কবি সৈয়দ মর্তুজার চট্টগ্রামে প্রাপ্ত বৈষ্ণব পদাবলী
*
আমি সে তোহ্মার নাথ আহ্মি সে তোহ্মার
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - ধানশী॥

আমি সে তোহ্মার নাথ আহ্মি সে তোহ্মার।
সবে মাত্র বুলিএ আহ্মার। ধু।
মনে জানে তনের কথা কারে বা বুঝাইমু।
আহ্মার ধন তোহ্মারে দিআ তোহ্মার হৈআ রৈমু॥
বার মাসের তের ফুল ফুটিআ রৈল ডালে।
আমার প্রভু ঘরে নাই ফুল গাথিআ দিমু কার গলে॥
বার মাসের তের ফুল ফুটিছে স্থাবরে।
মুই নারীর করম দোষে ফুল ঝরিআ ঝরিআ পড়ে॥
ঐ কুলের বন্ধুর বাড়ী মধ্যে ক্ষীর নদী।
উড়ি যাইতুম সাধ করে পাখা না দে(য়) বিধি॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজাএ কহে এহি বার বার।
ঝরিল বৃক্ষের পত্র ন লাগিব আর॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জানি জানি অগো রাই
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - ধানশী বেলাবলী॥

জানি জানি অগো রাই
কালা জাইবে আহ্মারে ছমুজাই॥ ধু।
কালা জাইব নাএ নাএ আহ্মি জাইমু তরে।
কালার আহ্মার হৈব দেখা ঐ কদন তলে॥
ঐ কুলে কালার বাড়ী মাঝে ক্ষীর নদী।
উড়ি জাইতুম সাধ করে পক্ষ না দে(য়) বিধি॥
ঐ কুলে বাজায় বাঁশী ঘরে বসে শুনি
কিরূপে হইমু পার কোলে জাদু মণি॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে শুন বনমালি।
পালিআ পুসিআ জৌবন কারে দিমু ডালি॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সখি নাগর কানাই বিনে আর জীব না
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - রামক্রিয়া ভাটিয়াল॥

সখি নাগর কানাই বিনে আর জীব না।
আর জীব না রে সখি আর জীব না॥ ধু।
পৃআ পৃআ করিআ বালুশে দিলুম কোর।
উলটি পালটি দেখম পৃআ নাহি মোর॥
কলসীত জল নাহি জমুনা বহু দূর।
চলিতে না চলে পাও চরণে নেপুর॥
ঘরে আছে গুরু জন তারে না ডরাই।
মনের ভরমে আহ্মি কানুরে হারাই॥
কেহো বোলে কালা কালা কেহো বোলে শ্যাম।
মুছলমানে কালমা পড়ে হিন্দু বোলে রাম॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে প্রেম অনুদিন।
রাধা কানুর এক প্রাণ শরীর নহে ভিন॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রে শ্যাম তোহ্মার মুররি বড় রসিয়া
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - রামক্রিয়া ভাটিয়াল॥

রে শ্যাম তোহ্মার মুররি বড় রসিয়া।ধু।
উচ্চ স্বরে বাঁশী বাজে                            কুলের কামিনী সাজে
কোটি কোটি চান্দ পড়ে খসিআ॥
তোহ্মার হৃদের মাঝে                               অমূল্য রতন আছে
দেখিলে গোপিনী নিব কাড়িআ।
নন্দের ছাওয়াল বুলি                              পন্থে করে ঠেলাঠেলি
কেলিআ কদম্ব তলে বসিআ॥
সাধিতে আপনা কাজ                              তাত নাহি কুল লাজ
জলের নিঅরে রৈলাম বসিআ।
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে                                  পর কি আপনা হএ
কলঙ্ক রহিল জগ ভরিআ॥

ই পদটি রয়েছে ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাংলা সাহিত্যে
মুসলমান কবিদের কাব্যের সংকলন “কাব্য মালঞ্চ”-এ।

মূরলী

রে শ্যাম, তোমার মূরলী বড় রসিয়া।
উচ্চৈঃস্বরে বাঁশী বাজে                  কুলের কামিনী সাজে
কোটি কোটি চাঁদ পড়ে খসিয়া॥
তোমার হৃদয় মাঝে                     অমূল্য মাণিক্য আছে,
দেখিলে গোপিনী নিবে পশিয়া॥
নন্দের দুলাল বলি’                        পন্থে চল কত ছলি’ :
কেলিয়া কদম্ব-তলে বসিয়া॥
সাধিতে আপন কাজ                       ভব নাহি কুল-লাজ ;
জলের নিয়রে রৈনু পড়িয়া।
সৈয়দ মর্ত্তুজা কয়                            পর কি আপন হয়,
কলঙ্ক রহিল জগ ভরিয়া॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মন মোর দিআ বান্ধিমু
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - নট গান্ধার॥

