কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে তথা
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা
কবি জ্ঞানদাস
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ) গ্রন্থের, ২৬৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ তোড়ী॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে তথা শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলু যে শ্যাম বরণ দে' তাহা বিনু আর কারু নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘনদে আগর জন ঝন ঝন শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চির অঙ্গে নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল মত্ত দাদুরি বোল কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঝা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে স্বপন দেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে “আমা কিনো বিকাইলু” বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ ভূষণের ভূষিণ অঙ্গ কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয় ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নিরসে বোল অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ---সবিস্তার, ১৪৪ নংপদসংখ্যা, ১০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ তোড়ী॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে তথা শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলু যে শ্যাম বরণ দে' তাহা বিনু আর কারু নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘনদে আগর জন ঝন ঝন শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চির অঙ্গে নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল মত্ত দাদুরি বোল কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঝা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে স্বপন দেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে “আমা কিনো বিকাইলু” বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ ভূষণের ভূষিণ অঙ্গ কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয় ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নিরসে বোল অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ---সবিস্তার, ১৪৪ নংপদসংখ্যা, ১০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অথ স্বপ্নে দর্শন।
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া-গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
“আমা কিন বিকাইলুঁ” বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া-গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
“আমা কিন বিকাইলুঁ” বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ পদং॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা সুন সুন পরানের সই।
সপনে দেখিল জেই শ্যাম১ বরণ দেই তাহা বিনু আর কারু নই॥
রজনী শাঙন [ঘন] ঘন দেয়া গরজন রুন রুন শবদে বরিষে২।
পালঙ্কে সুতিয়ে রঙ্গে বিগলিত সব অঙ্গে নিন্দ জাই মনের হরিষে৩॥
শিখরে শিখণ্ডীরোল মত্ত দাদুরিরোল কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি জা ঝিনিকি বাজে ডাহুকি সে গরজে সপন দেখিনু হেনকালে॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জেন ইন্দু মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গাএ হাত দিএ ছলে আমায় কেন বিকাইনু বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গি ভূষণে ভূষণ অঙ্গী কাম মোহে নআনের কোনে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাঢ়িয়া লয় ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল অধরে অধর পরসিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল জ্ঞান৪ দাস ভাবিতে লাগিল॥
পুথিতে প্রাপ্ত . . . ১ - সাম, ২ - বরিসে, ৩ - হরিসে, ৪ - গ্রান ।
এই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংকলন” এর ২৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ পদং॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা সুন সুন পরানের সই।
সপনে দেখিল জেই শ্যাম১ বরণ দেই তাহা বিনু আর কারু নই॥
রজনী শাঙন [ঘন] ঘন দেয়া গরজন রুন রুন শবদে বরিষে২।
পালঙ্কে সুতিয়ে রঙ্গে বিগলিত সব অঙ্গে নিন্দ জাই মনের হরিষে৩॥
শিখরে শিখণ্ডীরোল মত্ত দাদুরিরোল কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি জা ঝিনিকি বাজে ডাহুকি সে গরজে সপন দেখিনু হেনকালে॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জেন ইন্দু মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গাএ হাত দিএ ছলে আমায় কেন বিকাইনু বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গি ভূষণে ভূষণ অঙ্গী কাম মোহে নআনের কোনে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাঢ়িয়া লয় ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল অধরে অধর পরসিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল জ্ঞান৪ দাস ভাবিতে লাগিল॥
পুথিতে প্রাপ্ত . . . ১ - সাম, ২ - বরিসে, ৩ - হরিসে, ৪ - গ্রান ।
এই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংকলন” এর ২৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কার নই॥
রজনী শাঙন ঘন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিজা ঝি ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস সিন্ধু, মুখ ছটা যেন ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন, বিকাইনু বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়নের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞান দাস ভাবিতে লাগিল॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কার নই॥
রজনী শাঙন ঘন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিজা ঝি ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস সিন্ধু, মুখ ছটা যেন ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন, বিকাইনু বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়নের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞান দাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ি॥
(স্বপ্ন দর্শন)
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥ ধ্রু
রজনী শাঙন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু, মুখ ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা সে ভূরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভোলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
(স্বপ্ন দর্শন)
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥ ধ্রু
রজনী শাঙন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু, মুখ ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা সে ভূরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভোলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, সংগীত-সার-সংগ্রহ, ১ম খণ্ড, ১৭১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা,
তোমারে কহিয়ে এথা,
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে,
শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥
রজনী শাঙন,
ঘন দেয়া গরজন.
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে,
বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল,
মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে,
ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ,
হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত,
যে করে দারুণ চিত,
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু,
মুখ ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে,
গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা ভূরুর ভঙ্গ,
ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়,
পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভোলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল,
মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল,
লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা,
তোমারে কহিয়ে এথা,
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে,
শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥
রজনী শাঙন,
ঘন দেয়া গরজন.
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে,
বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল,
মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে,
ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ,
হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত,
যে করে দারুণ চিত,
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু,
মুখ ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে,
গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা ভূরুর ভঙ্গ,
ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়,
পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভোলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল,
মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল,
লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ তুড়ী॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে
এথা, শুন শুন পরাণের সই। স্বপনে
দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে, তাহা বিণু
আর কার নই॥ রজনী শাঙন, ঘন দেয়া
গরজন, রিমি ঝিমি শবদে বরিষে। পালঙ্কে
শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে, নিন্দ যাই
মনের হরিষে॥ শিখরে শিখণ্ড রোল,
মত্ত দাদুরি বোল, কোকিল কুহরে কতু-
হলে। ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকি
সে গরজে, স্বপন দেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী। দেখিয়া তাহার
রীত, যে করে দারুণ চিত, ধিক্ রহু কুলের
কামিনী॥ রূপে গুণে রসসিন্ধু, মুখ ছটা
যেন ইন্দু, মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥ কিবা ভূরুর
ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ, কাম মোহে
নয়ানের কোণে। হাসি হাসি কথা কয়,
পরাণ কাড়িয়া লয়, ভোলাইতে কত রঙ্গ
জানে॥ রসাবেশে দেই কোল, মুখে না
নিঃসরে বোল, অধরে অধর পরশিল। অঙ্গ
অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল, জ্ঞানদাস
ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ তুড়ী॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে
এথা, শুন শুন পরাণের সই। স্বপনে
দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে, তাহা বিণু
আর কার নই॥ রজনী শাঙন, ঘন দেয়া
গরজন, রিমি ঝিমি শবদে বরিষে। পালঙ্কে
শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে, নিন্দ যাই
মনের হরিষে॥ শিখরে শিখণ্ড রোল,
মত্ত দাদুরি বোল, কোকিল কুহরে কতু-
হলে। ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকি
সে গরজে, স্বপন দেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী। দেখিয়া তাহার
রীত, যে করে দারুণ চিত, ধিক্ রহু কুলের
কামিনী॥ রূপে গুণে রসসিন্ধু, মুখ ছটা
যেন ইন্দু, মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥ কিবা ভূরুর
ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ, কাম মোহে
নয়ানের কোণে। হাসি হাসি কথা কয়,
পরাণ কাড়িয়া লয়, ভোলাইতে কত রঙ্গ
জানে॥ রসাবেশে দেই কোল, মুখে না
নিঃসরে বোল, অধরে অধর পরশিল। অঙ্গ
অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল, জ্ঞানদাস
ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥ ধ্রু
রজনী শাঙন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু, মুখ-ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা ভূরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভোলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল,
মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥ ধ্রু
