কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা
এ সখি হাম সে কুলবতী রামা
কবি জ্ঞানদাস
এ সখি হাম সে কুলবতী রামা
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯৬২- নং পদসংখ্যা, ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেল কেতকি ফূলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝূরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি- মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর-পতিআশ॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেল কেতকি ফূলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝূরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি- মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর-পতিআশ॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---সখী সম্বোধনে
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম ছায়া পায়লু,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিনু মালতী, বিহি কৈল বিপরীত,
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন, দৈবে মিলায়ল,
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল,
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন কিয়ে হরি,
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি, কোন টুটায়ল,
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত, কান্দি গোঙায়ব,
কাহারে করিব বিশয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে,
যে করে পর প্রীতি আশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম ছায়া পায়লু,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিনু মালতী, বিহি কৈল বিপরীত,
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন, দৈবে মিলায়ল,
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল,
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন কিয়ে হরি,
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি, কোন টুটায়ল,
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত, কান্দি গোঙায়ব,
কাহারে করিব বিশয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে,
যে করে পর প্রীতি আশ॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম ছায়া পায়লু,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিনু মালতী, বিহি কৈল বিপরীত,
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন, দৈবে মিলায়ল,
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল,
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন কিয়ে হরি,
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি, কোন টুটায়ল,
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত, কান্দি গোঙায়ব,
কাহারে করিব বিশয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে,
যে করে পর প্রীতি আশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম ছায়া পায়লু,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিনু মালতী, বিহি কৈল বিপরীত,
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন, দৈবে মিলায়ল,
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল,
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন কিয়ে হরি,
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি, কোন টুটায়ল,
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত, কান্দি গোঙায়ব,
কাহারে করিব বিশয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে,
যে করে পর প্রীতি আশ॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম ছায়া পায়লু,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥ আছিনু মালতী,
বিহি কৈল বিপরীত, ভৈ গেল কেতকী
ফুলে। কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥ যব দুহুঁ দরশন,
দৈবে মিলায়ল, কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল, দুহুঁ
ভেল পন্থক চোর॥ দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন
কিয়ে হরি, বাম নয়ন করি আধা। গোপত
পিরীতি খানি, কোন টুটায়ল, মঝু মনে
লাগল ধাঁদা॥ কান্দিব রে কত, কান্দি
গোঙায়ব, কাহারে করিব বিশয়াস। জ্ঞান-
দাস কহ, ধিক রহু জীবনে, যে করে পর
প্রীতি আশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম ছায়া পায়লু,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥ আছিনু মালতী,
বিহি কৈল বিপরীত, ভৈ গেল কেতকী
ফুলে। কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥ যব দুহুঁ দরশন,
দৈবে মিলায়ল, কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল, দুহুঁ
ভেল পন্থক চোর॥ দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন
কিয়ে হরি, বাম নয়ন করি আধা। গোপত
পিরীতি খানি, কোন টুটায়ল, মঝু মনে
লাগল ধাঁদা॥ কান্দিব রে কত, কান্দি
গোঙায়ব, কাহারে করিব বিশয়াস। জ্ঞান-
দাস কহ, ধিক রহু জীবনে, যে করে পর
প্রীতি আশ॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ ধানশী॥
এ সখি, হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম-ছায়া পায়লুঁ,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥ ধ্রু
আছিনু মালতী, বিহি কৈল বিপরীত,
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন, দৈবে মিলায়ল,
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল,
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন কিয়ে হরি,
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতিখানি, কোন টুটায়ল,
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত, কান্দি গোঙায়ব,
কাহারে করিব বিশয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে,
যে করে পর-প্রীতি আশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি, হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি, প্রেম-ছায়া পায়লুঁ,
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥ ধ্রু
আছিনু মালতী, বিহি কৈল বিপরীত,
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি, ভ্রমর নাহি আওত,
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন, দৈবে মিলায়ল,
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি, মাণিক ছাপায়ল,
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি, রঞ্জন কিয়ে হরি,
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতিখানি, কোন টুটায়ল,
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত, কান্দি গোঙায়ব,
কাহারে করিব বিশয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে,
