কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সই কে বলে গৌরাঙ্গ ভাল
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১৪৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ যথারাগ॥

সই কে বলে গৌরাঙ্গ ভাল।
বাহিরে উহার     সোণার বরণ
ভিতরে কেবল কাল॥
বাহিরে দেখিতে     সরল সুন্দর
কেবল পটের আঁকা।
ভিতর খোজিয়া     দেখেছ কি তার
তিন খানে তিন বাঁকা॥
বাহিরে গোরা     সাধু সুপণ্ডিত
সাত্ত্বিক ভাবেতে ভোর।
ভিতর খোজিলে     দেখিতে পাইবে
ও বড় দারুণ চোর॥
বাহিরে দেখিছ     পুরুষ আকার
সরলই পুরুষ কয়।
প্রকৃতির ভাবে     বিভাবিত দেহ
ভিতর প্রকৃতি ময়॥
বাহিরে দেখিছ     পরের রমণী
না চাহে নয়ান কোণে।
অন্তরে উহার     পরাণ কান্দিছে
সুধু পরনারী গুণে॥
বাহিরে দেখিতে     ব্রাহ্মণ তনয়
ব্রহ্মণ্য ধরয়ে ভূপ।
মোর মনে হয়     প্রাহ্মণ ও নয়
ভিতরে কেবল গোপ॥
গোরা কিসের ভাল সই।
ভালর লক্ষ্মণ     কি আছে এমন
শুন তার গুণ কই॥
রমণীর অঙ্গ     লইয়া দেহ
ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
পাগলের প্রায়     ইতি উতি ধায়
কান্দিয়া কান্দিয়া হাসে॥
আপনে পাগল     বোলে হরি বোল
লোকেরে পাগল করে।
কি পুরুষ নারী     পাছু না বিচারি
পাগল হইয়া মরে॥
জ্ঞান দাসে কয়     ভাবের তরঙ্গ
ভাব কে বুঝিতে পারে।
চৈতন্য ভাবের     ভাবুক নহিলে
আনে কি বুঝিতে পারে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^