কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সুন্দরি আমারে কহিছ কি
সুন্দরি আমারে বলিছ কি
সুন্দরী, আমারে কহিছ কি?

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৮ম পল্লব, অনুরাগে কুণ্ডে মিলন, ৭৫৬- নং পদসংখ্যা, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোধা ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরিতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিগ-গণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥


ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, গ্রন্থের ১০৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থটির আমাদের সংগ্রহের পি.ডি.এফ. কপিটির প্রায় সব পৃষ্ঠাই অপাঠ্য অথবা দুষ্পাঠ্য।

॥ যথারাগ॥ সুন্দরি আমারে বলিছ কি। তোমার লাগিয়ে
ভাবিয়ে ২ বিকল হইয়াছি॥ স্থির নহে মন সদা উচাটন স্বাস্থ্য
নাহিক পাই। গগনে ভুবনে দিগ ২ গণে সদাই দেখিয়ে রাই॥
শুন বিনোদিনী প্রেমের কাহিনী পরাণের বান্ধা। একই
পরাণ দেহ ভিন ২ জ্ঞানদাসে লাগে ধান্ধা॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ তিরোতা--ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি,   ভাবিতে ভাবিতে,
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন,
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে,     দশ দিশ গণে,
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া,     বেড়াই ভ্রমিয়া,
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে,     আন নাহি চিতে,
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি,     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ,     দেহ ভিন ভিন,
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত।
॥ তিরোতা-ধানশী॥
(কৃষ্ণের উক্তি।)

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি,   ভাবিতে ভাবিতে,
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন,     সদা উচাটন,
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে,     দশ দিশ গণে,
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া,     বেড়াই ভ্রমিয়া,
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে,     আন নাহি চিতে,
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি,     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ,     দেহ ভিন ভিন,
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্র্য।
॥ তিরোতা--ধানশী॥

(কৃষ্ণের উক্তি।) সুন্দরি আমারে
কহিছ কি। তোমার পিরীতি, ভাবিতে
ভাবিতে, বিভোর হইয়াছি॥ থির নহে
মন, সদা উচাটন, সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে, দশ দিশ গণে, তোমারে
দেখিতে পাই॥ তোমার লাগিয়া, বেড়াই
ভ্রমিয়া, গিরি নদী বনে বনে। খাইতে
শুইতে, আন নাহি চিতে, সদাই জাগয়ে
মনে॥ শুন বিনোদিনি, প্রেমের কাহিনী,
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা। একই পরাণ,
দেহ ভিন ভিন, জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের দৌত্য।
॥ তিরোতা--ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি,   ভাবিতে ভাবিতে,
বিভোর হইয়াছি॥
স্থির নহে মন,     সদা উচাটন,
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে,     দশ দিশগণে,
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া,     বেড়াই ভ্রমিয়া,
গিরি-নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে,     আন নাহি চিতে,
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি,     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ,     দেহ ভিন ভিন,
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৫৯৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন
॥ তিরোথা ধানশী - ঝুজ্ঝুটি তাল॥

সুন্দরী আমারে কহিছ কি।
তোমার পীরিতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াস্ত নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশদিগ গণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্র @
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুধু বিনোদিনী     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ভ্র @ - ভ্রমিয়া হবে। গ্রন্থে অপাঠ্য শব্দ।

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

সুন্দরী আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরিতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিক গনে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুধু বিনোদিনী     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণ দশদিকে আকাশ ও ভুবনের সর্ব্বত্র শ্রীরাধাকে দেখিতে পান। কিন্তু বাহিরে দেখিবার প্রয়োজনই বা কি? উভয়ের তো একই প্রাণ, শুধু দেহ ভিন্ন ভিন্ন।

ইই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের দৈত্য।
॥ ধানশী॥

সুন্দরি, আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
স্থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিশগণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনী     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, অভিসারিকা, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[শ্রীকৃষ্ণের উক্তি]

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়া আছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিশ গণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ ((মুরলী প্রতি), ৩৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোধা ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিগ পানে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, নিকুঞ্জ-মিলন, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিশ গণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৪১৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন
॥ শ্রীরাগ - দুঠুকী॥

সুন্দরি, আমারে কহিছ কি।
তোমার পীরিতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিক গণে
তোমারে দেখি সদাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুধু বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুন্দরী, আমারে কহিছ কি?
তোমার পীরিতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥

থির নহে মন---     সদা উচাটন---
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশদিগগণে
তোমারে দেখি সদাই॥

তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি-নদী-বনে-বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে,
সদাই জাগয়ে মনে॥

শুন বিনোদিনী,     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ,     দেহ ভিন ভিন,
জ্ঞান কহে--- গেল ধান্দা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ তিরোধা ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিগগণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ গৌরী - ডাঁশপাহিড়া॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরিতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াস্ত নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিক-গণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনী     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রইয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ তিরোধা ধানশী॥

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে     দশ দিগগণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনি     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ১৭৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি   ভাবিতে ভাবিতে
বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন     সদা উচাটন
সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে-ভুবনে     দশ দিগগণে
তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া     বেড়াই ভ্রমিয়া
গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে     আন নাহি চিতে
সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনী     প্রেমের কাহিনী
পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ     দেহ ভিন ভিন
জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুন্দরি আমারে কহিছ কি।
তোমার পিরীতি ভাবিতে ভাবিতে
      বিভোর হইয়াছি॥
থির নহে মন সদা উচাটন
      সোয়াথ নাহিক পাই।
গগনে ভুবনে দশ দিগগণে
      তোমারে দেখিতে পাই॥
তোমার লাগিয়া বেড়াই ভ্রমিয়া
      গিরি নদী বনে বনে।
খাইতে শুইতে আন নাহি চিতে
      সদাই জাগয়ে মনে॥
শুন বিনোদিনী প্রেমের কাহিনী
      পরাণ রৈয়াছে বান্ধা।
একই পরাণ দেহ ভিন ভিন
      জ্ঞান কহে গেল ধান্ধা॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^