কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শুনিয়া দেখিলুঁ দেখিয়া ভুলিলু
শুনিয়া দেখিনু দেখিয়া ভুলিনু
শুনিয়া দেখেনু দেখিয়া ভুলিনু
শুনিয়া দেখিলুঁ দেখিয়া ভুলিলুঁ

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতার পদকর্তা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত "শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি" গ্রন্থের, উনবিংশ ক্ষণদা---শুক্লা চতুর্থী, ১৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

শুনিয়া দেখিনু     দেখিয়া ভুলিনু
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি-বিচ্ছেদে     সহন না যায়
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই! পিরীতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম-কথা॥ ধ্রু॥
সবাই বোলে     পিরীতি-কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম নাগরের     পিরীতি-ঘুসীতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তোলাইনু
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি-বিয়াধি     যারে উপজয়
সে বুঝে না বুঝে আর॥
কেন হেন সই     পিরিতি করিনু
দেখিয়া কদম্ব-তলে।
জ্ঞান দাসে কহে     এমন পিরীতি
ছাড়িবে কাহার বোলে॥

এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ৪২৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মধ্যায়া অনুরাগো যথা॥
॥ গান্ধার রাগ যতি তালৌ॥

শুনিয়া দেখিলু দেখিয়া ভুলিলু ভুলিয়া পিরিতি কলুঁ।
পিরিতি বিচ্ছেদে নারহে নারহে জীবন ঝুরিয়া ঝুরিয়া মলুঁ॥ সদনী
কেবলে পিরিতি ভাল। শ্যাম হন্ধু সনে পিরিতি ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥ পিরিতি মিরিতি তৌলে তোলাইয়া
পিরিতি গুরুয়া ভার। পিরিতি বেয়াধি যারে উপজিল
সে নাকি জীয়এ আর॥ কুলবতি হৈয়া কুলে ডাঁড়াইয়া
যে জনা পিরিতি করে। সাজিয়া ওরসে আনল যেমন
আপুনি পুড়িয়া মরে॥ জীবনে মরেণ পিরিতি বেয়াধি হইল
যাহার সঙ্গ। জ্ঞান দাস বলে এমতি পিরিতি ভাবিতে
জীবন-ভঙ্গ॥

এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, গ্রন্থের ৭৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থটির আমাদের সংগ্রহের পি.ডি.এফ. কপিটির প্রায় সব পৃষ্ঠাই অপাঠ্য অথবা দুষ্পাঠ্য।