যে করে পর-প্রীতি আশ॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৮২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেল কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিন নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁদা ॥
কাঁন্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর পতি আশ॥
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেল কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিন নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁদা ॥
কাঁন্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর পতি আশ॥
টীকা ---
ছাপায়লুঁ ---- লুকাইলাম।
মালতি --- কেতকিফুল ---মালতি ফুল কোমল, আর কেতকী বা কেয়াফুল কাঁটাযুক্ত। শ্যাম-ভ্রমর তাহার কাছে আসিতেছে না বলিয়া তিনি নিজেকে কেয়াফুলের সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন। অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল ইত্যাদি --- আমাদের হৃদয়ে রসযজ্ঞতারূপ মাণিক্য লুকাইয়া রাখিলাম ; লোকের কাছে যেন আমরা পথের চোরের মতন হইলাম।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
ছাপায়লুঁ ---- লুকাইলাম।
মালতি --- কেতকিফুল ---মালতি ফুল কোমল, আর কেতকী বা কেয়াফুল কাঁটাযুক্ত। শ্যাম-ভ্রমর তাহার কাছে আসিতেছে না বলিয়া তিনি নিজেকে কেয়াফুলের সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন। অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল ইত্যাদি --- আমাদের হৃদয়ে রসযজ্ঞতারূপ মাণিক্য লুকাইয়া রাখিলাম ; লোকের কাছে যেন আমরা পথের চোরের মতন হইলাম।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ ধানশী॥
এ সখি, হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি প্রেম-ছায়া পায়লু
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিনু মালতি বিহি কৈল বিপরীত
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপাইল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি রঞ্জন কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতিখানি কোন টুটাইল
মঝু মনে লাগল ধাঁধা॥
কান্দিব রে কত কান্দি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশেয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে
যে করে পর-প্রীতি আশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি, হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি প্রেম-ছায়া পায়লু
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিনু মালতি বিহি কৈল বিপরীত
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপাইল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দক্ষিণ নয়ন করি রঞ্জন কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতিখানি কোন টুটাইল
মঝু মনে লাগল ধাঁধা॥
কান্দিব রে কত কান্দি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশেয়াস।
জ্ঞানদাস কহ, ধিক রহু জীবনে
যে করে পর-প্রীতি আশ॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছায়া পায়লুঁ
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিলুঁ মালতী বিহি কৈল বিপরীত
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দথিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি কোনে টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধান্দা॥
কান্দিব রে কত কান্দি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশেয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যে করে পর প্রতি-আশ॥
এ সখি হাম সে কুলবতী রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছায়া পায়লুঁ
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিলুঁ মালতী বিহি কৈল বিপরীত
ভৈ গেল কেতকী ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দথিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি কোনে টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধান্দা॥
কান্দিব রে কত কান্দি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশেয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যে করে পর প্রতি-আশ॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধনে
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেলুঁ কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝূরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি- মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁধা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর-প্রতিআশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেলুঁ কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝূরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি- মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁধা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর-প্রতিআশ॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আক্ষেপানুরাগ
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেল কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি- মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হুরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর-পতিআশ॥
॥ ধানশী॥
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত করল ওই শ্যামা॥ ধ্রু॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেল কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দুরে রহি দুহুঁ মন ঝুরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি- মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হুরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরিতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁদা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহু জীবনে
যো করে পর-পতিআশ॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেলুঁ কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝূরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হুরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁধা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহুঁ জীবনে
যো করে পর পতিআশ॥
*********************
এ সখি হাম সে কুলবতি রামা।
অনেক যতন করি প্রেম ছাপায়লুঁ
বেকত কয়ল ওই শ্যামা॥
আছিলুঁ মালতি বিহি কৈল কিবা রিতি
ভৈ গেলুঁ কেতকি ফুলে।
কণ্টক লাগি ভ্রমর নাহি আওত
দূরে রহি দুহুঁ মন ঝূরে॥
যব দুহুঁ দরশন দৈবে মিলায়ল
কোন না কহে কত বোল।
অন্তরে বৈদগধি মাণিক ছাপায়ল
দুহুঁ ভেল পন্থক চোর॥
দখিণ নয়ন করি রঞ্জব কিয়ে হুরি
বাম নয়ন করি আধা।
গোপত পিরীতি খানি কোন টুটায়ল
মঝু মনে লাগল ধাঁধা॥
কান্দিব রে কত কাঁদি গোঙায়ব
কাহারে করিব বিশোয়াস।
জ্ঞানদাস কহ ধিক রহুঁ জীবনে
যো করে পর পতিআশ॥
*********************
