| কবি নসির মামুদ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| বল দেখি কি বুধি করিব বল সখি কি বুদ্ধি করিব ভণিতা নাছির মহম্মদ কবি নাসির মামুদ এই পদটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রামক্রিয়া॥ বল দেখি কি বুধি করিব। কানুর পিরীতি, বড় পরমাদ, দৈবে মরিয়া যাব॥ ধু। শাশুড়ী নননী মোরে কুবচন বলে। কভু নাহি ঠেকে রাঙ্গা নয়ান হিলোলে নশীর মামুদ কহে চিতে নৈল কথা। যে ছিল করমে মোর লিখিল বিধাতা॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের কাব্যের সংকলন “কাব্য মালঞ্চ”, ৩০-পৃষ্ঠা। উত্স রাগনামা পুথি। প্রেমের দুঃখ বল সখি কি বুদ্ধি করিব। কানুর পিরীতি বড় পরমাদ দৈবে মরিয়া যাব॥ ধ্রু॥ শাশুড়ী ননদী মোরে কুবচন বলে। কভু নাহি ভোসে রাঙা নয়ন-হিলোলে নসীর মামুদ কহে, চিতে রৈল ব্যথা। যা ছিল করমে মোর লিখিল বিধাতা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চলহ সখি নাগরী মান তুমি পরিহরি ভণিতা নাছির মহম্মদ কবি নাসির মামুদ এই পদটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূরী॥ চলহ সখী নাগরি, মান তুমি পরিহরি, দেখ আসি নন্দ-কি রায়। ধু॥ যত কুল ব্রজনারী, অঞ্জলি ভরি ভরি, আবীর ক্ষেপেন্ত শ্যাম গায়॥ ক্ষণে যায় যমুনার জলে, ক্ষণে ক্ষণে তরুমূলে, ক্ষণে ক্ষণে বাঁশীটী বাজাএ। শুনিয়া বাঁশীর তান, ত্যজে মানীর মান, শ্রুতি মন নিত্য তথা ধায়॥ কহে নাছির মহম্মদে, ভজ রাধে শ্যাম পদে, বিলম্ব করিতে না যুয়াএ॥ এই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯২১) অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সঙ্কলিত, “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ১ম খণ্ড, ১ম সংখ্যা, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “রাগনামা” পুথির পদ। গীত-মায়ূরী চলহ সখি নাগরি মান তুমি পরিহরি’ দেখ আসি নন্দকি রায়। যত কুলব্রজনারী, অঞ্জলি ভরি ভরি, আবীর ক্ষেপেন্ত শ্যাম গায়॥ ক্ষণে যায় যমুনার জলে ক্ষণে ক্ষণে তরুমূলে ক্ষণে শ্রণে বাঁশীটি বাজায়। শুনিয়া বাঁশীর তান, ত্যজে মানীর মান শ্রুতি মন নিত্য তথা ধায়॥ কহে নাছির মহহ্মদে, ভজ রাধে শ্যামপদে, বিলম্ব করিতে না যুয়ায়॥ এই পদটি আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের কাব্যের সংকলন “কাব্য মালঞ্চ” (১৯৪৫), ৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। উত্স রাগনামা পুথি। ভজনা চলহ সখি নাগরী মান তুমি পরিহরি’ দেখ আসি’ নন্দ-কি রায়। যত ব্রজকুল-নারী অঞ্জলি ভরি’ ভরি’ আবীর ক্ষেপেন্ত শ্যাম-গায়॥ ক্ষণে যায় যমুনার জলে ক্ষণে ক্ষণে তরুতলে ক্ষণে শ্রণে বাঁশীটি বাজায়। শুনিয়া বাঁশীর তান মানী ত্যজে তার মান শ্রুতি মন নিত্য তথা ধায়॥ কহে নসীর মহাম্মদে ভজ রাধে শ্যামপদে বিলম্ব করিতে না জুড়ায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জীবের ধন! আমায় ছাড়ি গেলা কোন্ দোষে ভণিতা নাছির মহহ্মদ কবি নাসির মামুদ এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩০৮ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় (জুলাই ১৯০১ খৃষ্টাব্দে) প্রকাশিত, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ২৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গীত - ভাটীয়াল॥ জীবের ধন! আমায় ছাড়ি গেলা কোন্ দোষে। তোমার পিরীতি খানি, মরমে রহিল হানি, তনু ক্ষীণ প্রাণি হয় শেষে॥ ধ্রু। মুই যদি জানিতুম্ জ্বালা মোরে দিলা জ্বালিয়া তবে কেন বাড়াইলাম পীরিত। অন্তরে বাহিরে দেহে, কত বা পরাণে সহে, জ্বলিয়া জ্বলিয়া উঠে চিত॥ কি মোর গৃহের কাজ, কি মোর লোকের লাজ, কিবা মোর গুরুর গঞ্জন! অই ভাবনা মনে, প্রাণ দহে অনুক্ষণে, কবে পাইমু বন্ধের দরশন॥ কহে নাছির মহহ্মদে, ভজ ধনি! প্রভু-পদে, না পাইলাম কানুর উদেশ। কদম্বের তলে থাকে, বন্ধুয়া আসে যায়, তিলে তিলে ধরে নব বেশ॥ এই পদটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়াল॥ জীবের ধন, আমায় ছাড়ি গেলা কোন্ দোষে। তোমার পিরীতি খানি, মরমে রহিল হানি, তনু ক্ষীণ প্রাণি হয় শেষে॥ ধু। মুই যদি জানিতুম্ জ্বালা মোরে দিলা জ্বালিয়া, তবে কেন বাড়াইলাম পিরীত। অন্তরে বাহিরে দহে, কথবা(১) পরাণে সহে, জ্বলিয়া জ্বলিয়া উঠে চিত॥ কি মোর গৃহের কাজ, কি মোর লোকের লাজ, কিবা মোর গুরুর গঞ্জন! অই ভাবনা মনে, প্রাণ (করে উচাটনে?) কবে পাইমু বন্ধের দরশন॥ কহে নাছির মহম্মদে, ভজ ধনি প্রভু পদে, ( তবে পাইবা ?) কানুর উদ্দেশ। কদম্বের তলে থাকে, বন্ধুয়া আসে যায়, তিলে তিলে ধরে নব বেশ॥ ১ - কথবা - কতবা। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যাই কোন ঠাই সজনী সই ভণিতা নাছির মহম্মদ কবি নাসির মামুদ এই পদটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঞ্চম॥ যাই কোন ঠাই সজনী সই, বন্ধের লাগি যাব কোন ঠাঁই? ধু। প্রেম বাড়াইয়া কালা, দিলি মোরে এথ জ্বালা, কোথা গিয়া রহিলি ছাপাই? (১) এ চারি প্রহর নিশি, শয্যার উপরে বসি, ঝুরি ঝুরি রজনী গোঁয়াই॥ যৌবন হইল ভারী, ধৈর্য্য ধরাইতে নারি, কিসে মন রাখিমু মানাই। এতিম (২) নাছিরে ভণে, যাও ধনি কদম তলে, যদি চাহ সুন্দর কানাই॥ ১ - ছাপাই - লুকাই। ২ - এতিম - পিতৃ মাতৃহীন। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |