কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সজনি ও কথা কহিল নয়
সজনি ও কথা কখন নয়

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৭৩৮- নং পদসংখ্যা, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সজনি ও কথা কহিল নয়।
শ্যাম সুনাগর     গুণের সাগর
পড়িলুঁ কোরে ঘুমায়॥ ধ্রু॥
কত পরকারে     চেতন করায়
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি     পাশ মোড়ি ফেরি
দুখে ত চলল ভোর॥
উঠিলুঁ জাগিয়া     দেখি নাহি পিয়া
হৃদয়ে বাজিল শেল।
আহা মরি মরি     মদন-বাণেতে
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি     চিত বেয়াকুল
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে     এ কথা শুনিতে
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ সুহই॥

সজনি ও কথা কখন নয়।
শ্যাম সুনাগর,     গুণের সাগর,
পড়িনু কোরে ঘুমায়॥ ধ্রু
কত পরকারে,     চেতন করয়ে,
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি,     পাশ মোড়ি রহি,
দুঃখেতে চলল ভোর॥
উঠিনু জাগিয়া,     দেখি নাই পিয়া,
হৃদয়ে বাজয়ে শেল।
আহা মরি মরি,     মদন বাণেতে,
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি,     চিত বেয়াকুল,
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে,     এ কথা শুনিতে,
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন।
॥ সুহই॥

সজনি ও কথা কখন নয়।
শ্যাম সুনাগর,     গুণের সাগর,
পড়িনু কোরে ঘুমায়॥
কত পরকারে,     চেতন করয়ে,
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি,     পাশ মোড়ি রহি,
দুঃখেতে চলল ভোর॥
উঠিনু জাগিয়া,     দেখি নাই পিয়া,
হৃদয়ে বাজয়ে শেল।
আহা মরি মরি,     মদন বাণেতে,
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি,     চিত বেয়াকুল,
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে,     এ কথা শুনিতে,
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ সুহই॥

সজনি ও কথা কখন নয়। শ্যাম
সুনাগর, গুণের সাগর, পড়িনু কোরে
ঘুমায়॥ কত পরকারে, চেতন করয়ে,
চেতন না ভেল মোর। অভিমান করি,
পাশ মোড়ি রহি, দুঃখেতে চলল ভোর॥
উঠিনু জাগিয়া, দেখি নাই পিয়া, হৃদয়ে
বাজয়ে শেল। আহা মরি মরি, মদন
বাণেতে, জর জর ভৈ গেল॥ সে সব
সোঙরি, চিত বেয়াকুল, কেমনে আছয়ে
পিয়া। জ্ঞানদাস কহে, এ কথা শুনিতে,
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধনে
॥ সুহই॥

সজনি, ও কথা কখন নয়।
শ্যাম সুনাগর,     গুণের সাগর,
পড়িনু কোরে ঘুমায়॥
কত পরকারে,     চেতন করয়ে,
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি,     পাশ-মোড়ি রহি,
দুঃখেতে চলল ভোর॥
উঠিনু জাগিয়া,     দেখি নাই পিয়া,
হৃদয়ে বাজয়ে শেল।
আহা মরি মরি,     মদন-বাণেতে,
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি,     চিত বেয়াকুল,
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে,     এ কথা শুনিতে,
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১৫১ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি ও কথা কহিল নয়।
শ্যাম সুনাগর গুণের সাগর পড়িনু কোরে ঘুমায়॥ ধ্রু॥
কত পরকারে চেতন করায় চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি পাশ মোড়ি ফিরি দুখেতে চলল ভোর॥
উঠিনু জাগিয়া দেখি নাহি পিয়া হৃদয়ে বাজিল শেল।
আহা মরি মরি মদন বাণেতে জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি বিভবে আকুল কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে একথা শুনিতে বিদরয়ে মোর হিয়া॥

টীকা---
পূর্ব্বের পদের প্রশ্নের উত্তরে রাধা বলিতেছেন যে ওসব কিছু নয়, যাহা ঘটিয়াছে তাহা বলা যায় না। আমি শ্যামের কোলে ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলাম, সে আমাকে জাগাইতে অনেক চেষ্টা করিল, কিন্তু আমার ঘুম ভাঙ্গিল না। তাই সে অভিমান করিয়া পাশ ফিরিয়া দুঃখভরে বিহ্বল হইয়া চলিয়া গেল। আমি ঘুম ভাঙ্গিয়া যখন দেখিলাম দয়িত শয্যায় নাই, তখন আমার হৃদয়ে শেল বাজিল।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ সুহই॥

সজনি, ও কথা কখন নয়।
শ্যাম সুনাগর     গুণের সাগর
পড়িনু কোরে ঘুমায়॥
কত পরকারে     চেতন করয়ে
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি     পাশ মোড়ি রহি
দুঃখেতে চলল ভোর॥
উঠিনু জাগিয়া     দেখি নাই পিয়া
হৃদয়ে বাজয়ে শেল।
আহা মরি মরি     মদন বাণেতে
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি     চিত বেয়াকুল
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে     এ কথা শুনিতে
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ সুহই॥

সজনি ও কথা কহিল নয়।
শ্যাম সুনাগর     গুণের সাগর
পড়িলুঁ কোরে ঘুমায়॥ ধ্রু॥
কত পরকারে     চেতন করায়
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি     পাশ মোড়ি ফেরি
দুখেতে চলল ভোর॥
উঠিলুঁ জাগিয়া     দেখি নাহি পিয়া
হৃদয়ে বাজিল শেল।
আহা মরি মরি     মদনবাণেতে
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি     চিত বেয়াকুল
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে     এ কথা শুনিতে
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ সুহই॥

সজনি ও কথা কহিল নয়।
শ্যাম সুনাগর     গুণের সাগর
পড়িলুঁ কোরে ঘুমায়॥ ধ্রু॥
কত পরকারে     চেতন করায়
চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি     পাশ মোড়ি ফেরি
দুখে ত চলল ভোর॥
উঠিলুঁ জাগিয়া     দেখি নাহি পিয়া
হৃদয়ে বাজিল শেল।
আহা মরি মরি     মদন-বাণেতে
জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি     চিত বেয়াকুল
কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে     এ কথা শুনিতে
বিদরয়ে মোর হিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি ও কথা কহিল নয়।
শ্যাম সুনাগর গুণের সাগর
      পড়িলুঁ কোরে ঘুমায়॥
কত পরকারে চেতন করায়
      চেতন না ভেল মোর।
অভিমান করি পাশ মোড়ি ফেরি
      দুখেতে চলল ভোর॥
উঠিলুঁ জাগিয়া দেখি নাহি পিয়া
      হৃদয়ে বাজিল সেল।
আহা মরি মরি মদনবাণেতে
      জর জর ভৈ গেল॥
সে সব সোঙরি চিত বেয়াকুল
      কেমনে আছয়ে পিয়া।
জ্ঞানদাস কহে এ কথা শুনিতে
      বিদরয়ে মোর হিয়া॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^