কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিলুঁ
সুখের লাগিআ এ ঘর বান্ধিনু
সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিনু
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮৮৭- নং পদসংখ্যা, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখি হে কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিলুঁ
রবির কিরণ দেখি॥ ধ্রু॥
নিচল ছাড়িয়া     উচলে উঠিতে
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বাঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
বজর পাড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি
মরণ-অধিক শেল॥

টীকা--- এই পদটী চণ্ডীদাসের বলিয়া উল্লিখিত আছে। চণ্ডীদাসের ভণিতা এই রূপ---

পিয়াস লাগিয়া,     জলদ সেবিনু
বজর পাড়িয়া গেল।
কহে চণ্ডীদাস,     শ্যামের পিরীত,
মরণ-অধিক শেল॥

মরা এখানে চণ্ডীদাসের ভণিতাযুক্ত পুরো পদটি তুলে দিচ্ছি। এই পদটি ১৩২১ বঙ্গাব্দে (১৯১৪ সালে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত, নীলরতন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত “চণ্ডীদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

॥ শ্রী॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখি, কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া     অচলে চড়িনু
পড়িনু অগাধ জলে।
লছমি চাহিতে     দারিদ্র্য বেড়ল
মাণিক হারানু হেলে॥
নগর বসালেম     সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে।
সাগর শুকাল     মাণিক লুকাল
অভাগীর করম-দোষে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিনু
বজর পাড়িয়া গেল।
কহে চণ্ডীদাস     শ্যামের পীরিতি
মরমে রহল শেল॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২০০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

সুখের লাগিআ এ ঘর বান্ধিনু আনলে পুড়িআ গেল।
অমিআ সাগরে সিনান করিতে সকল গরল ভেল॥
সখী হে কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিআ উ চাঁদ সেবিনু রবির কিরণ দেখি॥
নিচল ছাড়িআ উচলে উঠিনু পড়িনু অগাধ জলে।
লছিমি চাহিতে দারিদ্র্য বেড়ল মাণিক হারাইনু হেলে॥
পিয়াস লাগিআ জলদ সেবিনু বজর পাড়িআ গেল।
জ্ঞানদাস কহে কানুর পিরিতি মরম অধিক শেল॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, গ্রন্থের ৭৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থটির আমাদের সংগ্রহের পি.ডি.এফ. কপিটির প্রায় সব পৃষ্ঠাই অপাঠ্য অথবা দুষ্পাঠ্য।

॥ ধানশী॥ সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিনু আগুনে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল॥ সখী
রে কি মোর করমে লেখি। শীতল বলিয়া চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি॥ উচল বলিয়া অচলে চড়িনু পড়িনু
অগাধ জলে। লছমি চাহিতে দরিদ্র বেঢ়ল মাণিক হারাণু
হেলে॥ পিয়াস লাগিয়া জলদ সেবিনু পাইনু বজর
তাপে। জ্ঞানদাসে কহে পিরীতি করিয়া পাছে কর অনু
তাপে॥

ই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংগ্রহ”, এর ৬১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সায়রে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখিহে কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চান্দ সেবিনু
রবির কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া     অচলে চড়িনু
পড়িনু অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বাঢ়ল
মাণিক হারানু হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিনু
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
মরণ অধিক শেল॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ --- সখী সম্বোধনে
॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া,     এ ঘর বাঁধিনু,
আগুনে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে,     সিনান করিতে,
সকলি গরল ভেল॥
সখি ! কি মোর কপালে লেখি।
শীতল বলিয়া,     চাঁদ সেবিনু,
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া,     অচলে চড়িনু,
পড়িনু অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে,     দারিদ্র্য বেঢ়ল,
মাণিক হারানু হেলে॥
নগর বসালেম,     সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে।
সাগর শুকাল,     মাণিক লুকাল,
অভাগীর করম দোষে॥
পিয়াস লাগিয়া,     জলদ সেবিনু,
পাইনু বজর তাপে।
জ্ঞানদাস কহে,     পিরীতি করিয়া,
পাছে কর অনুতাপে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া,     এ ঘর বাঁধিনু,
আগুনে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে,     সিনান করিতে,
সকলি গরল ভেল॥
সখি, কি মোর কপালে লেখি।
শীতল বলিয়া,     চাঁদ সেবিনু,
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া,     অচলে চড়িনু,
পড়িনু অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে,     দারিদ্র বেঢ়ল,
মাণিক হারানু হেলে॥
নগর বসালেম,     সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে।
সাগর শুকাল,     মাণিক লুকাল,
অভাগীর করমদোষে॥
পিয়াস লাগিয়া,     জলদ সেবিনু,
পাইনু বজর তাপে।
জ্ঞানদাস কহে,     পিরীতি করিয়া,
পাছে কর অনুতাপে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৮১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বাঁধিনু
অনলে জ্বলিয়া গেল।
অমিয় সাগরে     সিনান করিতে
সুধাই গরল ভেল॥
সখি হে কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিতে
ভানুর কিরণ দেখি॥ ধ্রু॥
নিচল বলিয়া     উচলে উঠিতে
পড়িনু অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে     দারিদ্র্যে বেঢ়ল
মানিক হারানু হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদে সেবিনু
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পীরিতি
হৃদয়ে রহল শেল॥

