কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
অরুণ উদয় কালে ব্রজ শিশু আসি মিলে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি, ১৯০৫ সালে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী দ্বারা প্রকাশিত, রাসবিহারী সাঙ্খ্যতীর্থ দ্বারা সম্পাদিত, ষোড়শ শতকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের শিষ্য মুকুন্দদাস গোস্বামী প্রণীত, পদাবলী সংকলন “সিদ্ধান্ত-চন্দ্রোদয়”, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা বিশেষে গৌণং ভবিষ্যদ্বিরহপদং।

অরুণ উদয় কালে, ব্রজ শিশু আসি মিলে, বিপিনে পয়ান প্রাণনাথ।
এক দিঠি পথপানে, আর দিঠি গুরুজনে, চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
সখি, না জানি কি হবে প্রেম লাগি।
কঠিন পরাণ নাহি, পরবোধ মানত, কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে নব যৌবনী, তাহে কুল-কামিনী, আর তাহে পরের অধীন।
কি করিতে কি না করি, আপনা বুঝিতে নারি, ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
পীরিতি বিষম শরে, রহিতে না দিল ঘরে, নিরবধি উড়ু পুড়ু চিত।
জ্ঞানদাস ভণে, ধিক ধিক জীবনে, যো করে পরবশ প্রীত॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯০৩- নং পদসংখ্যা, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কৌ রাগিণী॥

অরুণ-উদয়-কালে     ব্রজ-শিশু আসি মিলে
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে     আর দিঠি পথ পানে
চাহিয়ে পরাণ করি হাথ॥
সজনি না জানি কি হয়ে প্রেম লাগি।
দারুণ পিরিতি পর-     বোধ না মানই
কত চিতে নিবারিব আগি॥ ধ্রু॥
একে কুল-কামিনি     তাহে নব-যৌবনি
আর তাহে পরের অধীন।
পিরিতি-বিষম-শরে     রহিতে না পারি ঘরে
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত     জাগিতে ঘুমিতে কত
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
জ্ঞানদাস বোলে     আকুল নয়ান-জলে
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে (১১৭৮ বঙ্গাদে বা ১৭৭১খৃষ্টাব্দে) পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, অধ্যাপক অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯ খৃষ্টাব্দে) সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” এর ১১৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে (১৯২০) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর সংগ্রহের ৪২৪টি পুথি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাতে দান করেন। এই পুথিটি দেশবন্ধুর সেই দান করা পুথিগুলির মধ্যে একটি। এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন শেষ তিন পংক্তি দেখা যাচ্ছে।

॥ সুহই॥

অরুণ উদয়-কালে     ব্রজশিশু আসি মিলে
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠে গুরুজনে     আর দিঠে পথ পানে
চাহিতে পরাণ করি হাথ॥
সজনী না জানি কি হব প্রেম লাগি।
কঠিন পিরিতি পর-     বোধ না মানই
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুল-কামিনী     আর নব যৌবনী
আর তাহে কাহ্নুর সোহাগ।
এত রস আদর     বাদ করল বিধি
কুলবতী কেমন অভাগ॥
ঘরে গুরু-গঞ্জন     হৃদয়-বিদারণ
উড়ুপুড়ু সদা করে চীত।
জ্ঞানদাস কহ     অন্তর দহ দহ
বিষাধিক বিষম পিরিত॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ --- সখী সম্বোধনে
॥ কৌরাগিণী॥

অরুণ উদয় কালে,     ব্রজ শিশু আসি মিলে
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে,     আর দিঠি পথ পানে,
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
স্বজনি না জানি কি হয়ে প্রেম লাগি।
দারুণ পিরীতি,     পরবোধ না মানই,
কত চিতে নিবারিব আগি॥ ধ্রু।
একে কুলকামিনী,     তাহে নব যৌবনী,
আর তাহে পরের অধীন।
পিরীতি বিষম শরে,     রহিতে না পারি ঘরে,
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিসি অবিরত,     জাগিতে ঘুমিতে কত,
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
জ্ঞানদাস বলে,     আকুল নয়ানের জলে,
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ কৌরাগিণী॥

অরুণ উদয় কালে, ব্রজ শিশু আসি মিলে
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে, আর দিঠি পথ পানে,
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
স্বজনি না জানি কি হয়ে প্রেম লাগি।
দারুণ পিরীতি, পরবোধ না মানই,
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুলকামিনী, তাহে নব যৌবনী,
আর তাহে পরের অধীন।
পিরীতি বিষম শরে, রহিতে না পারি ঘরে,
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিসি অবিরত, জাগিতে ঘুমিতে কত,
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
জ্ঞানদাস বলে, আকুল নয়ানের জলে,
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ কৌরাগিণী॥

অরুণ উদয় কালে, ব্রজশিশু আসি
মিলে, বিপিনে পয়ান প্রাণনাথ। এক দিঠি
গুরুজনে, আর দিঠি পথ পানে, চাহিয়ে
পরাণ করি হাত॥ সজনি না জানি কি
হয় প্রেম লাগি। দারুণ পিরীতি, পরবোধ
না মানই, কত চিতে নিবারিব আগি॥ একে
কুলকামিনী, তাহে নব যৌবনী, আর তাহে
পরের অধীন। পিরীতি বিষম শরে, রহিতে
না পারি ঘরে, ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত, জাগিতে ঘুমিতে কত,
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই। জ্ঞানদাস বলে,
আকুল নয়ানের জলে, তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ কৌরাগিণী॥

অরুণ উদয় কালে,     ব্রজশিশু আসি মিলে,
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে,     আর দিঠি পথ পানে,
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
স্বজনি, না জানি কি হয়ে প্রেমলাগি।
দারুণ পিরীতি পর-     বোধ না মানই,
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুলকামিনী,     তাহে নব-যৌবনী,
আর তাহে পরের অধীন।
পিরীতি বিষম-শরে,     রহিতে না পারি ঘরে,
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি-দিশি অবিরত,     জাগিতে ঘুমিতে কত,
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
জ্ঞানদাস বলে,     আকুল নয়ানের জলে,
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ থেকে ১৩২৬ বঙ্গাব্দের (১৯১৯) প্রকাশিত, শিবরতন মিত্র সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ২য় খণ্ড, ১ম সংখ্যা, ১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ উদয় কালে     ব্রজশিশু আসি মিলে
বিপিন পয়ান প্রাণনাথ।
একদিঠে গুরুজনে     আর দিঠে পথপানে
চাহিতে পরাণ করি হাথ॥
সখি রে, না জানি কি হব প্রেম লাগি
কঠিন পিরিতে     পরবোধ না মানত
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুল-কামিনী     আর নব-যৌবনী
আর তাহে পরের অধীন।
পিরিতি বিষম শরে     বহিতে না পারি ঘরে
ভাবিতে গুণিতে তনু ক্ষীণ॥
কি করিতে কিবা করি     আপনি বুঝিতে নারি
উড়ু উড়ু সদা করে চিত।
জ্ঞানদাসে কহে     ধিক্ রহু জীবনে
ধিক্ ধিক্ বিষম পিরিতি॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৮০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ উদয়-কালে     ব্রজশিশু আসি মিলে
বিপিন পয়ান প্রাণনাথ।
একদিঠে গুরুজনে     আর দিঠে পথপানে
চাহিতে পরাণ করি হাথ॥
সজনী না জানি কি হব প্রেম লাগি।
কঠিন পিরিতি পর     বোধ না মানই
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুল-কামিনী     আর নব যৌবনী
আর তাহে কাহ্ণুর সোহাগ।
এত রস আদর     বাদ করল বিধি
কুলবতি কেমন অভাগ॥
ঘরে গুরু-গঞ্জন     হৃদয় বিদারণ
উড়ু পুড়ু সদা করে চিত।
জ্ঞানদাস কহ     অন্তর দহদহ
বিষাধিক বিষম পিরিত॥

টীকা ---
যখন আকাশে সূর্য উঠে তখন ব্রজশিশুরা আসিয়া আমার প্রাণনাথকে লইয়া বিপিনে যায়। আমি পথের দিকে তাকাইয়া থাকি, কিন্তু গুরুজনের ভয়ে ভাগ করিয়া তাকাইতেও পারি না ; একবার গুরুজনেরা লক্ষ্য করিতেছেন কি না দেখি, আর একবার পথে প্রাণনাথের পানে চাই, --তখন যেন আমাকে ভয়ে প্রাণ হাতে করিয়া থাকিতে হয়। সখি ! প্রেমের জন্য কি জানি বা হয়। আমার দারুণ প্রেম, প্রবোধ মানে না ; মনের আগুন আর কত নিরবারণ করি ? আমি একে কুলের রমণী, তাহাতে আবার নবযৌবনের আবেগ, আবার কানাইয়ের অমন আদর। এমন রসের আদরে বিধাতা বাদ সাধিল-- কুলবতীর কি দুর্ভাগ্য। আমারে ঘরে হৃদয় বিদীর্ণ করা গুরুজনের গঞ্জনা, সর্ব্বদা আমার মনে উড়ু উড়ু করে। জ্ঞানদাস বলেন অন্তর পুড়িয়া যাইতেছে ; এ প্রেমের জ্বালা যেন বিষের জ্বালা যেন বিষের জ্বালার চেয়ে বেশী।