॥ শ্রীরাগ॥ শুনিয়া দেখিনু দেখিয়া ভুলিনু ভুলিয়া পিরীতি
কৈনু। পিরীতি বিচ্ছেদে জীবন সংশয় ঝুরিয়া ২ মৈনু॥ সই
সে পিরীতি দোসর ধাতা। বিধির বিধান সব করে আন
না শুনে ধরম কথা॥ ধ্রু॥ সভাই কহে পিরীতি কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল। শ্যামের পিরীতি ভাবিতে অন্তর
পাঁটুটিল কাল॥ পিরীতি কীরিতি দু@ তুলাইতে পিরীতি গুরুয়া
ভার। যাহার অন্তরে পিরীতি ব্যাধি সে জানে নাজানে
আর॥ কেনে হেন পিরীতি করিনু দেখিয়া কদম্বের
তলে। জ্ঞান দাস কহে কানুর পিরীতি ছাড়িবে কাহার
@লে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯১৯- নং পদসংখ্যা, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিলুঁ     দেখিয়া ভুলিলু
ভুলিয়া পিরিতি কৈলুঁ।
পিরিতি-বিচ্ছেদে     না রহে পরাণ
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥
সই পিরিতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম-কথা॥ ধ্রু॥
পিরিতি মিরিতি     তুলে তৌলাইলুঁ
পিরিতি গুরুয়া ভার।
পিরিতি-বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে বুঝে না বুঝে আর॥
সভাই কহয়ে     পিরিতি-কাহিনী
কে বলে পিরিতি ভাল।
কানুর পিরিতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে     পিরিতি-বেয়াধি
হইল যাহার অঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি
নিতুই নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ---সখী সম্বোধনে
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিনু,     দেখিয়া ভুলিনু,
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদে,     না রহে পরাণে,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম বন্ধু সনে,     পিরীতি করিয়া
পাঁজর ধরিয়া গেল ॥ ধ্রু॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইয়া,
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি,     যার উপজয়ে,
সে নাকি জীয়য়ে আর॥
সবাই কহয়ে     পিরীতি-কাহিনী,
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরিতি,     ভাবিতে ভাবিতে,
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে,     পিরীতি বেয়াধি,
হইল যাহার অঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     কানুর পিরীতি,
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিনু,     দেখিয়া ভুলিনু,
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদে,     না রহে পরাণে,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম বন্ধু সনে,     পিরীতি করিয়া
পাঁজর ধরিয়া গেল ॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইয়া,
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি,     যার উপজয়ে,
সে নাকি জীয়য়ে আর॥
সবাই কহয়ে     পিরীতি কাহিনী,
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরিতি,     ভাবিতে ভাবিতে,
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে,     পিরীতি বেয়াধি,
হইল যাহার অঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     কানুর পিরীতি,
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিনু, দেখিয়া ভুলিনু, ভুলিয়া
পিরীতি কৈনু। পিরীতি বিচ্ছেদে, না রহে
পরাণে, ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥ সই কে বলে
পিরীতি ভাল। শ্যাম বন্ধু সনে, পিরীতি
করিয়া, পাঁজর ধরিয়া গেল॥ পিরীতি
মিরিতি, তুলে তৌলাইয়া, পিরীতি গুরুয়া
ভার। পিরীতি বেয়াধি, যার উপজয়ে, সে
নাকি জীয়য়ে আর॥ সবাই কহয়ে, পিরীতি
কাহিনী, কে বলে পিরীতি ভাল। কানুর
পিরীতি, ভাবিতে ভাবিতে, পাঁজর ধসিয়া
গেল॥ জীবনে মরণে, পিরীতি বেয়াধি,
হইল যাহার অঙ্গ। জ্ঞানদাস কহে, কানুর
পিরীতি, নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিনু,     দেখিয়া ভুলিনু,
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদে,     না রহে পরাণে,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই, কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম বন্ধু সনে,     পিরীতি করিয়া
পাঁজর ধরিয়া গেল॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইয়া,
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি,     যার উপজয়ে,
সে নাকি জীয়য়ে আর॥
সবাই কহয়ে     পিরীতি-কাহিনী,
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরিতি,     ভাবিতে ভাবিতে,
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে,     পিরীতি বেয়াধি,
হইল যাহার অঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     কানুর পিরীতি,
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুনিয়া দেখিনু     দেখিয়া ভুলিনু
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদ     সহন না যায়
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই ! পিরীতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম কথা॥ ধ্রু॥
সবাই বোলয়ে     পিরীতি কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরীতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
পিরীতি মিরীতি     তূলে তোলাইনু
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি-বিয়াধি     যারে উপজয়
সে বুঝে না বুঝে আর॥
( কেন হেন সই     পিরীতি করিনু
দেখিয়া কদম্ব তলে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরীতি
ছাড়িবে কাহার বোলে॥ ) ৬

পাঠান্তর---
৬ - বন্ধনীর ভিতরকার অংশ সমুদ্র, তরু ও কী তে নাই। উহার স্থানে আছে--- জীবনে মরণে পিরিতি-বেয়াধি হইল যাহার সঙ্গ ( অঙ্গ---কী ও তরু ) জ্ঞানদাস কহে কানুর পিরীতি নিতুই নতুন রঙ্গ---তরু, কী জ্ঞানদাস বলে এমতি পিরীতি ভাবিতে জীবন ভঙ্গ---সমুদ্র।

উপরে---
তরু - পদকল্পতরু (সাহিত্য পরিষদ সংস্করণ),
সমুদ্র - রাধামোহন ঠাকুরের পদামৃত সমুদ্র (বহরমপুরের প্রথম সংস্করণ),
কী - কীর্ত্তনানন্দ ( বনোয়ারী লাল গোস্বামী সম্পাদিত )