টীকা---
সুধাই গরল ভেল --- অমৃতই বিষ হইল। ও চাঁদ সেবিতে ভানুর কিরণ দেখি---ওই চাঁদের সেবা করিতে যাইয়া দেখিলাম উহাতে সূর্যের উত্তাপ।
নিচল ছাড়িয়া উচলে উঠিতে--- নীচু জায়গা ছাড়িয়া উঁচুত উঠিতে যাইয়া অগাধ জলে পরিলাম।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া,     এ ঘর বাঁধিনু,
আগুণে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে,     সিনান করিতে,
সকলি গরল ভেল॥
সখি কি মোর কপালে লেখি।
শীতল বলিয়া,     ও চাঁদ সেবিনু,
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া,     অচলে চঢ়িনু,
পড়িনু অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে,     দারিদ্র্য বেঢ়ল,
মাণিক হারানু হেলে॥
নগর বসালেম,     সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে।
সাগর শুকাল,     মাণিক লুকাল,
অভাগীর করমদোষে॥
পিয়াস লাগিয়া,     জলদ সেবিনু,
পাইনু বজর তাপে।
জ্ঞানদাস কহে,     পিরীতি করিয়া,
পাছে কর অনুতাপে॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (প্রেম প্রতি), ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সায়রে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখি হে কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিলুঁ
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া     অচলে চড়িলুঁ
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র বেঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
পাইলুঁ বজর তাপে।
জ্ঞানদাস কহে     পিরীতি করিয়া
পাছে কর অনুতাপে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, প্রেমবৈচিত্ত্য ও আক্ষেপানুরাগ, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখি কি মোর কপালে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া     অচলে চড়িতে
পড়িনু অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বেঢ়ল
মাণিক হারানু হেলে॥
নগর বসালাম     সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে।
সাগর শুকাল     মাণিক লুকাল
অভাগীর করম-দোষে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিনু
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
মরণ অধিক শেল॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥

সখি কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিলুঁ
ভানুর কিরণ দেখি॥

উচল বলিয়া     অচলে উঠিতে
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে     দারিদ্র্য বেঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥

পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি
মরণ অধিক শেল॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১৮০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
(প্রকারান্তর)
॥ ভূপালী॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখি কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি॥
নিচল ছাড়িয়া     উচলে উঠিতে
পড়িনু অগাধ জলে।
লছিমা চাহিতে     দারিদ্র্য বেঢ়ল
মাণিক হারালেম হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিনু
বজর পাড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাসে কহে     কানুর পিরীতি
মরন অধিক শেল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

স্বগত কথনে
॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিলুঁ
রবির কিরণ দেখি॥ ধ্রু॥
নিচল ছাড়িয়া     উচলে উঠিতে
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বাঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
মরণঅধিক শেল॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৭৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেমবৈচিত্ত্য ও আক্ষেপানুরাগ

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখি কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি॥
উচল বলিয়া     অচলে চড়িতে
পড়িনু অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বেঢ়ল
মাণিক হারানু হেলে॥
নগর বসালাম,     সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে।
সাগর শুকাল,     মাণিক লুকাল,
অভাগীর করম-দোষে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিনু
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
মরণ অধিক শেল॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ ধানশী॥

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিলুঁ
রবির কিরণ দেখি॥ ধ্রু॥
নিচল ছাড়িয়া     উচলে উঠিতে
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বাঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি
মরণ-অধিক শেল॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
(সখি হে) কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চান্দ সেবিলুঁ
ভানুর কিরণ দেখি॥ ধ্রু॥
নিচল ছাড়িয়া     উচলে উঠিতে
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছিমী চাহিতে     দারিদ্র্য বাঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি
মরণ অধিক শেল॥

ই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ১৯৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সুখের লাগিয়া     এ ঘর বান্ধিলুঁ
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে     সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল॥
সখী কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া     ও চাঁদ সেবিলুঁ
রবির কিরণ দেখি॥
নিচল ছাড়িয়া     উচলে উঠিতে
পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে     দারিদ্র্য বাঢ়ল
মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া     জলদ সেবিলুঁ
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
মরণ-অধিক শেল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিলুঁ
      আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া সাগরে সিনান করিতে
      সকলি গরল ভেল॥
কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া ও চাঁদ সেবিলুঁ
      রবির কিরণ দেখি॥
নিচল ছাড়িয়া উচলে উঠিতে
      পড়িলুঁ অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে দারিদ্র্য বাঢ়ল
      মাণিক হারালুঁ হেলে॥
পিয়াস লাগিয়া জলদ সেবিলুঁ
      বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে কানুর পিরীতি
মরণ-অধিক শেল॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^