কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি
ঘর নহে ঘোর হেন ঘরের বসতি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯৪৭- নং পদসংখ্যা, ১৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোরে পতির পিরিতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরিতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না উবরে পুণভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস বিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধান্দি।
তিলে কতবার দেখোঁ স্বপন-সমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ --- সখী সম্বোধনে
॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না রবে পুন ভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস নিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধাঁদি।
তিলে কতবার দেখি স্বপন সমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না রবে পুন ভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস নিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধাঁদি।
তিলে কতবার দেখি স্বপন সমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়। কানুর
পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥ সখি মোর
নব অনুরাগে। পরবশ জীউ না রবে পুন
ভাগে॥ আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে
চিতে সে রস নিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধাঁদি।
তিলে কতবার দেখি স্বপন সমাধি॥ জ্ঞানৃ
দাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ। মনের
মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না রবে পুন ভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস নিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধাঁদি।
তিলে কতবার দেখি স্বপনসমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চণ্ডীদাসের অনুসরণে জ্ঞানদাস

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরিতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরিতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না উবরে পুণভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস বিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধান্দি।
তিলে কতবার দেখোঁ স্বপন-সমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

টীকা---
পরবশ জীউ না উবয়ে পূণভাগে--- আমার প্রাণ পরের বশ, আমার পূণ্যফলে সেই প্রাণ পরের হাত হইতে ফিরিয়া আসে না ( উবয়ে--- ফিরে )।
আঁখি রৈয়া আঁখে নহে ইত্যাদি --- সে চোখের সামনে থাকিয়াও, শুধু বাহিরের চোখে লাগিয়া থাকে না, সর্বদা হৃদয়ের মধ্যে থাকে।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি, মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না রবে পুন ভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সেরস নিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধাঁদি।
তিলে কতবার দেখি স্বপনসমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরণ কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৪১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঘর হেন নহে মোর ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না উরবে পুন ভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে রহে সদা রহে চিতে।
সে রস নীরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি কান্দি।
তিলে কতবার দেখি স্বপন সমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

ঘর নহে ঘোর হেন ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরিতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না উবরে পুর্ণভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস বিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধান্দি।
তিলে কতবার দেখোঁ স্বপনসমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঘর নহে ঘোর হেন ঘরের বসতি।
বিষ হেন লাগে মোর পতির পিরীতি॥
বিরলে ননদী মোরে যতেক বুঝায়।
কানুর পিরীতি বিনে আন নাহি ভায়॥
সখি মোর নব অনুরাগে।
পরবশ জীউ না উবরে পুণভাগে॥
আঁখে রৈয়া আঁখে নহে সদা রহে চিতে।
সে রস বিরস নহে জাগিতে ঘুমিতে॥
এক কথা লাখ হেন মনে বাসি ধান্দি।
তিলে কতবার দেখোঁ স্বপনসমাধি॥
জ্ঞানদাস কহে ভাল ভাবে পড়িয়াছ।
মনের মরম কথা কারে জানি পুছ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^