কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
হাম ধনী কুলবতী নারী
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সিন্ধুড়া॥
হাম ধনী কুলবতী নারী। জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল। মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধব কানে। অব কৈছে ধরব পরাণে॥ ধ্রু॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে। সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়। দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে। কি করব অলিপরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব। জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
টীকা ---
আমি সুন্দরী কূলবতী রমণী, কিন্ত ভুবন ভরিয়া (কুলকলঙ্কিনী বলিয়া) গালি রহিয়া গেল। দুই কুলেই কাঁটা দিলাম। মনোরথ উদিত হইয়াই অস্ত গেল। সই, কানুকে আর কত অনুবোধ করিব। এখন কিরূপে প্রাণ রাখিব। হৃদয়ে বহু সাধ ছিল, কলঙ্কেই সে সমস্তের সমাপ্তি ঘটিল। অনুক্ষণ তো দেখা যায় না, দুর্গ্রহ কি না করায়। মধুভরা ফুল (লাবণ্যে) ঝলমল করিতেছে। কিন্তু অলির সম্বন্ধে কি উপায়? (অলি কোন প্রবন্ধে তাহাকে লাভ করিবে)? এ নব যৌবন যখন গত হইবে, জ্ঞানদাস কি আর ফিরিয়া পাইবেন?
॥ সিন্ধুড়া॥
হাম ধনী কুলবতী নারী। জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল। মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধব কানে। অব কৈছে ধরব পরাণে॥ ধ্রু॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে। সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়। দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে। কি করব অলিপরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব। জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
টীকা ---
আমি সুন্দরী কূলবতী রমণী, কিন্ত ভুবন ভরিয়া (কুলকলঙ্কিনী বলিয়া) গালি রহিয়া গেল। দুই কুলেই কাঁটা দিলাম। মনোরথ উদিত হইয়াই অস্ত গেল। সই, কানুকে আর কত অনুবোধ করিব। এখন কিরূপে প্রাণ রাখিব। হৃদয়ে বহু সাধ ছিল, কলঙ্কেই সে সমস্তের সমাপ্তি ঘটিল। অনুক্ষণ তো দেখা যায় না, দুর্গ্রহ কি না করায়। মধুভরা ফুল (লাবণ্যে) ঝলমল করিতেছে। কিন্তু অলির সম্বন্ধে কি উপায়? (অলি কোন প্রবন্ধে তাহাকে লাভ করিবে)? এ নব যৌবন যখন গত হইবে, জ্ঞানদাস কি আর ফিরিয়া পাইবেন?
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাম ধনী কুলবতী নারী।
জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল।
মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধ কানে।
অব কৈছে ধরব পরাণে॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে।
সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়।
দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে।
কি করব অলি-পরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব।
জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
টীকা ---
গারি --- কলহ।
উগি আথ গেল --- উদয় করিয়াই অস্ত গেল।
দুরগহ --- দুষ্টগ্রহ।
কুসুম ঝলমল মকরন্দে কি করব অলি-পরবন্ধে --- আমার যৌবন রূপ কুসুম মধুতে ঝলমল করিতেছে, কিন্তু ভ্রমরকে কি করিয়া (পরবন্ধ) আনা যায়?
জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল।
মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধ কানে।
অব কৈছে ধরব পরাণে॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে।
সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়।
দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে।
কি করব অলি-পরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব।
জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
টীকা ---
গারি --- কলহ।
উগি আথ গেল --- উদয় করিয়াই অস্ত গেল।
দুরগহ --- দুষ্টগ্রহ।
কুসুম ঝলমল মকরন্দে কি করব অলি-পরবন্ধে --- আমার যৌবন রূপ কুসুম মধুতে ঝলমল করিতেছে, কিন্তু ভ্রমরকে কি করিয়া (পরবন্ধ) আনা যায়?
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধনে
॥ সিন্ধুড়া॥
হাম ধনী কুলবতী নারী।
জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল।
মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধব কানে।
অব কৈছে ধরব পরাণে॥ ধ্রু॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে।
সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়।
দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে।
কি করব অলিপরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব।
জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাম ধনী কুলবতী নারী।
জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল।
মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধ কানে।
অব কৈছে ধরব পরাণে॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে।
সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়।
দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে।
কি করব অলি-পরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব।
জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
*********************
সখী সম্বোধনে
॥ সিন্ধুড়া॥
হাম ধনী কুলবতী নারী।
জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল।
মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধব কানে।
অব কৈছে ধরব পরাণে॥ ধ্রু॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে।
সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়।
দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে।
কি করব অলিপরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব।
জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাম ধনী কুলবতী নারী।
জগভরি রহি গেল গারি॥
দুহুঁ কুলে কণ্টক দেল।
মনোরথ উগি আথ গেল॥
সই কত অনুরোধ কানে।
অব কৈছে ধরব পরাণে॥
হিয় মাহা ছিল বহু সাধে।
সবে সিদ্ধি ভেল পরিবাদে॥
অনুখণ লখএ না যায়।
দুরগহ কিয়ে না করায়॥
কুসুম ঝলমল মকরন্দে।
কি করব অলি-পরবন্ধে॥
নব যৌবন যব যাব।
জ্ঞানদাস পুন কিয়ে পাব॥
*********************
