কবি সৈয়দ মর্তুজার মুর্শিদাবাদে প্রাপ্ত বৈষ্ণব পদাবলী
*
শ্যাম বন্ধু চিত-নিবারণ তুমি
কবি সৈয়দ মর্তুজা
মুর্শিদাবাদ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ২য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯৫৭।

॥ বেলাবলী করুণ॥

শ্যাম বন্ধু চিত-নিবারণ তুমি।
কোন শুভ দিনে                          দেখা তোমা সনে
পাসরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে                                 এ চাঁদ-বদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                               করে আনচান
দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া                             দেহ পদ-ছায়া
শুনহ পরাণ-কানু।
কুল শীল সব                                ভাসাইলুঁ জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মরতুজা ভণে                         কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                            রৈলুঁ তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন
মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৬৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী করুণা॥ তালোচিত॥

শ্যামবন্ধু চিতনিবারণ তুমি।
কোন শুভ দিনে দেখা তোমার সনে পাসরিতে নারি আমি॥
জখন দেখিয়ে ও চান্দবদন ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ করে আনচান দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া দেহ পদছায়া শোনহ পরাণ কানু।
কুলশীল সব ভাসাইল জলে প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মরতুজা ভণে কানুর চরণে নিবেদন সুন হরি।
সকল ছাড়িয়া রহি তুয়া পায়ে জীবন মরণ ভরি॥

ই পদটি সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ ১৩২১ (ডিসেম্বর ১৯১৪) সংখ্যায়
প্রকাশিত, অনাথকৃষ্ণ দেবের “বঙ্গীয় মুসমান ও বঙ্গ সাহিত্য” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
মুর্শিদাবাদের সৈয়দ মর্ত্তুজার রচিত পদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্যাম বন্ধু চিত নিবারণ তুমি।
কোন শুভ দিনে                দেখা তোমা সনে                পাসরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে                ও চাঁদ বদন                ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                করে আন্ চান্                দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া                দেহ পদছায়া                শুনহ পরাণ কানু।
কুল শীল সব                ভাসাইনু জলে                প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা ভণে                কানুর চরণে                নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                রহিল তুয়া পায়ে                জীবন মরণ ভরি॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাঙ্গালী
মুসলমান কবিদের রচিত কবিতাবলীর সংকলন “কাব্য-মালঞ্চ”, ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই
পদটিকে তাঁরা পদকল্পতরু থেকে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মিলন

শ্যাম বন্ধু, চিত-নিবারণ তুমি।
কোন শুভ ক্ষণে                          দেখা তোর সনে
পাশরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে                                ও চাঁদবদনে
ধৈরয ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                             করে আনচান,
দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া                           দেহ পদ-ছায়া
শুনহ পরাণ-কানু।
কুলশীল সব                               ভাসাইনু জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা ভণে                       কানুর চরণে---
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                          রৈনু তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি’॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত সংকলন, কীর্ত্তন পদাবলী,
৪১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর - মধ্যম দশকুসী॥

শ্যাম বঁধু, আমার পরাণ তুমি।
কোন শুভদিনে                           দেখা তোমা সনে
পাসরিতে নারি আমি॥ ধ্রু॥
যখন দেখিয়ে                                  ও চাঁদবদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                               করে আনচান
দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া                              দেহ পদছায়া
শুন শুন পরাণ কানু।
কুল শীল সব                                ভাসাইনু জলে
না জীয়ব তুয়া বিনু॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা ভণে                            কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                             রহিল তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি’॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলাবলী করুণ॥

শ্যাম বন্ধুচিত-নিবারণ তুমি।
কোন শুভদিনে                           দেখা তোমা সনে
পাসরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে                                এ চান্দ-বদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                               করে আনচান
দণ্ডে দশ বার মরি॥
মোরে কর দয়া                             দেহ পদ ছায়া
শুনহ পরাণ-কানু।
কুলশীল সব                                 ভাসাইলুঁ জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মরতুজা ভণে                         কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                            রৈলুঁ তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান
কবি”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির রচয়িতা এই গ্রন্থে সৈয়দ মর্ত্তুজা [ ক ] অর্থাৎ
মুর্শিদাবাদের কবির পদ বলা হয়েছে।

॥ বেলাবলী॥
নিবেদন

শ্যাম বন্ধু চিত-নিবারণ তুমি!
কোন্ শুভদিনে                          দেখা তোর সনে
পাশরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে                                এ চাঁদবদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                             করে আন্ চান
দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া                             দেহ পদ-ছায়া
শুনহ পরাণ-কানু।
কুলশীল সব                                ভাসাইনু জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা ভণে                           কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                            রহিলু তুয়া পায়ে
জীবন-মরণ ভরি॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সংকলিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া হয়েছে।

দুস্ত্যজ প্রেম

শ্যাম বন্ধু চিত-নিবারণ তুমি।
কোন শুভ-দিনে                    দেখা তোমার সনে
পাসরিতে নারি আমি ॥ ধ্রু ॥
যখন দেখিয়ে                             ও চাঁদ-বদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি ।
অভাগীর প্রাণ                          করে আনচান
দণ্ডে দশ বার মরি ॥
মোরে কর দয়া                         দেহ পদ-ছায়া
শুনহ পরাণ কানু ।
কুল শীল সব                           ভাসাইনু জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু ॥
সৈয়দ মর্তুজা ভণে                       কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি ।
সকল ছাড়িয়া                       রহিল তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি ॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”,
২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম বন্ধু চিত-নিবারণ তুমি।
কোন্ শুভদিনে                           দেখা তোমা সনে
পাশরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে                                ও চান্দ-বদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ                               করে আনচান
দণ্ডে দশবার মরি॥
মোরে কর দয়া                              দেহ পদছায়া
শুনহ পরাণ কানু।
কুলশীল সব                                 ভাসাইলু জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মর্তুজা ভণে                          কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া                           রহিলুঁ তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৩৩২৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম বন্ধু চিত-নিবারণ তুমি।
কোন শুভদিনে দেখা তোমা সনে
পাশরিতে নারি আমি॥
যখন দেখিয়ে এ চান্দ বদনে
ধৈরজ ধরিতে নারি।
অভাগীর প্রাণ করে আনচান
দণ্ডে দশ বার মরি॥
মোরে কর দয়া দেহ পদছায়া
শুনহ পরাণ কানু।
কুলশীল সব ভাসাইলুঁ জলে
প্রাণ না রহে তোমা বিনু॥
সৈয়দ মরতুজা ভণে কানুর চরণে
নিবেদন শুন হরি।
সকল ছাড়িয়া রৈলুঁ তুয়া পায়ে
জীবন মরণ ভরি॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ওহে পরাণ বঁধু তুমি
কবি সৈয়দ মর্তুজা
মুর্শিদাবাদ
সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ ১৩২১ (ডিসেম্বর
১৯১৪) সংখ্যায় প্রকাশিত, অনাথকৃষ্ণ দেবের “বঙ্গীয় মুসমান ও বঙ্গ সাহিত্য” প্রবন্ধে,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি মুর্শিদাবাদের সৈয়দ মর্ত্তুজার রচিত পদ বলে উল্লেখ করা
হয়েছে।

ওহে পরাণ বঁধু তুমি।
কি আর বলিব আমি॥
তুমি সে আমার আমি সে তোমার।
তোমার তোমাকে দিতে কি যাবে আমার॥
কে জানে মনের কথা কাহারে কহিব।
তোমার তোমারে দিয়া তোমার হৈয়া রব॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা কহে আমি ও না জানি।
ভবসিন্ধু হৈতে পার যে কর আপনি॥

.           *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর