প্রথমেই আমরা ব্রিজ পেরোলুম। তারপর ভয়। নিস্তার পাওয়ার জন্য আমি শুরু করেছিলাম ছোটবেলার গল্প। আর আমার চোখ থেকে দূরবীন কেড়ে নিয়েছিলে তুমি।
বিপত্তারিণীর ব্রত করতাম তখন। আমার থানপরা রোগা দিদিমা ব্রতকথার শেষে শান্তি জল ছিটিয়ে বলতেন : পূণ্যফলে কখনও বিধবা হবি না। আমার লালসুতোর তাগা কতবার যে ছিঁড়ে পড়েছে আঘাটায়!
সিটি দিতো ছেলেরা। কাঁদতাম আর পানপাতায় মুখ ঢেকে চুল্লিতে উঠতাম শুধু। কারা কনেচন্দন পরাতো আর কারাই বা মুছিয়ে দিতো কে জানে!
আজ আবার মনে পড়লো সব কথা। আজ তুমি খনার গল্প বলবে আর শুনতে শুনতে খসখসে হয়ে উঠলো আমার জিভ, লাল হলো চাহনি। শুনতে শুনতে আমি ডাইনি হয়ে উঠলুম।
আজ আবার মনে পড়লো সব কথা। হাঁটতে হাঁটতে ব্রিজ পেরোলুম। তারপর একটু ঠেলতেই গেট খুলে গেলো। মুছে গেলো অষুধের ঝাঁঝ। মুছে গেলো অ্যাপ্রন পরা নার্স আর শব্দ। হাসপাতাল এখন আমার বুকের ভেতরে
মন্দিরের গায়ে যে লেখা উত্কীর্ণ হয়ে থাকে চৈতালী চট্টোপাধ্যায়
আমার চারিপাশ থেকে ভুতগুলি নামিয়াছে, আছেন ঈশ্বর। আমি তাই, সুন্দরের দেখা পাই, সরল রেখায়। চোখ ও চক্রান্ত পশাপাশি এ ওকে জড়ায় না, শুধু ভাইবোন হয়ে শুয়ে যায়। যে-গতি সাপের মতো চিত্তাকর্ষক, তার অন্তিম জানি না আমি, ধূপকাঠি হাতে লক্ষ করি চাঁদমালা, বটগাছ, পরিত্যক্ত ভাঙা অভয়মুদ্রাটি, আজ, চাপা পড়ে আছে, আর, বিশাল মন্দির গাত্রে, মিথুনমূর্তির লিঙ্গে সরকারি আলো লেগে গেছে।