কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৭৩৬- নং পদসংখ্যা, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দিনানন্তরে
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥ এক
দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই। রূপে গুণে
রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥ দণ্ডে প্রহরে
দিনে মাসেক বরিখে। যুগ মন্বন্তরে কত
কলপে না দেখে॥ দেখিলে মানয়ে যেন
কভু দেখি নাই। পদ্ম শঙ্খ আদি কত
মহানিধি পাই॥ জ্ঞানদাস বলে ভাল
মনে থাক। এড়াইতে নারিলা ঠেকিল
বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধনে
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৫ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অস্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
টীকা ---
দেখিলে মানয়ে যেন ইত্যাদি --- আমাকে দেখিতে পাইলে তাহার মনে হয় যেন কতদিন দেখে নাই বা কখনও না দেখার মতন নূতন বিস্ময়ে দেখে এবং পদ্মশঙ্খ সংখ্যক মহারত্ন পাইল মনে করে।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধনে।
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিলে না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল ভাল মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত-সম্ভোগ, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিলে না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক-দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
টীকা---
বন্ধুব রসের কথা তোমাকে কি বলিব। আমার মনের আনন্দ কথায় ব্যক্ত করিবাব নয়। এক, দুই করিয়া গণনায় অন্ত পাই না। রূপে, গুণে, রসে, প্রেমে এতই আরতি বাড়াইরাছে। দণ্ড, প্রহর, দিন, মাস, বৎসর, কত যুগ-মন্বন্তর, কল্প ধরিয়াই না দেখিতেছে, তথাপি দেখিলেই মনে করে কখনো দেখি নাই। (আামাকে দেখিয়া) যেন পদ্ম-শঙ্খ আদি সংখ্যায় কত মহারত্ন প্রাপ্ত হয় (আমাকে দেখিলে অগণিত মহারত্ন-লাভের অধিক বলিয়া মনে করে)। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, ভাল, মনের কথা মনেই থাকুক। বিষম পাকে ঠেকিয়াছ, এড়াইতে পারিলে না।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিলা না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
*********************
দিনানন্তরে
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন।
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সম্ভোগ মিলন
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥ এক
দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই। রূপে গুণে
রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥ দণ্ডে প্রহরে
দিনে মাসেক বরিখে। যুগ মন্বন্তরে কত
কলপে না দেখে॥ দেখিলে মানয়ে যেন
কভু দেখি নাই। পদ্ম শঙ্খ আদি কত
মহানিধি পাই॥ জ্ঞানদাস বলে ভাল
মনে থাক। এড়াইতে নারিলা ঠেকিল
বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধনে
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৫ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অস্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
টীকা ---
দেখিলে মানয়ে যেন ইত্যাদি --- আমাকে দেখিতে পাইলে তাহার মনে হয় যেন কতদিন দেখে নাই বা কখনও না দেখার মতন নূতন বিস্ময়ে দেখে এবং পদ্মশঙ্খ সংখ্যক মহারত্ন পাইল মনে করে।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধনে।
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিলে না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল ভাল মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রসোদ্গার, সংক্ষিপ্ত-সম্ভোগ, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভূপালী॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিলে না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেক বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
রসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিল না হোয়॥
এক-দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
টীকা---
বন্ধুব রসের কথা তোমাকে কি বলিব। আমার মনের আনন্দ কথায় ব্যক্ত করিবাব নয়। এক, দুই করিয়া গণনায় অন্ত পাই না। রূপে, গুণে, রসে, প্রেমে এতই আরতি বাড়াইরাছে। দণ্ড, প্রহর, দিন, মাস, বৎসর, কত যুগ-মন্বন্তর, কল্প ধরিয়াই না দেখিতেছে, তথাপি দেখিলেই মনে করে কখনো দেখি নাই। (আামাকে দেখিয়া) যেন পদ্ম-শঙ্খ আদি সংখ্যায় কত মহারত্ন প্রাপ্ত হয় (আমাকে দেখিলে অগণিত মহারত্ন-লাভের অধিক বলিয়া মনে করে)। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, ভাল, মনের কথা মনেই থাকুক। বিষম পাকে ঠেকিয়াছ, এড়াইতে পারিলে না।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বন্ধুর রসের কথা কি কহব তোয়।
মনের উল্লাস যত কহিলা না হোয়॥
এক দুই গণনাতে অন্ত নাহি পাই।
রূপে গুণে রসে প্রেমে আরতি বাঢ়াই॥
দণ্ডে প্রহরে দিনে মাসেকে বরিখে।
যুগ মন্বন্তরে কত কলপে না দেখে॥
দেখিলে মানয়ে যেন কভু দেখি নাই।
পদ্ম শঙ্খ আদি কত মহানিধি পাই॥
জ্ঞানদাস বলে ভাল মনে মনে থাক।
এড়াইতে নারিলা ঠেকিলা বিষম পাক॥
*********************
