দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কবিতা ও গান যে কোন গানের উপর ক্লিক করলেই সেই গানটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কেন ভূতের বোঝা বহিস্ পিছে,
ভূতের বেগার খেটে মরিস মিছে ;
দেখ ঐ সুধাসিন্ধু উছলিছে পূর্ণ ইন্দু পরকাশে |
ভূতের বোঝা ফেলে, ঘরের ছেলে,
আয় চলে আয় আমার পাশে ||
কেন কারাগৃহে আছিস বন্ধ,
ওরে, ওরে মূঢ় ওরে অন্ধ!
ওরে, সেই সে পরমানন্দ যে আমারে ভালবাসে |
কেন ঘরের ছেলে পরের কাছে প'ড়ে
আছিস্ পরবাসে!'
. *****************
. সূচিতে
এ জীবনে পূরিল না সাধ
এ জীবনে পূরিল না সাধ ভালবাসি--- এ ক্ষুদ্র হৃদয় হায়! ধরে না ধরে না তায়--- আকুল অসীম প্রেমরাশি | তোমার হৃদয়খানি আমার হৃদয়ে আনি, রাখি না কেনই যত কাছে ; যুগল হৃদয়-মাঝে, কি যেন বিরহ বাজে, কি যেন অভাবই রহিয়াছে? এ ক্ষুদ্র জীবন মোর, এ ক্ষুদ্র ভূবন মোর, হেথা কি দিব এ ভালবাসা | যত ভালবাসি তাই, আরও বাসিতে চাই, দিয়া প্রেম মিটে না ক' আশা | হউক অসীম স্থান, হউক অমর প্রাণ, ঘুচে যাক্ সব অবরোধ, তখন মিটাব আশা, দিব ঢালি ভালবাসা, জন্ম-ঋণ করি পরিশোধ |
******
|
সুখের কথা বোলো না আর
সুখের কথা বোলো না আর, বুঝেছি সুখ কেবল ফাঁকি,
দুঃখে আছি, আছি ভাল, দুঃখেই আমি ভাল থাকি |
দুঃখ আমার প্রাণের সখা, সুখ দিয়ে যা'ন চোখের দেখা,
দু'দণ্ডের হাসি হেসে, মৌখিক ভদ্রতা রাখি |
দয়া করে মোর ঘরে সুখ পায়ের ধুলা ঝাড়েন যবে,
চোখের বারি চেপে রেখে সুখের হাসি হাসতে হবে ;
চোখে বারি দেখলে পরে, সুখ চলে যান বিরাগভরে ;
দুঃখ তখন কোলে ধরে আদর করে মুছায় আঁখি |
****************************
ভালবাসিব লো তারে
ভালবাসিব লো তারে সেও যদি ভালবাসে,
তথাপি বাসিব ভাল যদি ভাল বাসে না সে |
কি দৈবগুণে, কে জানে, তারি পায়ে বাঁধা প্রাণ এ ;
দিয়েছি কি ছার প্রাণ সে হৃদিরতন-আশে ;
তথাপি বাসিব ভাল যদি ভাল বাসে না সে |
ফিরে কি লো যায় উল্কা ধরণী না চায় যদি,
সাগর চাহে না বলি ফিরে কি লো যায় নদী ;
প্রেম লো আত্মার গান, প্রেম লো প্রাণের প্রাণ,
প্রেম কি লো বাঁধা কারো আদেশ কি অভিলাষে,
তথাপি বাসিব ভাল যদি ভাল বাসে না সে |
**************************
আয় রে বসন্ত
আয় রে বসন্ত তোর ও
কিরণ-মাখা পাখা তুলে |
নিয়ে আয় তোর কোকিল পাখির
গানের পাতা গানের ফুলে |
বলে --- পড়ি প্রেমফাঁদে
তারা সব হাসে কাঁদে ;---
আমি শুধুই কুড়ই হাসি ---
সুখনদীর উপকূলে |
জানি না ত দুখ কিসে,
চাহি না প্রেমের বিষে,
আমি বনে বেড়িয়ে বেড়াই,
নাচি গাই রে প্রাণ খুলে |
নিয়ে আয় তোর কুসুমরাশি,
তারার কিরণ, চাঁদের হাসি,
মলয়ের ঢেউ নিয়ে আয়
উড়িয়ে দে মোর এলো চুলে |
**************************
কেন মা তোমারি
কেন মা তোমারি ---
সহাস বদন আজ মলিন নেহারি |
আলুলিত কেশপাশ,
তব এ মলিন বাস ;
হেরিতে না পারি |
নীরবে সজল আঁখি, ঊর্ধভাবে স্থির রাখি,
ডাকিছ কাহারে বদ্ধ বাহুযুগ প্রসারি ;
কেমনে সনতান গন
করিছে মা দরশন
তব অশ্রুবারি |
**************************
জন্মভূমি
কি মাধুর্য জন্মভূমি জননি তোমার |
হেরিব কি তোমারে মা নয়নে আবার |
কতদিন আছি ছাড়ি,
তবু কি ভুলিতে পারি,
তবুও জাগিছ মাতঃ হৃদয়ে আমার |
লালত শৈশব যথা যপিত যৌবন,
ভুলিতে যে প্রিয় দৃশ্য চাহে কি গো মন,
প্রতি তরুলতা সনে
মিশ্রিত জড়িত মনে,
স্মৃতিচোখে প্রিয় ছবি হেরি বার বার |
তোমা বিনা অন্য কারে মা বলে ডাকিতে,
কখন বাসনা মাতঃ নাহি হয় চিতে ;
অভূষণ শোভারাশি,
মাতঃ তব ভালবাসি;
চাই না সুরম্য স্থান নানা অলঙ্কার |
স্বর্গীয় মাধুর্যময় স্বদেশ আমার |
**************************
ক'রো না অপমান
যেই স্থানে আজ কর বিচরণ,
পবিত্র সে দেশ পূণ্যময় স্থান ;
ছিল এ একদা দেব লিলাভূমি,---
করোনা, করোনা তার অপমান!