রজনী শাঙন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতুহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু, মুখ-ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা ভূরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভোলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল,
মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৭৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ গৌরী - তেওট॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা,
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপন দেখিলু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কারু নই॥
রজনী শাঙন ঘন, ঘন দেয়া গরজন,
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঝা ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিলুঁ হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু, মুখ-ছটা জিনি ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেই ছলে,
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভূরূর ভঙ্গ, ভূষণের ভূষণ অঙ্গ,
কাম মোহে নয়নের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
॥ গৌরী - তেওট॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা,
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপন দেখিলু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কারু নই॥
রজনী শাঙন ঘন, ঘন দেয়া গরজন,
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঝা ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন সেখিলুঁ হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু, মুখ-ছটা জিনি ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেই ছলে,
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভূরূর ভঙ্গ, ভূষণের ভূষণ অঙ্গ,
কাম মোহে নয়নের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৬৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীরঅঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
মরম পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
“আমা কিন বিকাইলু” বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীরঅঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
মরম পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
“আমা কিন বিকাইলু” বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
টীকা---
এটি পদাবলী-সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রত্ন। ইহাকে গদ্যে বা পদ্যে রূপান্তরিত করিতে গেলে ইহার সৌন্দর্য্য যেন কর্পূরের মতন উড়িয়া যায়।তরুণী রাধিকার তখনও শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলন ঘটে নাই, শুঘু তাঁহার রূপ দেখিয়া তুলিয়াছেন। এমন অবস্থায় দিনরাক তিনি যাহা সমস্ত অন্তর দিয়া কামনা করেন, তাহাই স্বপ্নে দেখিলেন এবং দেখিয়া এতই আনন্দিত হইলেন যে মর্ম্মসখীকে তাহা না বলিয়া পারিলেন না।
রাধা কি ভাবে পালঙ্কে শয়ন করিয়া স্বপ্ন দেখিলেন তাহার বর্ণনা করিতে যাইয়া কবি বলিতেছেন --- শ্রাবণ মাসের রাত্রি, থাকিয়া থাকিয়া মেঘের গর্ঝন শুনা যাইতেছে, আর রিমি-ঝিমি শব্দ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে। এমন বাদলা রাতে রাধিকা মনের আনন্দে পালঙ্কে শুইয়া ঘুমাইতেছেন। নিদ্রায় তিনি এমন অচেতন যে গায়ের কাপড় খুলিয়া গিয়াছে তাহাও বুঝিতে পারেন নাই। পাহাড়ের কোল ঘেঁসিয়া বুঝি তাঁহার বাড়ী (বৃষভানুর বাড়ী বর্ষাণে একটি ছোট পাহাড় আছে), তাই বলিতেছেন পাহাড়ের চূড়ায় ময়ূর ডাকিতেছে, এদিকে ভেকেরা যেন মত্ত হইয়া শব্দ করিতেছে, আবার এমন বর্ষার রাত্রিতে কোকিলও কৌতুকের সহিত গান করিতেছে (বর্ষাকালে কোকিল সাধারণতঃ ডাকে না, কদাচিৎ ডাকিলেও রাত্রিতে কখনও ডাকে না---রাত্রিশেষে, ঊষাকালে তাহারা ডাকে। কবি ময়ূর ও কেকিলের ডাকের কথা বলিয়া ইঙ্গিত করিতেছেন যে এই স্বপ্ন রাধা শেষ রাত্রিতে দেখিতেছিলেন, এবং ভোরের স্বপ্ন বৃথা হয় না) বৃষ্টি ও মেঘের গর্জ্জনের সঙ্গে ময়ূর, কোকিল ও ভেকের কোলাহল, তাহার উপর আবার ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, অবিশ্রান্ত ঝিল্লীরব ও ডাহুকপাখীর গর্জ্জন এক বিচিত্র ঐক্যতান সৃষ্টি করিয়াছে। এই পটভূমিকায় রাধা স্বপ্নে দেখিলেন শ্যামলবর্ণ দেহধারী এক পুরুষ, সে পুরুষ তিনিই যাঁহাকে দেখিয়া রাধা মনপ্রাণ সমর্পণ করিয়াছেন---“তাহা বিনু আর কারো নই”। সেই পুরুয বাহিরে থাকিলেন না, মর্ম্মের ভিতর প্রবেশ করিলেন, রাধার হৃদয়ে তাঁহার দেহের ছোঁয়া লাগিল, রাধার কানে শুধু তাঁহার কথা বাজিতে লাগিল। তাহার আচরণ দেখিয়া মন যে কেমন করে। কিন্তু মনকে শাসন করিতে হয়, কেননা রাধা যে কুলের বৌ ; কিন্তু ধিক্ কুলকে ; কিন্তু ধিক্ কুলকে ; মনকে কি ফিরাইতে ইচ্ছা করে ? (এই দ্বন্দ্বের জন্য মনকে দারুণ বলা হইয়াছে)। সেই পুরুষ রূপেরও সমুদ্র, গুণেরও সাগর ; তাহার মুখের আভা চন্দ্রকে পরাজিত করে। গলায় তাহার মালতীর মালা দুলিতেছে। রাধার পদতলে বসিয়া সে ছল করিয়া তাঁহার গায়ে হাত দেয় আর বলে “আমাকে কিনিয়া লও, আমি তোমার কাছে বিনামূল্যে বিকাইলাম”। তাহার ভ্রূভঙ্গীকি অপূর্ব্ব, দেহে কত অলঙ্কার তাহার কটাক্ষে স্বয়ং কামদেবও মোহিত হন। হাসিয়া হাসিয়া সে কথা বলে, প্রাণমন যেন কাড়িয়া লয় (দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না) মন ভোলানো কত রঙ্গ তার জানা আছে ! রসের আবেশে সে আলিঙ্গন দিল ; রাধা বাধা দিবার মতন কোন কথা বলিতে পারিলেন না। তাহার অধরের স্পর্শ নিজের অধরের উপর অনুভব করিলেন। তাহার অঙ্গ অবশ হইয়া গেল, রাধার কুলগৌরব গেল, কিন্তু লজ্জা করিবার বা ভয় করিবার শক্তি পর্য্যন্ত বিলুপ্ত হইল ; জ্ঞানদাস এই অপূর্ব্বকথা চিন্তা করিতে লাগিলেন।
ভণিতাটির মধ্যে যেন একটা আকস্মিকতা, অথবা পৌর্ব্বাপর্ষবিহীনতা লক্ষ্য করা যায়।
এইপদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
এটি পদাবলী-সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রত্ন। ইহাকে গদ্যে বা পদ্যে রূপান্তরিত করিতে গেলে ইহার সৌন্দর্য্য যেন কর্পূরের মতন উড়িয়া যায়।তরুণী রাধিকার তখনও শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলন ঘটে নাই, শুঘু তাঁহার রূপ দেখিয়া তুলিয়াছেন। এমন অবস্থায় দিনরাক তিনি যাহা সমস্ত অন্তর দিয়া কামনা করেন, তাহাই স্বপ্নে দেখিলেন এবং দেখিয়া এতই আনন্দিত হইলেন যে মর্ম্মসখীকে তাহা না বলিয়া পারিলেন না।
রাধা কি ভাবে পালঙ্কে শয়ন করিয়া স্বপ্ন দেখিলেন তাহার বর্ণনা করিতে যাইয়া কবি বলিতেছেন --- শ্রাবণ মাসের রাত্রি, থাকিয়া থাকিয়া মেঘের গর্ঝন শুনা যাইতেছে, আর রিমি-ঝিমি শব্দ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে। এমন বাদলা রাতে রাধিকা মনের আনন্দে পালঙ্কে শুইয়া ঘুমাইতেছেন। নিদ্রায় তিনি এমন অচেতন যে গায়ের কাপড় খুলিয়া গিয়াছে তাহাও বুঝিতে পারেন নাই। পাহাড়ের কোল ঘেঁসিয়া বুঝি তাঁহার বাড়ী (বৃষভানুর বাড়ী বর্ষাণে একটি ছোট পাহাড় আছে), তাই বলিতেছেন পাহাড়ের চূড়ায় ময়ূর ডাকিতেছে, এদিকে ভেকেরা যেন মত্ত হইয়া শব্দ করিতেছে, আবার এমন বর্ষার রাত্রিতে কোকিলও কৌতুকের সহিত গান করিতেছে (বর্ষাকালে কোকিল সাধারণতঃ ডাকে না, কদাচিৎ ডাকিলেও রাত্রিতে কখনও ডাকে না---রাত্রিশেষে, ঊষাকালে তাহারা ডাকে। কবি ময়ূর ও কেকিলের ডাকের কথা বলিয়া ইঙ্গিত করিতেছেন যে এই স্বপ্ন রাধা শেষ রাত্রিতে দেখিতেছিলেন, এবং ভোরের স্বপ্ন বৃথা হয় না) বৃষ্টি ও মেঘের গর্জ্জনের সঙ্গে ময়ূর, কোকিল ও ভেকের কোলাহল, তাহার উপর আবার ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, অবিশ্রান্ত ঝিল্লীরব ও ডাহুকপাখীর গর্জ্জন এক বিচিত্র ঐক্যতান সৃষ্টি করিয়াছে। এই পটভূমিকায় রাধা স্বপ্নে দেখিলেন শ্যামলবর্ণ দেহধারী এক পুরুষ, সে পুরুষ তিনিই যাঁহাকে দেখিয়া রাধা মনপ্রাণ সমর্পণ করিয়াছেন---“তাহা বিনু আর কারো নই”। সেই পুরুয বাহিরে থাকিলেন না, মর্ম্মের ভিতর প্রবেশ করিলেন, রাধার হৃদয়ে তাঁহার দেহের ছোঁয়া লাগিল, রাধার কানে শুধু তাঁহার কথা বাজিতে লাগিল। তাহার আচরণ দেখিয়া মন যে কেমন করে। কিন্তু মনকে শাসন করিতে হয়, কেননা রাধা যে কুলের বৌ ; কিন্তু ধিক্ কুলকে ; কিন্তু ধিক্ কুলকে ; মনকে কি ফিরাইতে ইচ্ছা করে ? (এই দ্বন্দ্বের জন্য মনকে দারুণ বলা হইয়াছে)। সেই পুরুষ রূপেরও সমুদ্র, গুণেরও সাগর ; তাহার মুখের আভা চন্দ্রকে পরাজিত করে। গলায় তাহার মালতীর মালা দুলিতেছে। রাধার পদতলে বসিয়া সে ছল করিয়া তাঁহার গায়ে হাত দেয় আর বলে “আমাকে কিনিয়া লও, আমি তোমার কাছে বিনামূল্যে বিকাইলাম”। তাহার ভ্রূভঙ্গীকি অপূর্ব্ব, দেহে কত অলঙ্কার তাহার কটাক্ষে স্বয়ং কামদেবও মোহিত হন। হাসিয়া হাসিয়া সে কথা বলে, প্রাণমন যেন কাড়িয়া লয় (দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না) মন ভোলানো কত রঙ্গ তার জানা আছে ! রসের আবেশে সে আলিঙ্গন দিল ; রাধা বাধা দিবার মতন কোন কথা বলিতে পারিলেন না। তাহার অধরের স্পর্শ নিজের অধরের উপর অনুভব করিলেন। তাহার অঙ্গ অবশ হইয়া গেল, রাধার কুলগৌরব গেল, কিন্তু লজ্জা করিবার বা ভয় করিবার শক্তি পর্য্যন্ত বিলুপ্ত হইল ; জ্ঞানদাস এই অপূর্ব্বকথা চিন্তা করিতে লাগিলেন।
ভণিতাটির মধ্যে যেন একটা আকস্মিকতা, অথবা পৌর্ব্বাপর্ষবিহীনতা লক্ষ্য করা যায়।
এইপদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥
রজনী শাঙন, ঘন দেয়া গরজন,
রিমি ঝিমি শরদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চির অঙ্গে,
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন দেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয় লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস সিন্ধু, মুখ-ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা ভূরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল,
মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা, তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে, শ্যামল বরণ দে,
তাহা বিণু আর কার নই॥
রজনী শাঙন, ঘন দেয়া গরজন,
রিমি ঝিমি শরদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চির অঙ্গে,
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল, মত্ত দাদুরি বোল,
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝি ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকী সে গরজে,
স্বপন দেখিনু হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয় লাগল লেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত,
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস সিন্ধু, মুখ-ছটা যেন ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে, গায়ে হাত দেয় ছলে,
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
কিবা ভূরুর ভঙ্গ, ভূষণে ভূষিত অঙ্গ,
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল,
মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
[ স্বপ্নে দর্শন ]
তুড়ি
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেই গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিঁদ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁঝা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহুঁ কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
‘আমা কিন, বিকাইলুঁ’ বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে না নিঃসরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
তুড়ি
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেই গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিঁদ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁঝা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহুঁ কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
‘আমা কিন, বিকাইলুঁ’ বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে না নিঃসরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনা আর কারু নই॥
রজনী শাঙন ঘন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে,
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল, মত্ত দাদুরি-বোল,
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁঝা ঝিনিকি বাজে, ডাহুকি সে ঘন গাজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল নেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে,
আমা কিন, বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ, ভূষণের ভূষণ অঙ্গ,
কাম মোহে নয়নের কোণে।
হাসি’ হাসি’ কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনা আর কারু নই॥
রজনী শাঙন ঘন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে,
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল, মত্ত দাদুরি-বোল,
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁঝা ঝিনিকি বাজে, ডাহুকি সে ঘন গাজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল নেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত, যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু,
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে,
আমা কিন, বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ, ভূষণের ভূষণ অঙ্গ,
কাম মোহে নয়নের কোণে।
হাসি’ হাসি’ কথা কয়, পরাণ কাড়িয়া লয়,
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল, মুখে না নিঃসরে বোল,
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল, লাজ ভয় মান গেল,
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
তুড়ী
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে শ্যামল বরণ দেহ
তাহা বিনু আর কারো নই॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহুঁ কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিনু যে শ্যামল বরণ দেহ
তাহা বিনু আর কারো নই॥
মরমে পৈঠল সেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ,
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহুঁ কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইনু বোলে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
স্বপ্নে কৃষ্ণদর্শন
সখীর প্রতি শ্রীরাধার উক্তি
তুড়ি
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ডরোল মত্ত দাদুরীবোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁঝা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সঘনে গাজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ মরমে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
ভূষণের-ভূষণ অঙ্গ কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে না নিঃসরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
সখীর প্রতি শ্রীরাধার উক্তি
তুড়ি
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে হেথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ডরোল মত্ত দাদুরীবোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁঝা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সঘনে গাজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ মরমে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
ভূষণের-ভূষণ অঙ্গ কিবা সে ভুরুর ভঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে না নিঃসরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ওসম্পাদিত “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ. ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখীর প্রতি শ্রীরাধার উক্তি
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া-গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সঘনে গাজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ মরমে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে
“আমা কিন বিকাইলুঁ” বোলে॥
ভূষণ-ভূষণ অঙ্গ কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
॥ তুড়ি॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া-গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সঘনে গাজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ মরমে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাত দেই ছলে
“আমা কিন বিকাইলুঁ” বোলে॥
ভূষণ-ভূষণ অঙ্গ কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ৯৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
স্বপ্নে মিলন
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া-গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া-গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড-রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁজা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক্ রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ ভয় মান গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পূর্বরাগ
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কার নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঞ্জা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ মান ভয় গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কার নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল মত্ত দাদুরী-বোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঞ্জা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে গরজে
স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
মরমে পৈঠল সেহ হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রস-সিন্ধু মুখ-ছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে গায়ে হাত দেই ছলে
আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
কিবা সে ভুরূর ভঙ্গ ভূষণ-ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ মান ভয় গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৪৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল মত্ত দাদুরীবোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঞ্জা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে ঘন
গাজে স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ মরমে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাতে দেই
ছলে আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
ভূষণের ভূষণ অঙ্গ কিবা সে ভুরুর
ভঙ্গ কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া
লয় ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে না নিঃসরে
বোল অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ মান ভয় গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
*********************
মনের মরম কথা তোমারে কহিয়ে এথা
শুন শুন পরাণের সই।
স্বপনে দেখিলুঁ যে শ্যামল বরণ দে
তাহা বিনু আর কারো নই॥
রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শয়ন রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে
নিন্দ যাই মনের হরিষে॥
শিখরে শিখণ্ড রোল মত্ত দাদুরীবোল
কোকিল কুহরে কুতূহলে।
ঝিঞ্জা ঝিনিকি বাজে ডাহুকী সে ঘন
গাজে স্বপন দেখিলুঁ হেন কালে॥
নয়নে পৈঠল সেহ মরমে লাগল লেহ
শ্রবণে ভরল সেই বাণী।
হেরিয়া তাহার রীত যে করে দারুণ চিত
ধিক রহু কুলের কামিনী॥
রূপে গুণে রসসিন্ধু মুখছটা জিনি ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে পায়ে হাতে দেই
ছলে আমা কিন বিকাইলুঁ বোলে॥
ভূষণের ভূষণ অঙ্গ কিবা সে ভুরুর
ভঙ্গ কাম মোহে নয়ানের কোণে।
হাসি হাসি কথা কয় পরাণ কাড়িয়া
লয় ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে॥
রসাবেশে দেই কোল মুখে না নিঃসরে
বোল অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশ ভেল লাজ মান ভয় গেল
জ্ঞানদাস ভাবিতে লাগিল॥
*********************