মন্তব্য---
সিদ্ধান্তচন্দ্রোদয়ে এই পদটির শেষাংশের রূপ এই---

একে নব যৌবনী     আরে কুল কামিনী
আরে তাহে পরের অধীন।
কি করিতে কি না করি     আপনি বুঝিতে নারি
ভাবিতে গণিতে তনু ক্ষীণ।
পীরিতি বিষম শরে     রহিতে না দিল ঘরে
নিরবধি উড়ু উড়ু চিত।
জ্ঞানদাস ভণে     ধিক্ ধিক্ জীবনে
যো করে পরবশ প্রীত॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা তাঁর সারা জীবন ধরে, আনুমানিক ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ও সংকলিত এবং তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পরে তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু" এর ৩৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ উদয় কালে, ব্রজ শিশু আসি মিলে, বিপিন পরাণ প্রাণনাথ। একদিঠি
গুরুজন, আর দিঠি পথ পানে, চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥ সজনি, না জানি কি
হয়ে প্রেম লাগি। দারুণ পিরীতি পরবোধ না মনই, কত চিতে নিবারিব আমি॥ ধ্রু॥
একে কুলকামিনী, তাহে নবযৌবনী, আর তাহে পরের অধীন। পিরীতি
বিষম জ্বরে, রহিতে না পারি ঘরে, ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥ নিশি দিশি
অবিরত, জাগিতে ঘুমাতে কত, প্রাণনাথ দেখিয়ে সদাই। জ্ঞানদাস বলে, আকুল
নয়ন জলে, তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ কৌরাগিনী॥

অরুণ-উদয় কালে,     ব্রজশিশু আসি মিলে,
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে,     আর দিঠি পথ পানে
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
সজনি, না জানি কি হয় প্রেমলাগি।
দারুণ পিরীতি পর-     বোধ না মানই,
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুলকামিনী     তাহে নব যৌবনী
আর তাহে পরের অধীন।
পিরীতি বিষম-শরে     রহিতে না পারি ঘরে
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত     জাগিতে ঘুমিতে কত
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
জ্ঞানদাস বলে     আকুল নয়নের জলে
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (প্রেম বিচার), ৩৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কৌ রাগিণী॥

অরুণ উদয় কালে     ব্রজ-শিশু আসি মিলে
বিপিন- পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে     আর দিঠি পথ পানে
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
সজনি না জানি কি হয় প্রেমলাগি।
দারুণ পিরীতি পর-     বোধ না মানই
কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুল-কামিনী     তাহে নব যৌবনী
আর তাহে পরের অধীন।
পিরীতি বিষম শরে     রহিতে না পারি ঘরে
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত     জাগিতে ঘুমিতে কত
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
জ্ঞানদাস বলে     আকুল নয়ান জলে
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ কৌ রাগিনী॥

অরুণ উদয় কালে     ব্রজশিশু আসি মিলে
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে     আর দিঠি পথ পানে
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
সজনি না জানি কি হয়ে প্রেম লাগি।
দারুণ পিরিতি মোর     পরবোধ নাহি মানে
কত চিতে নিবারিব আগি॥ ধ্রু॥
একে কুলকামিনি     তাহে নবযৌবনি
আর তাহে পরের অধীন।
বিষম পিরীতিশরে     রহিতে না পারি ঘরে
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত     জাগিতে ঘুমাতে কত
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
শুনি জ্ঞানদাস বলে     আকুল নয়ান-জলে
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত,“জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ কৌ রাগিনী॥

অরুণ-উদয়-কালে     ব্রজ-শিশু আসি মিলে
বিপিনে পয়াণ প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে     আর দিঠি পথ পানে
চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
সজনি না জানি কি হয়ে প্রেম লাগি।
দারুণ পিরিতি মোর     পরবোধ নাহি মানে
কত চিতে নিবারিব আগি॥ ধ্রু॥
একে কুল-কামিনি     তাহে নব-যৌবনি
আর তাহে পরের অধীন।
বিষম পিরিতি-শরে     রহিতে না পারি ঘরে
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত     জাগিতে ঘুমিতে কত
প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
শুনি জ্ঞানদাস বলে     আকুল নয়ান-জলে
তিল আধ থির নাহি পাই॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ উদয় কালে ব্রজশিশু আসি মিলে
      বিপিনে পয়ান প্রাণনাথ।
এক দিঠি গুরুজনে আর দিঠি পথ
      পানে চাহিয়ে পরাণ করি হাত॥
সজনি না জানি কি হয়ে প্রেম লাগি।
দারুণ পিরীতি মোর পরবোধ নাহি
      মানে কত চিতে নিবারিব আগি॥
একে কুলকামিনি তাহে নবযৌবনি
      আর তাহে পরের অধীন।
বিষম পিরীতিশরে রহিতে না পারি
      ঘরে ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ॥
নিশি দিশি অবিরত জাগিতে ঘুমাতে
      কত প্রাণনাথ সোঙরি সদাই।
শুনি জ্ঞানদাস বলে আকুল নয়ান জলে
      তিল আধ থির নাহি পাই॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^