কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
পিয়ার পিরিতে জাগি ঘুমায়লুঁ
পিয়ার পিরীতে জাগি ঘুমায়লু
পিয়ার পিরিতে জাগি ঘুমায়লু
পিয়ার পিরীতে জাগি ঘুমায়লুঁ

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৭১৩-নং পদসংখ্যা, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ প্রকারান্তরং যথা।
রসোদ্গারানুরাগঃ।
॥ সুহই॥

পিয়ার পিরিতে     জাগি ঘুমায়লুঁ
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের     অঙ্গের সৌরভ
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের     এমন বিতথা
লোকে না বলিবে কি॥ ধ্রু॥
কেন তোর তনু     হেন বিবরণ
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করিবরে     মথিয়া থুইয়াছে
শিরীষ-কুসুম-মালা॥
কে দিলে যে হের     রঙ্গের নূপুর
কে দিলে এমন হার।
তড়িত জিনিয়া     বরণ বসন
গুপতে আনিলি কার॥
আপাদমস্তক     নাহি পরকাশ
কে দিলে চন্দন চুয়া।
সুরঙ্গ অধরে     রঙ্গ ধরাইয়া
কে দিলে তাম্বুল গুয়া॥
নাসার বেশর     ভালে সে তিলক
কে দিলে এমন ছান্দে।
খঞ্জন-নয়ানে     অঞ্জন রঞ্জিত
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ সুহই॥

পিয়ার পিরিতে,     জাগি ঘুমায়লু,
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের ,    অঙ্গের সৌরভ,
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের,     এমন বিতথা,
লোকে না বলিবে কি॥ ধ্রু
কেনে তোর তনু,     হেন বিবরণ,
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করীবরে,     মথিয়া থুঞাছে,
শিরীষ কুসুম মালা॥
কে দিল হের,     রঙ্গের নূপুর,
কে দিল এমন হার।
তড়িত জিনিয়া,     বরণ বসন,
গুপতে আনিলি কার॥
আপাদ মস্তক,     নাহি পরকাশ,
কে দিলে চন্দন চুয়া।
সুরঙ্গ অধরে,     রঙ্গ ধরাইতে,
কে দিল তাম্বুল গুয়া॥
নাসার বেশর ,    ভালে সে তিলক,
কে দিলে এমন ছান্দে।
খঞ্জন নয়ানে,     অঞ্জন রঞ্জিত,
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন।
সুহই॥

পিয়ার পিরীতে,     জাগি ঘুমায়লু,
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের,     অঙ্গের সৌরভ,
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের,     এমন বিতথা,
লোকে না বলিবে কি॥
কেনে তোর তনু,     হেন বিবরণ,
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করীবরে,     মথিয়া থুঞাছে,
শিরীষ কুসুম মালা॥
কে দিল হের,     রঙ্গের নূপুর,
কে দিল এমন হার।
তড়িত জিনিয়া,     বরণ বসন,
গুপতে আনিলি কার॥
আপাদ মস্তক,     নাহি পরকাশ,
কে দিলে চন্দন চুয়া।
সুরঙ্গ অধরে,     রঙ্গ ধরাইতে,
কে দিল তাম্বুল গুয়া॥
নাসার বেশর,     ভালে সে তিলক,
কে দিল এমন ছান্দে।
খঞ্জন নয়ানে,     অঞ্জন রঞ্জিত,
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ সুহই॥

