কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
আলো মুঞি জানো না
আলো মুঞি জানোঁনা
আলো মুঞি জানিলে যাইতাঙ না কদম্বের তলে
আলো মুঞি জানো না জানো না সই
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে
আলো মুঞি জালিলে যাইতাঙনা কদম্বের তলে
আলো মুঞি জ্বালিলে যাইতাঙনা
কবি জ্ঞানদাস
আলো মুঞি জানোঁনা
আলো মুঞি জানিলে যাইতাঙ না কদম্বের তলে
আলো মুঞি জানো না জানো না সই
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে
আলো মুঞি জালিলে যাইতাঙনা কদম্বের তলে
আলো মুঞি জ্বালিলে যাইতাঙনা
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ --- প্রকারান্তর, ১২৩-নং পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথা রাগ॥
আলো মুঞি জানো না, জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥ ধ্রু॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দু কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের নায়িকার পূর্ব্বরাগ, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জানিলে যাইতাঙনা কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥ ধ্রু
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, সংগীত-সার-সংগ্রহ, ১ম খণ্ড, ১৭১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জালিলে @ যাইতাঙনা কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
@ - জালিলে – “জানিলে” হবে। মুদ্রণ প্রমাদ।
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জ্বালিলে যাইতাঙনা।
কদম্বের তলে। চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া
নাগর ছলে॥ রূপের পাথারে আঁখি ডুবি
সে রহিল। যৌবনের বনে মন হারাইয়া
গেল॥ ঘরে যাইতে পথ মোর হইল
অফুরাণ। অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে
প্রাণ॥ চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া। বিধি
নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥ জাতি
কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল। ভুবন
ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥ কুলবতী
সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ। জ্ঞানদাস
কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারি॥
আলো মুঞি জানিলে যাইতাঙ না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১০৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী - মধ্যম গঞ্জল তাল॥
আলো মুঞি জানো না জানো না সই
জানো না গো জানো না।
জানিলে আমি যাইতাম না কদম্বের তলে
চিত হরিয়া নিল ছলিয়া নাগর ছলে॥ ধ্রু॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চাঁদের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বাঁধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইঞা দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১২৯পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুই জানি না জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরাণ।
অন্তর বিদরে কি জানি কি করে পরাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥
জাতিকুলশীল বুঝি সব মোর গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস বোলে দঢ় করি থাক বুক॥
টীকা---
সখি ! আমি যদি জানিতাম এমন হইবে তবে কি কজম তলায় যাইতাম ! আমার মন যে সেই প্রবঞ্চক নাগর ছলা করিয়া চুরি করিয়া লইল। তাহার রূপ যেন এক দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র, সেখানে নয়ন আমার ডুবিয়া গেল। তাহার যৌবন যেন সৌন্দর্য্যের শ্যামল বন, সেখানে আমার মন প্রবেশ করিয়াছিল, কিন্তু বাহিরে আসিবার পথ আর খুঁজিয়া পাইল না। ঘরে ফিরিবার পথ আমার শেষ হইতে চাহে না, কেন না তাহাকে ছাড়িয়া যাইতে পা চলে না, যদি বা একটু যাই ফিরিয়া ফিরিয়া তাকাই। আমার বুক ফাটিয়া যাইতেছে ; জানি না প্রাণ থাকিবে কি যাইবে। চন্দন দিয়া তাহার কপালে চাঁদ আঁকা হইয়াছে, তাহার মধ্যস্থলে কস্তুরী দিয়া একটি ফোঁটা দেওয়া হইয়াছে, তাহার শোভা দেখিয়া আমার ধাঁধা লাগিল এবং হৃদয়-পুত্তলি যেন তাহাতে বাঁধা পড়িল। তাহার কটিদেশে পীতবসন, রসনা ( বেল্ট জাকীয় ) দিয়া তাহা বাঁধা ; উহা যেন বিধাতা কুলে কলঙ্ক লাগাইবার অঙ্কুশরূপে নির্ম্মাণ করিয়াছেন। আমার জাতি, কুল এবং সৎ ব্যবহার সব বুঝি তাহাকে দেখার ফলে ভাসিয়া গেল। হায় ! হায় ! জগত ভরিয়া আমার কলঙ্ক ঘোষণা হইল। আমি কুলবতী হইয়া পিতৃকুলের ও শ্বশুরকুলের দুঃখের কারণ হইলাম। জ্ঞানদাস রাধাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিতেছেন ---- এত আকুল হইয়ো না ; বুক শক্ত করিয়া থাক।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ভাটিয়ারি॥
আলো মুঞি জানিলে আমি যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জানোঁনা
জানিলে যাইতাঙনা কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈঞা দু কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পূর্বরাগ ও অনুরাগ, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি জানো না---
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি-পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল মোর সব বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দু-কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে পিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল @ বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
@ - বৈল – রৈল হবে।
এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৩৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পূর্ব্বরাগ ও অনুরাগ
আলো মুঞি জানো না ---
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল মোর সব বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈঞা দু-কুলে দিলু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি জানো না---জানিলে যাইতাম না
কদম্বের তলে।
চিত্ত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে পিয়া কি জানি কি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুত্তলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল গেল মোর হেন বুদ্ধি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দু-কুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ১১৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি জানো না,
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে পিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চাঁদের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুত্তলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইঞা দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৪০১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ।
আলো মুঞি জানো না,
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চাঁদের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইঞা দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
