কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর
রূপ লাগি আখি ঝুরে গুণে মন ভোর

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ২৪৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথানু রাগঃ॥
॥ বরাড়ি রাগ প্রতি নিষ্পারক তালেন॥

  রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর। প্রতি অঙ্গ
লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥ হিয়ার পরশ লাগি হিয়া
মোর কান্দে। পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সোই কি আর বলিব। যে পুনি করিয়াছি মনে সেই সে
করিব॥ ধ্রু॥ দেখিতে যে সুখ কি বলিব তা। দরশ পরশ
লাগি আলুয়াছে গা॥ হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু
ধার। লহু ২ হাসে পঁহু পিরিতির সার॥ গুরু গরবিত
মাঝে রহি সখি সঙ্গে। পুলকে পুরল তনু শ্যাম পর সঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার। নয়ানের ধারা মোর
বহে অনিবার॥ ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি। জ্ঞান
শুন লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৮ম পল্লব, অনুরাগে কুণ্ডে মিলন, ৭৪৮-নং পদসংখ্যা, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সোই কি আর বলিব।
যে পুনি করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহু পিরিতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংকলন” এর ৮৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে, গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সোই কি আর বলিব।
যে পণি করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পঁহু পিরীতের সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখীসঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়ানের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কানাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ---সখী সম্বোধনে।
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণি করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পার যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু ধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পর সঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণি করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পার যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু ধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পর সঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব। যে পণি করিয়াছি
মনে সেই সে করিব॥ রূপ দেখি হিয়ার
আরতি নাহি টুটে। বল কি বলিতে পার
যত মনে উঠে॥ দেখিতে যে সুখ উঠে
কি বলিব তা। দরশ পরশ লাগি আউ-
লাইছে গা॥ হাসিতে খসিয়া পড়ে কত
মধু ধার। লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির
সার॥ গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পর সঙ্গে॥ পুলক
ঢাকিতে করি কত পরকার। নয়নের ধারা
মোর বহে অনিবার॥ ঘরের যতেক সবে
করে কাণাকাণি। জ্ঞান কহে লাজ ঘরে
ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতিঅঙ্গ লাগি কান্দে প্রতিঅঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই, কি আর বলিব।
যে পণি করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পার যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির সার॥
গুরু-গরবিত-মাঝে রহি সখীসঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ-ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৫২০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ ভূপালী - দশকুশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পুতলি মোর থির নাহি বান্ধে॥
কি আর বলিব আমি কি আর বলিব।
যে পণ করেছি আমি সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতের সার॥
গুরু গরবিত মাঝে বসি সখী সঙ্গে।
পুলকে পুরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক লোক করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পুনি করিয়াছি মনে সেই যে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু ধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরিতের সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখি সঙ্গে।
পুলকে পুরল তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়ানের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি।
জ্ঞান শুন লাজঘরে ভেজাইলাম আগুণি॥

টীকা ---
শ্রীরাধা বলিতেছেন --- শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ তাঁহাকে এমন করিয়াছে যে রূপের জন্য তাঁহার নয়ন হইতে অশ্রু বাহির হয়, আর গুণে মন বিহ্বল হয়। তাহার প্রত্যেক অঙ্গের জন্য আমার প্রত্যেক অঙ্গ কাঁদিতে থাকে এবং আমার প্রাণ প্রেমের জন্য ধৈর্য্য ধরিতে পারে না। সখি ! আর কি বলিব। যে কথা মনে ফের (পুনি) ভাবিয়াছি তাহাই করিব।
লহু লহু হাসে পহু পিরিতের সার --- সেই প্রভু আমার যেন প্রেমের নির্য্যাস স্বরূপ মন্দ মন্দ স্মিতহাস্য করেন।
পুলক ঢাকিতে করি ইত্যাদি --- শ্যামের প্রসঙ্গ উঠিলেই দেহ পুলকে পূর্ণ হয়। লোকের সামনে সেই পুলক ঢাকিতে কত চেষ্টা করি, কিন্তু আমার চোখ দিয়া যে ক্রমাগত জল পড়িতে থাকে তাহাতেই সব ধরা পড়ে।
লাজঘরে ভেজাইলাম আগুনি --- লজ্জার ঘরে আগুন দিলাম।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতিঅঙ্গ লাগি কান্দে প্রতিঅঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণি করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পার যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতের সার॥
গুরু-গরবিত-মাঝে রহি সখীসঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ-ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১০২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ রূপানুরাগ
বংশী ধ্বনি শুনিয়া
॥ রাগিণী ভীমপলশ্রী - তাল মধ্যম দশকুশী অথবা মধ্যম একতালী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মম ভোর। প্রতি অঙ্গ লাগি
কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥ হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি স্থির নাহি বান্ধে॥ কি আর বলিব সই
কি আর বলিব। যে পণ করেছি চিতে সেই যে করিব॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তায়। দরশ পরশ লাগি
আউলাইছে গা॥ হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার। লহু
লহু কহে কথা পিরীতির সার॥ গুরু গরবিত মাঝে বসি নানা
রঙ্গে। পুলকে পূরিয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥ পুলক ঢাকিতে
করি কত পরকার। নয়ানের ধারা মোর বহে অনিবার॥ ঘরের
সকল লোক করে কানাকানি। জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাও আগুনি॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৫৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পূর্ব্বরাগ খণ্ড
॥ ভুপালী মিশ্র রাগিণী - মধ্যম দশকুসী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পুনি করিয়াছি মনে সেই যে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহু পীরিতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ-ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পূর্বরাগ ও অনুরাগ, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই, কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই যে করিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পারি যত মন উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু-ধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির সার॥
গুরু-গরবিত মাঝে রহি সখী-সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজ-ঘরে ভেজাই আগুনি॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১৬১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ।
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতিঅঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
কি বলিব সই কি আর বলিব।
যে পণি করেছি মনে সেই সে করিব॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু ধার।
লহু লহু হাসে পহু পিরীতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি নানা রঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে কত করি পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের সকল লোক করে কাণা কাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাই আগুনি॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, প্রেমবৈচিত্র্য, ১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই, কি আর বলিব।
যে পণি করিয়াছি মনে সেই সে বলিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পার যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু ধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতের সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখীসঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে পরে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, গোবিন্দলীলামৃত, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥

হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥

সোই কি আর বলিব।
যে পণ করিয়াছি মনে সেই সে করিব॥

দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥

হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির সার॥

গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥

পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥

ঘরের যতেক সবে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুণি॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রূপানুরাগ, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই রাগ॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
কি আর বলিব সোই কি আর বলিব।
যে পণি কব়্যাছি চিতে সেই সে করিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পার যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু-ধার।
লহু লহু কহে কথা পিরিতের সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়ানের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজ ঘরে ভেজাইলাম আগুণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে বন্ধু পিরীতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৪০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পূর্ব্বরাগ ও অনুরাগ

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই, কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বল কি বলিতে পারি যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধু-ধার।
লহু লহু হাসে পহুঁ পিরীতির সার॥
গুরু-গরবিত মাঝে রহি সখী-সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সবে করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজ-ঘরে ভেজাই আগুনি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে বন্ধু পিরিতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পুরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজ-ঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেমনিমগ্না

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কাঁদে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বাঁধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পুনি কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ-পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহুলহু হাসে পহু পীরিতির সার॥
গুরুগরবিত-মাঝে রহি সখীরঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজালুঁ আগুনি॥

ই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ৯০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
রূপ দেখি হিয়ার আরতি নাহি টুটে।
বলো কি বলিতে পারি যত মনে উঠে॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে বন্ধু পিরীতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম-পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজাই আগুনি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ১০২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই, কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহ পিরিতির সার॥
গুরুগরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যামপরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৩৭৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই, কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহ পিরিতের সার॥
গুরুগরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যামপরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব আমি কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥ ধ্রু॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে পহু পিরিতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পুরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকাণি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজাইলুঁ আগুনি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর॥
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে॥
সই কি আর বলিব।
যে পণ কব়্যাছি মনে সেই সে করিব॥
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা॥
হাসিতে খসিয়া পড়ে কত মধুধার।
লহু লহু হাসে বন্ধু পিরীতির সার॥
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখী সঙ্গে।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে॥
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার॥
ঘরের যতেক সভে করে কাণাকানি।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভেজাইলাম আগুনি॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^