পিয়ার পিরিতে, জাগি ঘুমায়লু, না
জানি বিহান নিশি। কানুর সঙ্গের, অঙ্গের
সৌরভ, ননদী পাওল আসি॥ ননদী বলে
গা তোল বড়ুয়ার ঝি। সে হেন অঙ্গের,
এমন বিতথা, লোকে না বলিবে কি॥ কেনে
তোর তনু, হেন বিবরণ, মলিন চাঁদের
কলা। মত্ত করীবরে, মথিয়া থুঞাছে, শিরীষ
কুসুম মালা॥ কে দিল হের, রঙ্গের
নূপুর, কে দিল এমন হার। তড়িত
জিনিয়া, বরণ বসন, গুপতে আনিলি কার॥
আপাদ মস্তক, নাহি পরকাশ, কে দিলে
চন্দন চুয়া। সুরঙ্গ অধরে, রঙ্গ ধরাইতে,
কে দিল তাম্বুল গুয়া॥ নাসার বেশর,
ভালে সে তিলক, কে দিলে এমন ছান্দে।
খঞ্জন নয়ানে, অঞ্জন রঞ্জিত, জ্ঞান পড়িল
ধান্দে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধনে
॥ সুহই॥

পিয়ার পিরিতে,     জাগি ঘুমায়লুঁ,
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের,     অঙ্গের সৌরভ,
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা-তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের,     এমন বিতথা,
লোকে না বলিবে কি॥ ধ্রু॥
কেনে তোর তনু,     হেন বিবরণ,
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করীবরে,     মথিয়া থুঞাছে,
শিরীষকুসুম মালা॥
কে দিল হের,     রঙ্গের নূপুর,
কে দিলে এমন হার।
তড়িত জিনিয়া,     বরণ বসন,
গুপতে আনিলি কার॥
আপাদ মস্তক,     নাহি পরকাশ,
কে দিলে চন্দন চুয়া।
সুরঙ্গ অধরে,     রঙ্গ ধরাইতে,
কে দিল তাম্বুল গুয়া॥
নাসার বেশর,     ভালে সে তিলক,
কে দিলে এমন ছান্দে।
খঞ্জন নয়ানে,     অঞ্জন রঞ্জিত,
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৬ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পিয়ার পিরিতে     জাগি ঘুমায়লুঁ
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের     অঙ্গের সৌরভ
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের     এমন বিতথা
লোকে না বলিবে কি॥
কেন তোর তনু     হেন বিবরণ
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করিবরে     মথিয়া থুইয়াছে
শিরীষ কুসুম মালা ॥
কে দিলে যে হের     রঙ্গের নূপুর
কে দিল এমন হার।
তড়িত জিনিয়া     বরণ বসন
গুপতে আনিলি কার ॥
আপাদ মস্তক     নাহি পরকাশ
কে দিল চন্দন চুয়া।
সুরঙ্গ অধরে     রঙ্গ ধরাইয়া
কে দিলে তাম্বুল গুয়া ॥
নাসার বেসর     ভালে সে তিলক
কে দিলে এমন ছান্দে।
খঞ্জন-নয়নে     অঞ্জন রঞ্জিত
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

টীকা ---
বড়ুয়ার ঝি --- বড়লোকের মেয়ে।
বিতথা --- দুর্গতি।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ সুহই॥

পিয়ার পিরিতে,     জাগি ঘুমায়লুঁ,
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের     অঙ্গের সৌরভ
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের     এমন বিতথা
লোকে না বলিবে কি॥
কেনে তোর তনু,     হেন বিবরণ,
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করীবরে,     মথিয়া থুঞাছে,
শিরীষকুসুম-মালা॥
কে দিল হের,     রঙ্গের নূপুর,
কে দিলে এমন হার।
তড়িত জিনিয়া,     বরণ বসন,
গুপতে আনিলি কার॥
আপাদ মস্তক,     নাহি পরকাশ,
কে দিলে চন্দন চুয়া।
সুরঙ্গ অধরে,     রঙ্গ ধরাইতে,
কে দিল তাম্বুল গুয়া॥
নাসার বেশর,     ভালে সে তিলক,
কে দিল এমন ছান্দে।
খঞ্জন নয়ানে,     অঞ্জন রঞ্জিত,
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ, ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পিয়ার পিরীতে     জাগি ঘুমায়লুঁ
না জান বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের     অঙ্গের সৌরভ
ননদী পাওল আসি॥

ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি।
সে হেন অঙ্গের     এমন বিতথা
লোকে না বলিবে কি॥

