কবি সৈয়দ মর্তুজার চট্টগ্রামে প্রাপ্ত বৈষ্ণব পদাবলী
*
মুঞি কেন পিরীত রে করলুম নিঠুর কালার সনে
ভণিতা সৈয়দ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
পদটি রয়েছে আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের কাব্যের
সংকলন “কাব্য মালঞ্চ”-এ (১৯৪৫) সংকলনে। পদটি “রাগমালা” পুথি থেকে পাওয়া।   

বিরহ

মুঞি কেন পিরীত রে করলুম নিঠুর কালার সনে।
কালার প্রেমজ্বালা না সহে পরাণে॥ ধ্রু॥
ঘরেতে বসিয়া শুনি মথুরায় বাজে বাঁশী।
শুইলে স্বপনে দেখি, জাগিলে উদাসী॥
বাও নাই, বাতাস নাই, কদম্ব কেন নড়ে।
মুঞি নারীর করমের দোষে ডাল ভাঙি’ পড়ে॥
কলসীতে জল নাই রে বসিয়া রৈলুম ঘরে।
চলিতে না পারি আমি যৌবনের ভরে॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা কয় মনেতে বিবাগী।
মুঞি কেন বসিয়া রৈলুম পিরীতির লাগি’॥

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রাখরে রাখরে মন মানাইয়া
ভণিতা ছৈয়দ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত পূর্ণিমা মাসিক পত্রিকা ও সমালোচনী আষাঢ়-শ্রাবণ
১৩০৩ (জুলাই-আগস্ট ১৮৯৬) সংখ্যায় প্রকাশিত, আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন
পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি চট্টগ্রামে আবিষ্কৃত পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ গীত - হিল্লোল॥

রাখরে রাখরে মন মানাইয়া।
রাধার(১) প্রাণি হরিয়া নিল কানাইয়া॥ ধ্রু।
মঠেতে না রহে মন,                                সদা করে উচাটন,(২)
কি দিয়া রাখিব চিত্ত মানাইয়া।
কালিয়া কালিন্দীর কূলে,                         দাঁড়াইয়াছে তরুমূলে,(৩)
কত রূপ ধরে বেশ বানাইয়া॥
ছৈয়দ মর্ত্তুজা কহে,                                ত্যজ রাধে লাজ ভয়ে,
ঘরে যাও বন্ধের মন মানাইয়া॥(৪)

পাঠান্তর -
১ - রাধার স্থলে আমার।
২ - বেয়াকুল অনুক্ষণ।
৩ - তরুমূলে স্থলে কদমতলে।
৪ - ঘরে যাও বন্ধেরে সে মানাইয়া।

.                          *************************                           
.                                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বন্ধু আমার কালিয়া সোণা
ভণিতা সৈয়দ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত পূর্ণিমা মাসিক পত্রিকা ও
সমালোচনী আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩০৩ (জুলাই-আগস্ট ১৮৯৬) সংখ্যায় প্রকাশিত, আবদুল
করিম সাহিত্য-বিষারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটি তিনি চট্টগ্রামে আবিষ্কৃত পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ গীত - শ্রীগান্ধার॥

বন্ধু আমার কালিয়া সোণা।
স্বপনে পাইলাম বন্ধু করিয়া কামনা॥ ধ্রু।
স্বপনে বন্ধুয়া সনে দরশন ভেল।
উলটী পাসান দিতে বন্ধু কোন দেশে গেল।(১)
বন্ধুয়া বন্ধুয়া মোর গোপতের পতি।
পাষাণে নিশান রৈল তুই কালার পিরীতি॥
বন্ধুয়া বন্ধুয়া মোর শরদের তারা।
তিলেক না দেখি তোরে আঁখি বহে ধারা॥
অপরূপ হের বন্ধু @@@@@@@ ভারা।(২)
বুক বাহি পড়ে ঘাম মাণিক্যের ধারা॥
যথা তথা যাও বন্ধু! আসিও সকালে।
তিলেক বিলম্ব হৈলে বন্ধু! ঝম্প দিব জলে॥
সৈয়দ মর্ত্তুজা কহে শুনরে কালিয়া! (৩)
পর কি আপন হয় পিরীতি লাগিয়া ?

টীকা -
১ - পাসান = (পলক ?) ; চক্ষুর পলক পড়িতে না পড়িতে।
২ - এ পদের শেষাংশ অসম্পূর্ণ ও অর্থ দুর্ব্বোধ।
৩ - ইহার এই রকম ভণিতাও দেখা যায় :---
“ছৈয়দ মর্ত্তুজা কহে এইবার এইবার।
আর নি মনুষ্য কুলে জনম আমার॥”

.               *************************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ছাই, এক বিনে মাওলা এক বিনে
ভণিতা সৈয়দ মর্ত্তুজা
কবি সৈয়দ মর্তুজা
চট্টগ্রাম
হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত পূর্ণিমা মাসিক পত্রিকা ও
সমালোচনী আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩০৩ (জুলাই-আগস্ট ১৮৯৬) সংখ্যায় প্রকাশিত,
আবদুল করিম সাহিত্য-বিষারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। পদটি তিনি চট্টগ্রামে আবিষ্কৃত পুথি থেকে পেয়েছিলেন।

॥ গীত - গুর্জ্জরী॥

ছাই, এক বিনে মাওলা এক বিনে
.                        আর নাহি কোই॥ ধ্রু।(১)
আরে হরে আপে রাখে সখি! মাওলা
.                        আপে করে কেলি।
আনন্দ মোহন মাওলা খেলয়ে ধামালী॥
আপে মন আপে তন আপে মন-হরি।
আপে কানু আপে রাধা আপে সে মুরারী॥
ছৈয়দ মর্ত্তুজা কহে সখি! মাওলা
.                        গোপেতের হীন।(২)
পুরাণ পিরীতি খানি ভাবিলে নবীন॥


টীকা -
১ - মাওলা = জগদীশ্বর।
২ - গোপেতের হীন = অর্থাৎ গুপ্ত নহেন ; তিনি সর্ব্বত্র পরিব্যক্ত।

.               *************************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর