কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আর কত বোল সই আর কত বোল
আর কত বল সই আর কত বল

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮৪৬- নং পদসংখ্যা, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

আর কত বোল সই আর কত বোল।
নিভান অনল আর পুন কেন জ্বাল॥
যে অনলে পোড়ে হিয়া সে অনলে সেকি।
কস্তুরী লেপিয়া অঙ্গে শ্যাম-নাম লেখি॥
শ্যাম-পরসঙ্গ বিনে যদি প্রাণ রয়।
তমু ত দারুণ লোকে এত কথা কয়॥
জ্ঞান কহে বিনদিনি নিবারহ চিতে।
কালায় মাতল মন কি করে কথাতে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস

আর কত বোল সই আর কত বোল।
নিভান অনল আর পুন কেন জ্বাল॥
যে অনলে পোড়ে হিয়া সে অনলে সেকি।
কস্তুরী লেপিয়া অঙ্গে অঙ্গে শ্যাম-নাম লেখি॥
শ্যাম পরসঙ্গ বিনে যদি প্রাণ রয়।
তমু ত দারুণ লোকে এত কথা কয়॥
জ্ঞান কহে বিনোদিনি নিবারহ চিতে।
কালায় মাতল মন কি করে কথাতে॥

টীকা --
সখি ! আর কত বলিবে বল ! আমি একটু ভুলিয়া থাকিতে চেষ্টা করিতেছি, কিন্তু তুমি ভুলিতে দিতেছ না-- নেভানো আগুন যেন ফুত্কার দিয়া জ্বালাইয়া দিতেছ। আগুনে কোন অঙ্গ পুড়িয়া গেলে, আগুনেই তাহা সেঁকিতে হয়, তেমনি কৃষ্ণপ্রেমের আগুনের জ্বালা মিটাইবার জন্য আমি কৃষ্ণের গায়ের রংয়ের মতন দেখিতে মৃগমদকস্তুরী দিয়া অঙ্গে শ্যাম নাম লিখি। শ্যামের কথা শুনিতে পাই না, তাহাতেও আমার পোড়া প্রাণ যায় না -- এমন ক্ষীণ আমার প্রেম, তবুও দুষ্ট লোকে আমাকে এত কথা শোনায়। জ্ঞানদাস বলেন বিনোদিনি ! মনকে নিবারণ কর, তোমার মন তো কালাতে মাতিয়া আছে, লোকের কথায় তোমার কি ভয় কি বা দুঃখ কি ?

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তুড়ী॥

আর কত বোল সই আর কত বোল।
নিভান অনল আর পুন কেন জ্বাল॥
যে অনলে পোড়ে হিয়া সে অনলে সেকি।
কস্তুরী লেপিয়া অঙ্গে শ্যামনাম লেখি॥
শ্যামপরসঙ্গ বিনে যদি প্রাণ রয়।
তমু ত দারুণ লোকে এত কথা কয়॥
জ্ঞান কহে বিনদিনি নিবারহ চিতে।
কালায় মাতল মন কি করে কথাতে॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬৬১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তুড়ী - জপতাল॥

আর কত বল সই আর কত বল।
নিভান অনল আর পুন কেন জ্বাল॥
যে অনলে পুড়ে হিয়া সে অনলে সেকি।
কস্তুরী লেপিয়া অঙ্গে শ্যাম নাম লেখি॥
শ্যাম-পরসঙ্গ বিনে যদি প্রাণ রয়।
তমু ত দারুণ লোকে এত কথা কয়॥
জ্ঞান কহে বিনোদিনী নিবারহ চিতে।
কালায় মাতল মন কি করে কথাতে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২০৭-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ তুড়ী॥

আর কত বোল সই আর কত বোল।
নিভান অনল আর পুন কেন জ্বাল॥
যে অনলে পোড়ে হিয়া সে অনলে সেকি।
কস্তুরী লেপিয়া অঙ্গে শ্যাম-নাম লেখি॥
শ্যাম-পরসঙ্গ বিনে যদি প্রাণ রয়।
তমু ত দারুণ লোকে এত কথা কয়॥
জ্ঞান কহে বিনদিনি নিবারহ চিতে।
----- ----- ----- ----- ----- ----- ----- ----- ॥ @

@ - শেষ পক্তিটি এখানে মুদ্রণপ্রমাদের জন্য পাঠ করা যাচ্ছে না।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আর কত বোল সই আর কত বোল।
নিভান অনল আর পুন কেন জ্বাল॥
যে অনলে পোড়ে হিয়া সে অনলে সেকি।
কস্তুরী লেপিয়া অঙ্গে শ্যামনাম লেখি॥
শ্যামপরসঙ্গ বিনে যদি প্রাণ রয়।
তমু ত দারুণ লোকে এত কথা কয়॥
জ্ঞান কহে বিনোদিনি নিবারহ চিতে।
কালায় মাতাল মন কি করে কথাতে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^