টীকা ---
প্রথমে দূতীমুখে তাহার রূপগুণের কথা শুনিয়া এবং মূরলীর ধ্বনি শুনিয়া তাহাকে দেখিলাম। দেখিয়াই মজিলাম। তাই তাহার সঙ্গে প্রেম করিলাম । এখন সেই প্রেমের বিচ্ছেদ যে আর সহ্য করিতে পারিতেছি না। আমি কাঁদিয়া কাঁদিয়া মরিলাম। সখি ! প্রেম যেন এক স্বতন্ত্র বিধাতা, সে সমস্ত বিধান উলটাইয়া দেয় ( সব করে আন ), ধর্মকথা কানে তোলে না। সকলেই প্রেমের কাহিনী বলিয়া থাকে, কিন্তু কে বলে যে প্রেম করা ভাল ? আমার তো কানুর প্রেমের কথা ভাবিতে ভাবিতে বুকের পাঁজর একেবারে ভাঙ্গিয়া গেল। আমি প্রেম এবং মৃত্যু ( মিরিতি ) ওজন করিয়া দেখিলাম ; বুঝিলাম প্রেমেরই গুরুত্ব অধিক। প্রেমেরূপ ব্যাধি যাহার জন্মিয়াছে সেই বুঝে, অন্য ইহা বুঝিবে না। সখি ! তাহাকে কদমতলায় দেখিয়া কেন প্রেম করিলাম। শ্রীরাধার আক্ষেপ শুনিয়া জ্ঞানদাস বলিতেছেন কাহার কথায় এমন প্রেম ছাড়িবে?

তুলনীয় --- চণ্ডীদাস (পৃঃ ১১৬)
পিরীতি মিরীতি     এ দুই বচন
কে বলে পিরীতি ভাল।
হাসিতে হাসিতে     পিরিতি করিয়া
জনম কাঁদিতে গেল॥

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখেনু     দেখিয়া ভুলিনু
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদে     না রহে পরাণে
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই, কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম বন্ধু সনে     পিরীতি করিয়া
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইয়া
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে নাকি জীয়য়ে আর॥
সভাই কহয়ে     পিরীতি কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরীতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে     পিরীতি বেয়াধি
হইল যাহার সঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ১১১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ রূপানুরাগ
বংশী ধ্বনি শুনিয়া
॥ রাগিণী ধানশী - তাল দোঠুকি॥

শুনিয়া দেখিনু, দেখিয়া ভুলিনু, ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদে, না রহে পরাণ, ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥ সই কে
বলে পিরীতি ভাল। শ্যাম বঁধুর সনে, পিরীতি করিয়া, পাঁজর ধসিয়া
গেল॥ পিরীতি মিরিতি, তুলে তোলাইতে, পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি, যারে উপজয়ে, সে বুঝে না বুঝে আর॥ সবেই
কহয়ে, পিরীতি কাহিনী, কে বলে পিরীতি ভাল। কানুর পিরীতি,
ভাবিতে ভাবিতে, পাঁজর ধসিয়া গেল॥ জীবনে মরণে, পিরীতি
বেয়াধি, হইল যাহার অঙ্গে। জ্ঞানদাস কহে, কানুর পিরীতি,
নিতি নৌতুন রঙ্গে॥

এই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুনিয়া দেখিলুঁ     দেখিয়া ভুলিলুঁ
ভুলিয়া পিরিতি কৈলুঁ।
পিরিতি বিচ্ছেদে     পরাণ না রহে
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥

পিরিতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম কথা॥

পিরিতি মিরিতি     তুলে তৌলাইলুঁ
পিরিতি গুরুয়া ভার।
পিরিতি বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে বুঝে না বুঝে আর॥

সভাই কহয়ে     পিরিতি কাহিনী
কে বলে পিরিতি ভাল।
কানুর পিরিতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥

জীবনে মরণে     পিরিতি বেয়াধি
হইল যাহার অঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি,
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, পিরীতি-রহস্য, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিনু     দেখিয়া ভুলিনু
ভুলিয়া পিরীতি কৈনু।
পিরীতি বিচ্ছেদে     না রহে পরাণ
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম বন্ধু সনে     পিরীতি করিয়া
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইয়া
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে না কি জীয়য়ে আর॥
সবাই কহয়ে     পিরীতি কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরীতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে     পিরীতি বেয়াধি
হইল যাহার অঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     কানুর পিরীতি,
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (প্রেম বিচার), ৩৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিলুঁ     দেখিয়া ভুলিলুঁ
ভুলিয়া পিরীতি কৈলুঁ।
পিরীতি-বিচ্ছেদে     না রহে পরাণে
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥
সজনি কে বলে পিরীতি ভাল।
শ্যাম বন্ধু সনে     পিরীতি করিয়া
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইঞা
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি     যারে উপজিল
সে নাকি জীয়য়ে আর॥
কুলবতী হৈয়া     কুলে দাঁড়াইয়া
যে জনা পিরীতি করে।
সাজিয়া ও রসে     আনল যেমন
আপুনি পুড়িয়া মরে॥
জীবনে মরণে     পিরীতি বেয়াধি
হইল যাহার সঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     কানুর পিরীতি,
ভাবিতে জীবন ভঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধনে
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিলুঁ     দেখিয়া ভুলিলুঁ
ভুলিয়া পিরীতি কৈলুঁ।
পিরীতি-বিচ্ছেদে     না রহে পরাণ
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥
সই পিরিতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরমকথা॥ ধ্রু॥
পিরীতি মিরিতি     তুলে তৌলাইলুঁ
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি-বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে বুঝে না বুঝে আর॥
সভাই কহয়ে     পিরীতি কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরীতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে     পিরীতি-বেয়াধি
হইল যাহার সঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ ধানশী॥

শুনিয়া দেখিলুঁ     দেখিয়া ভুলিলুঁ
ভুলিয়া পিরিতি কৈলুঁ।
পিরিতি-বিচ্ছেদে     না রহে পরাণ
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥
সই পিরিতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম-কথা॥ ধ্রু॥
পিরিতি মিরিতি     তুলে তৌলাইলুঁ
পিরিতি গুরুয়া ভার।
পিরিতি-বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে বুঝে না বুঝে আর॥
সভাই কহয়ে     পিরিতি-কাহিনী
কে বলে পিরিতি ভাল।
কানুর পিরিতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে     পিরিতি-বেয়াধি
হইল যাহার সঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরিতি
নিতুই নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পীরিতি মাহাত্ম্য

শুনিয়া দেখিনু     দেখিয়া ভুলিনু
ভুলিয়া পীরিতি কৈনু।
পীরিতি বিচ্ছেদে     সহন না যায়
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈনু॥
সই পীরিতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম কথা॥ ধ্রু॥
সবাই বোলে     পীরিতি-কাহিনী
কে বলে পীরিতি ভাল।
শ্যাম নাগরের     পীরিতি ঘুষিতে
পাঁজর খসিয়া গেল॥
পীরিতি মিরিতি     তুলে তৌলাইনু
পীরিতি গুরুয়া ভার।
পীরিতি বিয়াধি     যার উপজয়
সে বুঝে না বুঝে আর॥
কেন হেন সই     পীরিতি করিনু
দেখিয়া কদম্বতলে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পীরিতি
ছাড়িলে কাহার বোলে॥

এই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ১৯০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শুনিয়া দেখিলুঁ     দেখিয়া ভুলিলুঁ
ভুলিয়া পিরীতি কৈলুঁ।
পিরীতি বিচ্ছেদে     না রহে পরাণ
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥
সই পিরীতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান     সব করে আন
না শুনে ধরম কথা॥
পিরীতি মিরীতি     তুলে তৌলাইলুঁ
পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি     যার উপজয়ে
সে বুঝে না বুঝে আর॥
সভাই কহয়ে     পিরীতি-কাহিনী
কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরীতি     ভাবিতে ভাবিতে
পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে     পিরীতি-বেয়াধি
হইল যাহার সঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     কানুর পিরীতি
নিতুই নৌতুন রঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুনিয়া দেখিলুঁ দেখিয়া ভুলিলুঁ
      ভুলিয়া পিরীতি কৈলুঁ।
পিরীতি বিচ্ছেদে না রহে পরাণ
      ঝুরিয়া ঝুরিয়া মৈলুঁ॥
সই পিরীতি দোসর ধাতা।
বিধির বিধান সব করে আন
      না শুনে ধরমকথা॥
পিরীতি মিরীতি তুলে তৌলাইলুঁ
      পিরীতি গুরুয়া ভার।
পিরীতি বেয়াধি যার উপজয়ে
      সে বুঝে না বুঝে আর॥
সভাই কহয়ে পিরীতি কাহিনী
      কে বলে পিরীতি ভাল।
কানুর পিরীতি ভাবিতে ভাবিতে
      পাঁজর ধসিয়া গেল॥
জীবনে মরণে পিরীতি বেয়াধি
      হইল যাহার সঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে কানুর পিরীতি
      নিতি নৌতুন রঙ্গ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^