( জ্ঞানদাস )

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ সুহই॥

পিয়ার পিরিতে     জাগি ঘুমায়লুঁ
না জানি বিহান নিশি।
কানুর সঙ্গের     অঙ্গের সৌরভ
ননদী পাওল আসি॥
ননদী বলে গা তোল বড়ুয়ার ঝি। ১
সে হেন অঙ্গের     এমন বিতথা ২
লোকে না বলিবে কি॥ ধ্রু॥
কেন তোর তনু     হেন বিবরণ
মলিন চাঁদের কলা।
মত্ত করিবরে @    মথিয়া থুইয়াছে
শিরীষ-কুসুম-মালা॥
কে দিলে এ হেন         রঙ্গের নূপুর ৩
কে দিলে এমন হার।
তড়িত জিনিয়া     বরণ বসন
গুপতে আনিলি কার॥
আপাদ মস্তক     নাহি পরকাশ
কে দিলে চন্দন চুয়া। ৪
সুরঙ্গ অধরে     রঙ্গ ধরাইয়া
কে দিলে তাম্বুল গুয়া॥
নাসার বেশর    ভালে সে তিলক
কে দিলে এমন ছান্দে।
খঞ্জন-নয়ানে     অঞ্জন রঞ্জিত
জ্ঞান পড়িল ধান্দে॥

টীকা--- পিয়ার পিরীতে (নিশি) জাগিয়া (প্রভাতে) ঘুমাইলাম। জানি নাই যে রাত্রি প্রভাত হইয়াছে। ননদী আসিয়া কানুসঙ্গজনিত অঙ্গ-সৌরভ পাইল। ননদী বলিল, ওগো, বড়ুয়ার ঝি গা তোল, (তোমার) সে হেন দেহের এমন (বিপর্যয়) দশা কে করিল? কেন তোমার দেহ এমন বিবর্ণ, যেন চাঁদের কলা মলিন হইয়াছে! সুকোমল শিরীষ কুসুমের মালা যেন মত্ত হস্তী মথিয়া রাখিয়াছে। এমন রঙ্গের নূপুর, এমন হার কে দিয়াছে? এমন বিদ্যুৎ-বিনিন্দিত-বর্ণ কাহার বসন লুকাইয়া আনিয়াছিস? আপাদমস্তক আবৃত করিয়া কে চন্দন-চুয়া-চর্চিত করিয়াছে? তোর স্বভাবত রক্তিম অধরে যেন তাম্বুল-রাগ যোগ করিয়া কে উহার রংকে গাঢ়তর করিয়াছে? নাসার বেসর ও ললাটের তিলক এমন ছান্দে কে পরাইয়াছে? তোর খঞ্জন-নয়ানে কে কাজল আঁকিয়া দিল? জ্ঞানদাস ধান্দায় পড়িলেন।

১ - বড় ঘরের মেয়ে - শ্লেষোক্তি!
২ - বিশ্রস্ত, অবিন্যস্ত অবস্থা।
৩ - নুপুর, হার ও পীত বসন---নায়কের বেশভূষা---নায়িকার অঙ্গে স্থানান্তরিত হইয়াছে।
৪ - নায়কের দেহবিন্যস্ত চুয়া-চন্দন প্রচুর পরিমাণে নায়িকার দেহে লিপ্ত হইয়া তাহার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আবৃত---একাকার করিয়া দিয়াছে। প্রেমের রক্তিমাভা স্বভাবত রক্তবর্ণ অধরকে তাম্বুলরাগরঞ্জিত রূপে প্রতিভাত করিতেছে।
@ - "মত্ত করিবর" শব্দটি মত্ত হস্তি রূপে রয়েছে। করী অর্থাৎ গজ বা হাতি। তাই এখানে করিবর শব্দটি হস্তিবর হিসেবে ধরা হয়েছে। করি-কর শব্দের এর অর্থ হলো হাতির শুঁড়।
---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^