপন সরোরুহ     করে পরশায়ল
সময় বুঝায়ল সাজে॥
কর কমলে মুখ     -কমল লুকায়ল
আন সমুঝায়ল নাহ।
জ্ঞানদাস কহ     তরুণী উন নহ
তৈছেন করল নিরবাহ॥

টীকা ---
চোখের ইসারায় দুইজনে কথা শেষ করিল, কেননা চারিদিকে কত অন্য লোক রহিয়াছে। দুইজনেই শুধু বুঝিল, আর কেহ নহে ; এমনই চতুর তাহারা দুইজন। দুইজনের মনের কামভাব মনেই বুঝাইল, দুইজনেই কি অপরূপ সঙ্কেত সৃষ্টি করিল। কানাই ভুজেভুজ বাঁধিয়া বুক দেখাইল, রমণী কাজ বুঝিল। নিজের মুখপদ্ম হাত দিয়া স্পর্শ করিয়া সজ্জার দ্বারা সময় বুঝাইয়া দিল (রাত্রিতে কমল মুদিত হয়)। নায়িকা করকমলে মুখকমল স্পর্শ করিল (মুখ ঢাকিয়া অন্ধকার রাত্রিতে অভিসারের ইঙ্গিত করিল) কিন্তু নাথ অন্যরকম বুঝিল (নায়িকা সন্ধ্যায় আসিবে বুঝিল)। জ্ঞানদাস বলেন নায়িকা কম নহে, সেইরূপই নির্ব্বাহ করিল (অর্থাৎ সন্ধ্যাতেই অভিসার করিল)।

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ দিঠিঅঞ্চল বচন সমাপল
        চৌদিশে কত আছে আনে।
দুহুঁ জন বুঝল কেহো নাহি সমুঝল
        ঐছন দুহুঁ যে সিয়ানে॥
সখি রাই কলাবতি কানে।
কি দুহুঁ মনোভব মনহি বুঝাওল
        কিয়ে দুহুঁ আপন সুজানে॥
ভুজে ভুজে বান্ধি উরহি দরশায়ল
        রমণী সমুঝল কাজে।
আপন শিরোরুহ করে পরশায়ল
        সময় বুঝায়ল সাজে॥
করকমলে মুখকমল লুকায়ল
        আন সমুঝায়ল নাহ।
জ্ঞানদাস কহ তরুণি ঊন নহ
        তৈছে কমল নিরবাহ ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^