কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আমি সুজন দেখিয়া পিরীতি করিনু
কবি জ্ঞানদাস
আশ্বিন ১৩১৩ বঙ্গাব্দে (১৯০৬ সালে) “জাহ্নবী” পত্রিকার ২য় বর্ষ, ৬ষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত, জগদীশ্বর রায়ের "বৈষ্ণব কবি জ্ঞানদাসের একটী পদ" প্রবন্ধে ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের আগে লেখক খুব সুন্দরভাবে লিখেছেন . . .

"এ পর্যন্ত প্রকাশিত কোন সংগ্রহ-পুস্তকে পদটী দেখিয়াছি বলিয়া মনে হয় না। মাধবের মধুর লীলা-কীর্ত্তনানুরক্ত জনৈক বন্ধুর নিকট হইতে পদটী সংগৃহীত। বাঙ্গলার বৈষ্ণব-কবিগণের পদাবলী বাঙ্গালার নিজন্ব সম্পত্তি। ঐ সকল পদাবলীর একটী মাত্র পদেরও বিলোপ হইলে বাঙ্গালীর তথা বঙ্গসাহিত্যের ক্ষতি। সুতরাং বিস্মৃতির অন্ধকারময় কক্ষ হইতে উদ্ধৃত করিয়া সাহিত্যের সিংহাসনে ইহাদের স্থায়ী আসন নির্দ্দেশ করা প্রত্যেক বাঙ্গালীর কর্ত্তব্য ; এবং তজ্জন্যই রসভাব প্রভৃতির বিচারভার পাঠকসাধারণের উপর অর্পণ করিয়া পদটী যথাযথ উদ্ধৃত করিলাম"---

আমি সুজন দেখিয়া পিরীতি করিনু
      কুজন করিল কে।
যেমত জ্বলিছে রাধার অন্তর
      তেমতি জ্বলুক সে॥
সই সে কেন এমন হৈল।
কঠিন গাধিনী তনয়া কি গুণে
      তারে উদাসীন কৈল॥
আমি কামসাগরে কামনা করিয়া
      পূরাব মনের সাধা।
মরিয়া হইব শ্রীনন্দনন্দন
      বঁধুরে করিব রাধা॥
পিরীতি করিয়া ছাড়িয়া যাইব
      রহিব কদম্বতলে।
ত্রিভঙ্গ হইয়া বাঁশীটী বাজাব
      যখন যাইবে জলে॥
বাঁশীটী শুনিয়া উতলা হইবে
      সহজে কুলের বালা।
জ্ঞানদাস বলে তবে সে বুঝিবে
      পিরীতি কেমন জ্বালা॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^