কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ
বঁধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ
বঁধু হে কানাই কহিলে বাসিবা দুখ
কবি জ্ঞানদাস
বঁধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ
বঁধু হে কানাই কহিলে বাসিবা দুখ
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮০৩-নং পদসংখ্যা, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখে
সে জনি হেরয়ে তুয়া মুখ॥ ধ্রু॥
সহজে বরণ কাল তিমির-কাজর ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাকু জ্ঞাতি কুল॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরসে না চাও॥
যখন পিরিতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বনাইতা মোর বেশ।
আঁখি-আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল-কামিনী
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিলুঁ সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ-ছায়া দেখি ভরসা করিলুঁ মনে
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখে
সে জনি হেরয়ে তুয়া মুখ॥ ধ্রু॥
সহজে বরণ কাল তিমির-কাজর ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাকু জ্ঞাতি কুল॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরসে না চাও॥
যখন পিরিতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বনাইতা মোর বেশ।
আঁখি-আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল-কামিনী
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিলুঁ সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ-ছায়া দেখি ভরসা করিলুঁ মনে
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ --- নায়ক সম্বোধনে।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল, তিমির পুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসি বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল,
আনছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি, শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয় উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী, তাহে কুল কামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি, তোমা বই নাহিজানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি, ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল, তিমির পুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসি বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল,
আনছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি, শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয় উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী, তাহে কুল কামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি, তোমা বই নাহিজানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি, ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী,
কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল,
তিমির পুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে,
কলসি বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখনে তোমার সনে,
পরিচয় নাহি ছিল,
আনছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি,
শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা,
আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর,
হৃদয় উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী,
তাহে কুল কামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি,
তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি,
ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ,
আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী,
কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল,
তিমির পুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে,
কলসি বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখনে তোমার সনে,
পরিচয় নাহি ছিল,
আনছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি,
শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা,
আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর,
হৃদয় উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী,
তাহে কুল কামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি,
তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি,
ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ,
আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ। আর
যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি, সে জানি
হেরয়ে তুয়া মুখ॥ সহজে বরণ কাল,
তিমির পুঞ্জ ভেল, অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসি বাঁন্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥ যখনে
তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল, আন-
ছলে দেখিয়া বেড়াও। বারে বারে ডাকি
আমি, শুনিয়া না শুন তুমি, আঁখি তুলি
সরমে না চাও॥ যখন পিরীতি কৈলা,
আনি চাঁদ হাতে দিলা, আপনি বনাইলে
মোর বেশ। আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয়
উপরে ধর, এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী, তাহে কুলকামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ। যথা তথা
থাকি আমি, তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥ বড় বৃক্ষ ছায়া
দেখি, ভরসা করিনু মনে, ফুল ফলে একই
না গন্ধ। সাধিলা আপন কাজ, আমারে
সে দিলা লাজ, জ্ঞানদাস পড়ি রহু
ধন্দ॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ। আর
যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি, সে জানি
হেরয়ে তুয়া মুখ॥ সহজে বরণ কাল,
তিমির পুঞ্জ ভেল, অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসি বাঁন্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥ যখনে
তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল, আন-
ছলে দেখিয়া বেড়াও। বারে বারে ডাকি
আমি, শুনিয়া না শুন তুমি, আঁখি তুলি
সরমে না চাও॥ যখন পিরীতি কৈলা,
আনি চাঁদ হাতে দিলা, আপনি বনাইলে
মোর বেশ। আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয়
উপরে ধর, এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী, তাহে কুলকামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ। যথা তথা
থাকি আমি, তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥ বড় বৃক্ষ ছায়া
দেখি, ভরসা করিনু মনে, ফুল ফলে একই
না গন্ধ। সাধিলা আপন কাজ, আমারে
সে দিলা লাজ, জ্ঞানদাস পড়ি রহু
ধন্দ॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল, তিমিরপুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসি বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল,
আনছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি, শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয়-উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী, তাহে কুল কামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি, তোমা বই নাহিজানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষছায়া দেখি, ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল, তিমিরপুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসি বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল,
আনছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি, শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয়-উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী, তাহে কুল কামিনী,
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি, তোমা বই নাহিজানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষছায়া দেখি, ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চণ্ডীদাস অনুসরণে জ্ঞানদাস
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখে
সে জনি হেরয়ে তুয়া মুখ॥ ধ্রু॥
(সহজে বরণ কাল তিমির কাজর ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাকু জাতি কুল)॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরসে না চাও॥
যখন পিরিতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বলাইতা মোর বেশ।
আঁখি-আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল কামিনী
ঘর হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিলুঁ সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি ভরসা করিনু মনে
ফুলে ফলে একই না গন্ধ ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখে
সে জনি হেরয়ে তুয়া মুখ॥ ধ্রু॥
(সহজে বরণ কাল তিমির কাজর ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাকু জাতি কুল)॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরসে না চাও॥
যখন পিরিতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বলাইতা মোর বেশ।
আঁখি-আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল কামিনী
ঘর হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিলুঁ সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি ভরসা করিনু মনে
ফুলে ফলে একই না গন্ধ ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
মন্তব্য ---
তুলনীয় --- দ্বিজ চণ্ডীদাস --- (মৎসম্পাদিত চণ্ডীদাসের পদাবলী, পৃঃ ১৭২)
তুলনীয় --- দ্বিজ চণ্ডীদাস --- (মৎসম্পাদিত চণ্ডীদাসের পদাবলী, পৃঃ ১৭২)
বঁধু কহিলে বাসিবে মনে দুখ।
যতেক রমণী ধনী বৈঠয়ে জগত মাঝে
না জানি দেখয়ে তুয়া মুখ॥
যতেক রমণী ধনী বৈঠয়ে জগত মাঝে
না জানি দেখয়ে তুয়া মুখ॥
এ পদেই আছে ---
গগন ইন্দু আনিঞা, করে কর দর্শাইয়া,
এবে কেন এমতি আকর।
এবে কেন এমতি আকর।
টীকা ---
আঁখি আড় নাহি কর --- চোখের আড়াল করিতে না।
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ --- এখন সন্দেশের মতন তুমি দুর্লভ হইয়াছ।
ঘর হইতে আঙ্গিনা বিদেশ --- আমি ঘর থাকিতেই অভ্যস্ত ; আমার কাছে ঘরের আঙ্গিনাও বিদেশতুল্য।
আঁখি আড় নাহি কর --- চোখের আড়াল করিতে না।
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ --- এখন সন্দেশের মতন তুমি দুর্লভ হইয়াছ।
ঘর হইতে আঙ্গিনা বিদেশ --- আমি ঘর থাকিতেই অভ্যস্ত ; আমার কাছে ঘরের আঙ্গিনাও বিদেশতুল্য।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই, কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখি
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল তিমিরপুঞ্জ ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন্ ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারেবারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে আমি পরাধিনী তাহে কুল কামিনী
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষছায়া দেখি ভরসা করিনু মনে
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
॥ ধানশী॥
বন্ধু কানাই, কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখি
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল তিমিরপুঞ্জ ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন্ ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারেবারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর,
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে আমি পরাধিনী তাহে কুল কামিনী
ঘরে হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষছায়া দেখি ভরসা করিনু মনে
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (নায়ক সম্বোধনে), ১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বঁধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল, তিমিরপুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসী বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল,
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি, শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয় উপরে ধর,
এবে তুমি দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধীনী, তাহে কুলকামিনী,
ঘরে হইতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি, তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি, ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
আর যত কুলবতী, কুলের ধরম রাখি,
সে জানি হেরয়ে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল, তিমিরপুঞ্জ ভেল,
অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে, কলসী বান্ধিয়া গলে,
সে ধনী মজাক জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে, পরিচয় নাহি ছিল,
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি, শুনিয়া না শুন তুমি,
আঁখি তুলি সরমে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা, আনি চাঁদ হাতে দিলা,
আপনি বনাইলে মোর বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর, হৃদয় উপরে ধর,
এবে তুমি দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধীনী, তাহে কুলকামিনী,
ঘরে হইতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি, তোমা বই নাহি জানি,
সকলি কহলি সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি, ভরসা করিনু মনে,
ফুল ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ, আমারে সে দিলা লাজ,
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৩৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
বঁধু হে কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখি
সে যেন না হেরে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল তিমির-পুঞ্জ ভেল
অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাক জাতি কুল॥
যখনে তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরলে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বানায়ে দিতা বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তুয়া দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল-কামিনী
ঘর হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিল সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি ভরসা করিলুঁ মনে
ফুলে ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
বঁধু হে কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখি
সে যেন না হেরে তুয়া মুখ॥
সহজে বরণ কাল তিমির-পুঞ্জ ভেল
অন্তর বাহির সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাক জাতি কুল॥
যখনে তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরলে না চাও॥
যখন পিরীতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বানায়ে দিতা বেশ।
আঁখি আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তুয়া দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল-কামিনী
ঘর হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিল সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি ভরসা করিলুঁ মনে
ফুলে ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬৯৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ - মধ্যম দুঠুকী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখে
সে জনি হেরয়ে তুয়া মুখ॥ ধ্রু॥
সহজে বরণ কাল তিমির কাজর ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাক @ জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরসে না চাও॥
যখন পিরিতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বনাইতে মোর বেশ।
আঁখি-আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল কামিনী
ঘর হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিলুঁ সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি ভরসা করিলুঁ মনে
ফুলে ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
॥ শ্রীরাগ - মধ্যম দুঠুকী॥
বন্ধু কানাই কহিলে বাসিবা দুখ।
আর যত কুলবতী কুলের ধরম রাখে
সে জনি হেরয়ে তুয়া মুখ॥ ধ্রু॥
সহজে বরণ কাল তিমির কাজর ভেল
অন্তর বাহিরে সমতুল।
মরুক তোমার বোলে কলসী বান্ধিয়া গলে
সে ধনি মজাক @ জাতি কুল॥
যখন তোমার সনে পরিচয় নাহি ছিল
আন ছলে দেখিয়া বেড়াও।
বারে বারে ডাকি আমি শুনিয়া না শুন তুমি
আঁখি তুলি সরসে না চাও॥
যখন পিরিতি কৈলা আনি চাঁদ হাতে দিলা
আপনে বনাইতে মোর বেশ।
আঁখি-আড় নাহি কর হৃদয় উপরে ধর
এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥
একে হাম পরাধিনী তাহে কুল কামিনী
ঘর হৈতে আঙ্গিনা বিদেশ।
যথা তথা থাকি আমি তোমা বহি নাহি জানি
সকলি কহিলুঁ সবিশেষ॥
বড় বৃক্ষ ছায়া দেখি ভরসা করিলুঁ মনে
ফুলে ফলে একই না গন্ধ।
সাধিলা আপন কাজ আমারে সে দিলা লাজ
জ্ঞানদাস পড়ি রহু ধন্দ॥
@ - মজাক শব্দটির ক-তে হ্রস্বউ টি রয়েছে কি না তা সঠিক বোঝা যাচ্ছে না। --- মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥
*********************
*********************