*********************
॥ তথা রাগ॥
আলো মুঞি জানো না, জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥ ধ্রু॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দু কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের নায়িকার পূর্ব্বরাগ, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জানিলে যাইতাঙনা কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥ ধ্রু
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, সংগীত-সার-সংগ্রহ, ১ম খণ্ড, ১৭১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জালিলে @ যাইতাঙনা কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
@ - জালিলে – “জানিলে” হবে। মুদ্রণ প্রমাদ।
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জ্বালিলে যাইতাঙনা।
কদম্বের তলে। চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া
নাগর ছলে॥ রূপের পাথারে আঁখি ডুবি
সে রহিল। যৌবনের বনে মন হারাইয়া
গেল॥ ঘরে যাইতে পথ মোর হইল
অফুরাণ। অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে
প্রাণ॥ চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া। বিধি
নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥ জাতি
কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল। ভুবন
ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥ কুলবতী
সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ। জ্ঞানদাস
কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারি॥
আলো মুঞি জানিলে যাইতাঙ না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ায় পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১০৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী - মধ্যম গঞ্জল তাল॥
আলো মুঞি জানো না জানো না সই
জানো না গো জানো না।
জানিলে আমি যাইতাম না কদম্বের তলে
চিত হরিয়া নিল ছলিয়া নাগর ছলে॥ ধ্রু॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চাঁদের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বাঁধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইঞা দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১২৯পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুই জানি না জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরাণ।
অন্তর বিদরে কি জানি কি করে পরাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোড়া॥
জাতিকুলশীল বুঝি সব মোর গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস বোলে দঢ় করি থাক বুক॥
টীকা---
সখি ! আমি যদি জানিতাম এমন হইবে তবে কি কজম তলায় যাইতাম ! আমার মন যে সেই প্রবঞ্চক নাগর ছলা করিয়া চুরি করিয়া লইল। তাহার রূপ যেন এক দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র, সেখানে নয়ন আমার ডুবিয়া গেল। তাহার যৌবন যেন সৌন্দর্য্যের শ্যামল বন, সেখানে আমার মন প্রবেশ করিয়াছিল, কিন্তু বাহিরে আসিবার পথ আর খুঁজিয়া পাইল না। ঘরে ফিরিবার পথ আমার শেষ হইতে চাহে না, কেন না তাহাকে ছাড়িয়া যাইতে পা চলে না, যদি বা একটু যাই ফিরিয়া ফিরিয়া তাকাই। আমার বুক ফাটিয়া যাইতেছে ; জানি না প্রাণ থাকিবে কি যাইবে। চন্দন দিয়া তাহার কপালে চাঁদ আঁকা হইয়াছে, তাহার মধ্যস্থলে কস্তুরী দিয়া একটি ফোঁটা দেওয়া হইয়াছে, তাহার শোভা দেখিয়া আমার ধাঁধা লাগিল এবং হৃদয়-পুত্তলি যেন তাহাতে বাঁধা পড়িল। তাহার কটিদেশে পীতবসন, রসনা ( বেল্ট জাকীয় ) দিয়া তাহা বাঁধা ; উহা যেন বিধাতা কুলে কলঙ্ক লাগাইবার অঙ্কুশরূপে নির্ম্মাণ করিয়াছেন। আমার জাতি, কুল এবং সৎ ব্যবহার সব বুঝি তাহাকে দেখার ফলে ভাসিয়া গেল। হায় ! হায় ! জগত ভরিয়া আমার কলঙ্ক ঘোষণা হইল। আমি কুলবতী হইয়া পিতৃকুলের ও শ্বশুরকুলের দুঃখের কারণ হইলাম। জ্ঞানদাস রাধাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিতেছেন ---- এত আকুল হইয়ো না ; বুক শক্ত করিয়া থাক।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ভাটিয়ারি॥
আলো মুঞি জানিলে আমি যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জানোঁনা
জানিলে যাইতাঙনা কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈঞা দু কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পূর্বরাগ ও অনুরাগ, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি জানো না---
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রইল বান্ধা॥
কটি-পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল মোর সব বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দু-কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ভাটিয়ারী॥
আলো মুঞি জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে পিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল @ বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোড়া॥
জাতি কুল শীল মোর হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দুকুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
@ - বৈল – রৈল হবে।
এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৩৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পূর্ব্বরাগ ও অনুরাগ
আলো মুঞি জানো না ---
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল মোর সব বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈঞা দু-কুলে দিলু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ৪৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি জানো না---জানিলে যাইতাম না
কদম্বের তলে।
চিত্ত হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে পিয়া কি জানি কি করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদে ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুত্তলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল গেল মোর হেন বুদ্ধি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইয়া দু-কুলে দিনু দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ১১৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি জানো না,
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে পিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চাঁদের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুত্তলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইঞা দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৪০১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ।
আলো মুঞি জানো না,
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।
চিত মোর হরিয়া নিলে ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কি জানি করে প্রাণ॥
চন্দন চাঁদের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হইঞা দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
*********************
