কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই
কান্দিতে না পাই বঁধু কান্দিতে না পাই
কবি জ্ঞানদাস
কান্দিতে না পাই বঁধু কান্দিতে না পাই
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮১৩-নং পদসংখ্যা, ১২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---নায়ক সম্বোধনে।
॥ তুড়ি॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ তুড়ি॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলে নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না
পাই। নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ
চাই॥ শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না
পারি। তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া
মরি॥ চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥ তাহে
আর তুমি সে হইলা নিদারুণ। জ্ঞানদাস
কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়শীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই ॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোভরিয়া মরি ॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
টীকা ---
শাশুড়ী ননদীর কথা ইত্যাদি--- শাশুড়ী ননদিনী গঞ্জনা দেয়, তাতে দুঃখ নাই, তুমি যে আমাকে ভালবাস এবং সে জন্য অপরে আমারে নিন্দা করে, সে নিন্দা শুনিতে আমার সুখই হয় ; কিন্তু তুমি যদি নিষ্ঠুরতা করিয়া আমাকে দেখা না দাও, তাহা হইলে সেই কথা মনে করিয়া করিয়া আমি যে মরণ যন্ত্রনা ভোগ করি। কিন্তু এত যন্ত্র ভোগ করি। কিন্তু এত যন্ত্রনাতেও কাঁদিতে পারি না। চোর রাত্রে চুরি করিতে যাইয়া কোথাও ধরা পড়িয়া খুব মার খাইয়া পলাইয়াছে, তাহার আঘাত চিহ্ন দেখিয়া চোরের বৌয়ের খুবই দুঃখ হয় কিন্তু সে ডাক ছাড়িয়া কাঁদিতে পারে না, কেননা কাঁদিলেই সকলে জানিয়া যাইবে যে তাহার স্বামী চোর। সেই রকম রাধা মনের দুঃখ প্রকাশ করিতে পারেন না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়শীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলে নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (শ্রীকৃষ্ণ প্রতি), ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বঁধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চান্দমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপণা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কানু সম্বোধনে
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৭০৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ
॥ তিরোথা ধানশী - মধ্যম একতালা॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২১৭-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে
আক্ষেপানুরাগ
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিষ্ঠুর প্রেম
কান্দিতে না পাই বঁধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চান্দমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকারিতে নারে।
এমত রহিয়ে পাড়াপড়শীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলে নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ১৯৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী-ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকারিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া-পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
*********************
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---নায়ক সম্বোধনে।
॥ তুড়ি॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ তুড়ি॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলে নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়ক সম্বোধন।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না
পাই। নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ
চাই॥ শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না
পারি। তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া
মরি॥ চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥ তাহে
আর তুমি সে হইলা নিদারুণ। জ্ঞানদাস
কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়শীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই ॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোভরিয়া মরি ॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
টীকা ---
শাশুড়ী ননদীর কথা ইত্যাদি--- শাশুড়ী ননদিনী গঞ্জনা দেয়, তাতে দুঃখ নাই, তুমি যে আমাকে ভালবাস এবং সে জন্য অপরে আমারে নিন্দা করে, সে নিন্দা শুনিতে আমার সুখই হয় ; কিন্তু তুমি যদি নিষ্ঠুরতা করিয়া আমাকে দেখা না দাও, তাহা হইলে সেই কথা মনে করিয়া করিয়া আমি যে মরণ যন্ত্রনা ভোগ করি। কিন্তু এত যন্ত্র ভোগ করি। কিন্তু এত যন্ত্রনাতেও কাঁদিতে পারি না। চোর রাত্রে চুরি করিতে যাইয়া কোথাও ধরা পড়িয়া খুব মার খাইয়া পলাইয়াছে, তাহার আঘাত চিহ্ন দেখিয়া চোরের বৌয়ের খুবই দুঃখ হয় কিন্তু সে ডাক ছাড়িয়া কাঁদিতে পারে না, কেননা কাঁদিলেই সকলে জানিয়া যাইবে যে তাহার স্বামী চোর। সেই রকম রাধা মনের দুঃখ প্রকাশ করিতে পারেন না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চাঁদ মুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়শীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলে নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (শ্রীকৃষ্ণ প্রতি), ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বঁধু কান্দিতে না পাই।
নিশ্চয় মরিব তোমার চান্দমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপণা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কানু সম্বোধনে
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৭০৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ
॥ তিরোথা ধানশী - মধ্যম একতালা॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২১৭-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে
আক্ষেপানুরাগ
॥ তুড়ী॥
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিষ্ঠুর প্রেম
কান্দিতে না পাই বঁধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চান্দমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতে না পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকারিতে নারে।
এমত রহিয়ে পাড়াপড়শীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলে নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ১৯৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী-ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকারিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়া-পড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কান্দিতে না পাই বন্ধু কান্দিতে না পাই।
নিচয়ে মরিব তোমার চাঁদমুখ চাই॥
শাশুড়ী ননদীর কথা সহিতেও পারি।
তোমার নিঠুরপনা সোঙরিয়া মরি॥
চোরের রমণী যেন ফুকরিতে নারে।
এমতি রহিয়ে পাড়াপড়সীর ডরে॥
তাহে আর তুমি সে হইলা নিদারুণ।
জ্ঞানদাস কহে তবে না রহে জীবন॥
*********************