মন মোর দিআ বান্ধিমু।
আজু কালু করি মন কথেক ভাবিমু১॥ ধু।
উঠিল তরঙ্গ ঢেউ প্রাণি থর থর।
প্রিআ বিসরণে মোর ঝুরে নিরন্তর॥
আপনা করম দশা কি বুলিমু কারে।
খেমা কর অপরাধ কৃপা কর মোরে॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে তেজিলুং সংসার।
পরাণের বৈরী হৈল পিরীতি তোমার॥

১ - ভাবিমু স্থলে ভারিমু (ভাঁড়িমু) ও পাঠ করা যায়। ভাঁড়িমু -প্রবঞ্চনা করিব।

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্যাম আর না লএ মনে
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - তুরি ভাটিয়াল॥

শ্যাম আর না লএ মনে।
ভুবন মোহন রূপ লাগিছে মরমে॥ ধু।
মণিময় কুণ্ডল কর্ণেতে দোলে।
নব রঙ্গ বনমালা হিআর মাঝে লোলে॥
চরণে শরণ লৈলুম ন ভাসিঅ ভিন।
সহজে অবলা মুঞি পরের অধীন॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে রসময় শ্যাম।
চরণে শরণ লৈলুং পাইআ নিজ নাম॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মজাইলু রে জাতি রসিয়া নাগরের হাতে
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - গৌরী আছোয়ারী॥

মজাইলু রে জাতি রসিয়া নাগরের হাতে। ধু।
তুহ্মি বন্ধু বাজাও বাঁশী আমি মরি লাজে।
কলঙ্ক রহিল রাধের গোকুল সমাজে॥
এক হাতে গুআ বন্ধু আর হাতে পান।
জাহার বন্ধুআ তুহ্মি তাহার পরাণ॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে প্রেমের জ্বালা কালা।
ষোল শত গোপিনীর মধ্যে রাধা গলার মালা॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সই বোলম্ মুই জীব না লো কানু আনিআ দে
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ ঠশা মালশী রাগ॥

সই বোলম্ মুই জীব না লো কানু আনিআ দে।
কালার ভাবে চিত বেআকুল আকুল করিআছে॥ ধু।
চুরা নহে কলা নহে দধি মাখিআ খাইতুম।
ঝলক দাপন নহে মুঞি নঅন ভরি চাইতুম॥
কাম সিন্দুর নহে রে মুঞি তুলি দিতুম শীষে।
বন্ধুর ভাবে চিত বেআকুল অঙ্গ ছাইছে বিষে॥
চান (চান্দ) বেকা কান বেকা বেকা ঐ কদম তটে।
চাম্পা কালিকার ফুল প্রতি ঘটে ঘটে॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে ঘটের কামনা।
মথুরা পুরের গেলে পাইবা সেই জনা॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জৌবন গেল মোর রে
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ তুরি পটমঞ্জরী॥

জৌবন গেল মোর রে। ধু।
হেদে রে সজনী সই রে দুঃখ হৈল সার।
হারাইলু লাখের জৌবন ন পাইমু আর॥
আবাল আছিলু ভালে কি হৈল বাড়িআ।
দিনে দিনে বাড়ে জৌবন পাঞ্জর ভেদিআ॥
হাটে জাম মুঞি ঘাটে জাম মুঞি মুণ্ডে আঁচল দিআ।
কথ কাল রাখিমু জৌবন লোকের বৈরী হৈআ॥
অভাগী খোঁআরি (?) লাগি ন আইল জমরা (?)।
সুখনা পুষ্পের মাঝে ন পড়ে ভ্রমরা॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে শুন বনমালি।
পালিআ পুসিআ জৌবন কারে দিলু ডালি॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বন্ধু মোরে ছুইঅ না
ভণিতা ছৈঅদ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
কলকাতার এন্টালী থেকে প্রকাশিত “গৃহস্থ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩ (জুলাই ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “সৈয়দ মর্ত্তুজার নূতন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
তাঁর আবিষ্কৃত “রাগনামা” পুথি থেকে পাওয়া।

॥ রাগ - পঞ্চম সিন্ধুরা॥

বন্ধু মোরে ছুইঅ না।
ছুইঅ না রে নন্দের ঘরের কালা কানুরে মোরে ছুইঅ না॥ ধু।
কদম তলে থাক কানুরে কদম পুষ্প চাইআ।
প্রাণি হরিআ নিলে শ্যামে বাঁশীটি বাজাইআ॥
কদম তলে থাক কানুরে বাজাও মোহন বাঁশী।
বাঁশীর স্বরে খসি পড়ে রাধের কাঙ্কের কলসী॥
রাজ পন্থে থাক কানুরে কর বাটোআরি।
ছাড়ি দেঅ নেতের আঞ্চল বন্ধু ভাঙ্গিব ঘাঘরি॥
মাঠে থাক ধেনু রাখো রোখোআলের মতি।
তুহ্মি নি রাখিতে পার বন্ধু সুজনের পিরীতি॥
জাঙ্গালে সে আইস বন্ধু জাঙ্গালে সে জাও।
কথ ধন দিবা করি বন্ধু ফিরিআ না চাহ॥
ছৈঅদ মর্ত্তুজা কহে পিরীতি তোহ্মার।
মদনের ঘাত আহ্মি নারি সহিবার॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর