কবি দীপালী সেনগুপ্ত -  এর জন্ম ১৯৩৪ সালে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে, সংসার জীবন স্বামীর
কর্মক্ষেত্র আন্দামানে এবং শেষজীবন কলকাতায় কেটেছে বড় ছেলের কাছে। তিনি গৃহবধূর জীবনের ফাঁকে
ফাঁকে কবিতা লিখে রাখতেন। সুদূর সাগরপারের পোর্টব্লেয়ারের বাড়িতে কিন্তু একটা সাহিত্যের পরিবেশ
ছিলই। ৫০-৬০ এর দশকের আন্দামানের বাঙালীদের মিলন ক্ষেত্র ছিল পোর্ট ব্লেয়ার শহরের "
অতুল সমৃতি
সমিতি"। বাঙালীর যাবতীয় উত্সব পূজা পার্বন সেখানেই উদযাপিত করা হোতো। সেই সব বিভিন্ন
অনুষ্ঠানের মহড়া চলতো তাঁর বাড়িতে। তিনি ছিলেন সেখানকার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। প্রথম জীবনে তিনি  
আকাশবাণীর গায়িকা হিসেবে আন্দামানে খ্যাতি লাভ করেন।

স্বামী
বেনু সেনগুপ্ত সেই সময় মূল ভূখণ্ডের বেশ কিছু পত্রিকাতে নিয়মিত লিখতেন। আনন্দবাজার পত্রিকা,
অমৃত বাজার পত্রিকা,
The Illustrated Weekly of India তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বেনু সেনগুপ্ত ও সাগরময়
ঘোষের পত্রালাপ তো দীপালী দেবী শেষদিন পর্যন্ত সযত্নে রক্ষা করে রেখেছিলেন। কলকাতার সাহিত্য ও
সাংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, যেমন প্রফুল্ল রায়, আকাশবাণীর নির্মল সেনগুপ্ত প্রভৃতি তাঁদের
পোর্টব্লেয়ারের বাড়িতে গিয়েছেন।

প্রথম জীবনে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও আকাশবাণীর গায়িকা হিসেবে আন্দামানে খ্যাতি লাভ করলেও বোধহয়
উপরওয়ালার তাঁর জন্য অন্য পরিকল্পনা ছিল। ১৯৮৩ সালে তাঁর গলার ক্যানসার ধরা পড়ে। এই দুরন্ত
ব্যাধির সঙ্গে ক্রমাগত দৈহিক ও মানসিক যুদ্ধে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর হার স্বীকার করেননি। তিনি ক্যানসার
চিকিৎসকদের বিস্ময় ছিলেন! ১৯৯৭ সাল থেকে তাঁর জলপাইগুড়ির বাড়িতে নিয়মিত ক্যানসার নির্ণয়
শিবির অনুষ্ঠিত করাতেন। কলকতার ৬জি, এলগিন রোডে অবস্থিত,
ইণ্ডিয়ান ক্যানসার সোসাইটির
চিকিত্সকের দল গিয়ে সেই শিবিরে রোগীদের পরীক্ষা করতেন। এই চিকিত্সকগণও দীপালী দেবীকে মাতৃবৎ
শ্রদ্ধা করতেন। নিজের নিরন্তর সংগ্রামী মন ও এই চিকিত্সকদের নিঃস্বার্থ চিকিত্সার ফলস্বরূপ দীপালীদেবী
দীর্ঘ ৩০ বছর তাঁর নির্দিষ্ট কাজ করে যেতে পেরেছিলেন। জলপাইগুড়িতে  
পাণ্ডাপাড়া মধুসূদন স্মৃতি
ক্যানসার সোসাইটি নামক একটি সংস্থার তিনি সহ সভাপতি ছিলেন।

তাঁর প্রাণশক্তিকে ক্যানসারের মতো দৈবিক কোপও রুদ্ধ করতে পারেনি। তাঁর গলায় ক্যানসার হওয়াতে
গান গাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু শুরু হয় তাঁর লেখালেখি। তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ইত্যাদি
উদ্বোধন, উন্মেষ, দ্বীপবাণী সহ নানা পত্র পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে। জীবনের শেষ ৩০ বত্সর কেটেছে
অসহ্য  যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, যার মধ্যে শেষ ৯ বছর শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য তাঁর গলায় ফুটো করে একটি টিউব
বসানো ছিল (ট্র্যাকিওস্টমি)। সেই টিউব নেবার পর, অনেক চেষ্টা করে তিনি আবার কথা বলা শুরু
করেছিলেন। উপরে তাঁর ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে তাঁর ট্র্যাকিওস্টমি টিউবটিকে এক আঙুল দিয়ে চেপে
কবিতা পাঠ করছেন! তবুও তাঁর লেখালেখি থেমে থাকেনি। অবশেষে ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৩ তারিখে,
কলকাতায়, তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আমরা তাঁর কবিতা এখানে প্রকাশিত করতে পেরে নিজেদের সন্মানিত মনে করছি। আমরা
মিলনসাগরে  
কবি দীপালী সেনগুপ্তর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের এই প্রচেষ্টা
সার্থক মনে করবো।

কবি দীপালী সেনগুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রকাশ - ২০০৫
পরিমার্জিত সংস্করণ - ২.৭.২০১৩
...