কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
যাহার লাগিয়া কৈলুঁ কুলের লাঞ্ছনা
যাহার লাগিয়া কৈলু কুলের লাঞ্ছনা
যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯৫৯- নং পদসংখ্যা, ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈলুঁ কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিবে দেহে গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িলুঁ গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
সজনি নিবেদলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহল সব গোকুল নগরে॥ ধ্রু॥
তিলেকে সে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখল-জাতি ভুলে পর-বোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঁঝের বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ১৮২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা। কত না সহিবে দেহে গুরুর গঞ্জনা॥
জার লাগি ছাড়িনু গৃহের জত সুখ। না জানি কি লাগি এবে সে জন বিমুখ॥
সুন সুন সজনি গো নিবেদিনু তোরে। কলঙ্ক রহিল মোর গোকুলনগরে॥
তিলেকে সে তেয়াগিনু পতি ক্ষুরধার। শ্রবণে না সুনল ধরমবিচার॥
অবলা অখল জাতি ভুলি পরবোলে। অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঝবেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজনবোল। সতীর সমাজে দাড়াইতে হইনু চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়। প্রেম পরাভব দুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ---সখী সম্বোধনে
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরু গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িনু গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
স্বজনি নিবেদন তোরে।
কলঙ্ক রহিল সব গোকুল নগরে॥ ধ্রু।
তিলেকে সে তেয়াগিনু পতি খুরধার।
শ্রবণে না শুনলু ধরম বিচার॥
অবলা অখলা জাতি ভুলে পরবোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঁজ বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈনু চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম পরাভব সুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরু গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িনু গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
স্বজনি নিবেদন তোরে।
কলঙ্ক রহিল সব গোকুল নগরে॥
তিলেকে সে তেয়াগিনু পতি খুরধার।
শ্রবণে না শুনলু ধরম বিচার॥
অবলা অখলা জাতি ভুলে পরবোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঁজ বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈনু চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম পরাভব সুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরু-গঞ্জনা॥ যার
লাগি ছাড়িনু গৃহের যত সুখ। না জানি
কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥ সজনি
নিবেদন তোরে। কলঙ্ক রহিল সব গোকুল
নগরে॥ তিলেকে সে তেয়াগিনু পতি
খুরধার। শ্রবণে না শুনলু ধরম বিচার॥
অবলা অখলা জাতি ভুলে পরবোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঁজ বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন বোল। সতীর
সমাজে দাঁড়াইতে হৈনু চোর॥ জ্ঞানদাস
কহে ইথে কেমন উপায়। প্রেম পরাভব
সুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরু-গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িনু গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
সজনি, নিবেদন তোরে।
কলঙ্ক রহিল সব গোকুলনগরে॥ ধ্রূ
তিলেক সে তেয়াগিনু পতি খুরধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখলা জাতি ভুলে পরবোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঁজ বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈনু চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম পরাভব সুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈনু কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরু-গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িনু গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
সজনি, নিবেদন তোরে
কলঙ্ক রহিল সব গোকুলনগরে॥ ধ্রু
তিলেক সে তেয়াগিনু পতি খুরধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখলা জাতি ভুলে পরবোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভাইল সাঁজ বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈনু চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম-পরাভব সুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈলুঁ কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিবে দেহে গুরুর গঞ্জনা॥
সজনি নিবেদলুঁ তোঁরে।
কলঙ্ক রহিল সব গোকুলনগরে॥
তিলেক সে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখলা জাতি ভুলে পর বোলে।
অনেক সাধের দীপ নিভা সাঁজ বেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমনে উপায়।
প্রেম-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধনে
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈলুঁ কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িলুঁ গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
সজনি নিবেদলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহল সব গোকুল নগরে॥
তিলেকে সে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরমবিচার॥
অবলা অখলজাতি ভুলে পরবোলে।
সাধের প্রদীপ নিভাইল সাঁঝবেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজনবোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম পরাভব দুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিয়া কৈলু কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিল দেহে গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িলুঁ গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
সজনি নিবেদলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহল সব গোকুল নগরে॥
তিলেকে সে তেয়াগিলুঁ পতি খুর-ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরম-বিচার॥
অবলা অখল-জাতি ভুলে পর-বোলে।
সাধের প্রদীপ নিভাইল সাঝবেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজন-বোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম-পরাভব-দুখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৪৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যাহার লাগিয়া কৈলুঁ কুলের লাঞ্ছনা।
কত না সহিব দেহে গুরুর গঞ্জনা॥
যার লাগি ছাড়িলুঁ গৃহের যত সুখ।
না জানি কি লাগি এবে সে জনা বিমুখ॥
সজনি নিবেদলুঁ তোরে।
কলঙ্ক রহল সব গোকুল নগরে॥
তিলেকে সে তেয়াগিলুঁ পতি খুর ধার।
শ্রবণে না শুনলুঁ ধরমবিচার॥
অবলা অখলজাতি ভুলে পরবোলে।
সাধের প্রদীপ নিভাইল সাঝবেলে॥
দুখের উপরে দুখ পরিজনবোল।
সতীর সমাজে দাঁড়াইতে হৈলুঁ চোর॥
জ্ঞানদাস কহে ইথে কেমন উপায়।
প্রেম-পরাভব দুখ সহনে না যায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^