আজিও বহিছে গঙ্গা, গোদাবরী
যমুনা, নর্মদা, সিন্ধু বেগবান ;
অই আরাবলী, তুঙ্গ হিমগিরি ;---
করোনা, করোনা তার অপমান |
নাই কি চিতোর, নাই কি দেওয়ার,
পূণ্য হলদিঘাট আজো বর্তমান |
নাই উজ্জয়িনী, অযোধ্যা, হস্তিনা?---
করোনা, করোনা তার অপমান |
এ অমরাবতী, প্রতি পদে যার,
দলিত চরণে ভারত-সন্তান ;
দেবের পদাঙ্ক আজিও অঙ্কিত,---
করোনা, করোনা তার অপমান |
আজো বুদ্ধ-আত্মা, প্রতাপের ছায়া,---
ভ্রমিছে হেথায়---হও সাবধান!
আদেশিছে শুন অভ্রান্ত ভাষায়,---
করোনা, করোনা তার অপমান |
**************************
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে---
তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে |
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি |
ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ?
ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি |
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি---
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে --- আমার জন্মভূমি |
. **************************
. সূচিতে
২ নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তাহারে কেবা ! সকলে বলিল, “যাও না নন্দ কর না ভায়ের সেবা—‘ নন্দ বলিল, ‘ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই— না হয় দিলাম—কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারি দিক্ ;” তখন সকলে বলিল—হাঁ হাঁ হাঁ তা বটে, তা বটে, ঠিক!
৩ নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির ; গালি দয়া সবে গদ্যে পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির ; পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন ; লেখে যত তার দ্বিগুন ঘুমায় খায় তার দশ গুণ !-- খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল ; তখন সকলে বলিল—বাহবা বাহবা নন্দলাল !
৪ নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি ; সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি; নন্দ বলিল, “আ হা হা ! কর কি কর কি ছাড় না ছাই কি হবে দেশের গলা টিপুনিতে আমি যদি মারা যাই বল ক বিঘৎ নাকে খৎ যা বল করিব তাহা ;” তখন সকলে বলিল—বাহবা বাহবা বাহা !
৫ নন্দ বাড়ির হত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি ; চড়িত না গাড়ি, কে জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি ; নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে “কলিশন” হয় ; হাঁটিতে সর্প, কুক্কুর আর গড়ি চাপা-পড়া ভয় ; তাই শুযে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল l সকলে বলিল—ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক চিরকাল !
. ********************** . সূচিতে
|
নন্দলাল দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ( আমরা কৃতজ্ঞ দিল্লীর জাকির হুসেন কলেজের বাংলার অধ্যাপিকা ডঃ শর্মিষ্ঠা সেন এর কাছে, যিনি এই কবিতাটি আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন।
১
|
মহাসিন্ধুর ওপার থেকে
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ধনধান্য পুষ্পেভরা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ধনধান্য পুষ্পেভরা আমাদে
তাহার মাঝে আছে দেশ এ
ও যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
সকল দেশের রাণী সে যে
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, কোথায়
কোথায় এমন খেলে তড়িত্
তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
সকল দেশের রাণী সে যে
এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কো
কোথায় এমন হরিক্ষেত্র আ
এমন ধানের উপর ঢেউ খে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
সকল দেশের রাণী সে যে
পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী ; কু