কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৮ম পল্লব, অনুরাগে কুণ্ডে মিলন, ৭৫২-নং পদসংখ্যা, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
কানু-অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজন-নয়ন-পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখী নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরিতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সভার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনি কৌমুদি ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহুঁ কহই করু বেশ বনান।
ধনি অনুরাগিণি জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---সখী সম্বোধনে।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি। কেমনে
মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥ কানুর
পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব। রহিতে
না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥ শুনি কহে
সব সখী শুন মো সবার বোল। সবহুঁ
ঘুমায়ব নহ উতরোল॥ যৈছনে যামিনী
কামিনী ঘোর। তৈছনে বেশ বনায়ব
তোর॥ এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনী অনুরাগিণী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অভিসার, ১৩৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজন-নয়ন-পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরিতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সভার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনি কৌমুদি ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহুঁ কহই করু বেশ বনান।
ধনি অনুরাগিনি জ্ঞানদাস ভান॥
টীকা---
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি ইত্যাদি --- শুক্লপক্ষের উজ্জ্বল রাত্রি, ইহার মধ্যে গুরুজনদের নয়নরূপ পাপগণকে লুকাইয়া (বারি --- বারণ করিয়া) কেমন করিয়া কানুর সহিত মিলিব?
ঘুমায়ব --- নিদ্রা যাইবে
নব উতরোল --- উতলা হইও না
তৈছন বেশ বনায়ব তোর --- শুক্লাভিসারিকার বেশ শুভ্র হয়, সাদায় সাদা মিলিয়া যায়, লোকে লক্ষ্য করিতে পারে না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাল॥
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১১৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীমতী রাধার আক্ষেপ অনুরাগ
প্রিয় সখীর হিতোপদেশ শ্রবণ করিয়া শ্রীমতী দুঃখ করিয়া বলিতেছেন যে সখী
॥ রাগিণী ধানশী - তাল দাশপাহিড়া॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি। কেমনে দেখিব
তারে কহনা বিচারি॥ গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি। কেমনে
মিলিব সখী নিশি উজিয়ারি॥ কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে
নারিব। রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥ শুনি কহে সব
সখী শুন মোদের বোল। সবহুঁ ঘুমায়র নহ উতরোল॥ যৈছন
যামিনী কাহিনী ঘোর। তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥ এতহি
কহই করু বেশ বনান। ধনী অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১৮৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ
(প্রকারান্তর)
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারী॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনী কৌমুদি ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহি কহই করু বেশ বনান।
ধনী অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভান॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, অভিসারিকা, ২৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
[শ্রীরাধার অভিসার]
[পুনশ্চ দিনান্তে]
॥ ধানশী॥
কানু-অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজ-নয়ন-পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কৌমুদি ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাল॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রূপানুরাগ।
॥ ধানশী - জপতাল॥
কানু-অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন-নয়ন-পাপজন বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরিতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনী কৌমুদী ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহুঁ কহই করু বেশ বনান।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভান॥
*********************
॥ ধানশী॥
কানু-অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজন-নয়ন-পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখী নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরিতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সভার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনি কৌমুদি ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহুঁ কহই করু বেশ বনান।
ধনি অনুরাগিণি জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---সখী সম্বোধনে।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি। কেমনে
মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥ কানুর
পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব। রহিতে
না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥ শুনি কহে
সব সখী শুন মো সবার বোল। সবহুঁ
ঘুমায়ব নহ উতরোল॥ যৈছনে যামিনী
কামিনী ঘোর। তৈছনে বেশ বনায়ব
তোর॥ এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনী অনুরাগিণী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অভিসার, ১৩৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজন-নয়ন-পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরিতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সভার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনি কৌমুদি ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহুঁ কহই করু বেশ বনান।
ধনি অনুরাগিনি জ্ঞানদাস ভান॥
টীকা---
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি ইত্যাদি --- শুক্লপক্ষের উজ্জ্বল রাত্রি, ইহার মধ্যে গুরুজনদের নয়নরূপ পাপগণকে লুকাইয়া (বারি --- বারণ করিয়া) কেমন করিয়া কানুর সহিত মিলিব?
ঘুমায়ব --- নিদ্রা যাইবে
নব উতরোল --- উতলা হইও না
তৈছন বেশ বনায়ব তোর --- শুক্লাভিসারিকার বেশ শুভ্র হয়, সাদায় সাদা মিলিয়া যায়, লোকে লক্ষ্য করিতে পারে না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কামিনী ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাল॥
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১১৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীমতী রাধার আক্ষেপ অনুরাগ
প্রিয় সখীর হিতোপদেশ শ্রবণ করিয়া শ্রীমতী দুঃখ করিয়া বলিতেছেন যে সখী
॥ রাগিণী ধানশী - তাল দাশপাহিড়া॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি। কেমনে দেখিব
তারে কহনা বিচারি॥ গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি। কেমনে
মিলিব সখী নিশি উজিয়ারি॥ কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে
নারিব। রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥ শুনি কহে সব
সখী শুন মোদের বোল। সবহুঁ ঘুমায়র নহ উতরোল॥ যৈছন
যামিনী কাহিনী ঘোর। তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥ এতহি
কহই করু বেশ বনান। ধনী অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাণ॥
এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১৮৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ
(প্রকারান্তর)
॥ ধানশী॥
কানু অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজন নয়ন পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারী॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনী কৌমুদি ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহি কহই করু বেশ বনান।
ধনী অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভান॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, অভিসারিকা, ২৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
[শ্রীরাধার অভিসার]
[পুনশ্চ দিনান্তে]
॥ ধানশী॥
কানু-অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহ না বিচারি॥
গুরুজ-নয়ন-পাপগণ বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরীতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সব সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছনে যামিনী কৌমুদি ঘোর।
তৈছনে বেশ বনায়ব তোর॥
এতহিঁ কহই করু বেশ রসাল।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভাল॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রূপানুরাগ।
॥ ধানশী - জপতাল॥
কানু-অনুরাগে ঘরে রহিতে না পারি।
কেমনে দেখিব তারে কহনা বিচারি॥
গুরুজন-নয়ন-পাপজন বারি।
কেমনে মিলিব সখি নিশি উজিয়ারি॥
কানুর পিরিতি হাম ছাড়িতে নারিব।
রহিতে না পারি ঘরে কেমনে যাইব॥
শুনি কহে সখী শুন মো সবার বোল।
সবহুঁ ঘুমায়ব নহ উতরোল॥
যৈছন যামিনী কৌমুদী ঘোর।
তৈছন বেশ বনায়ব তোর॥
এতহুঁ কহই করু বেশ বনান।
ধনি অনুরাগিনী জ্ঞানদাস ভান॥
*********************
