গিরিশচন্দ্র ঘোষের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
১।  বিগত যৌবনা              
২।  
জুড়াইতে চাই               
৩।  
রাঙা কমল রাঙা করে, রাঙা কমল রাঙা পায়          
৪।  
জয় নীল-বসনা, পদ্মাসনা বিমল উজ্জ্বল-বরণে            
৫।  
মদ-মত্ত মাতঙ্গিনী উলঙ্গিনী নেচে ধায়                         
৬।  
ঊর্দ্ধ জটাজুট গভীর নিনাদিনী                  
       
         
        
বিগত যৌবনা


গেছে দিন আছে কার স্মরণ কেবল,---
আছিল ললিত কায়,             কেশজাল মেঘ প্রায়,
বিভাগী সীমন্ত-রেখা ধবল সরল,
অধরে আরক্ত রাগ,                 ভ্রমরার অনুরাগ,

ফুটিত ইষত্ হাসে মুকুতার দল,
উথলিত যৌবন-তরঙ্গ ঢল্ ঢল্,---
আছে তার স্মরণ কেবল |


তখন আসিত আর না দেখি এখন,
ধনী-মানী যুবা কত,               বেশ করি নানা মত,
গুণগ্রাম-বিকশিত সুঠাম বদন ;
কেহ বাঁধা কেশ-পাশে,         কেহ বা হাসির ফাঁসে,
কাহার হৃদয়ে বিদ্ধ কটাক্ষ ইক্ষণ,
ইঙ্গিতে প্রস্তুত দিতে জীবন যৌবন,---
কারে আর না দেখি এখন |


সহিয়ে নিদাঘ রবি, মেঘ-বরিষণ,
কুজ্ঝটিকা-ঢাকা দিশা,            হেমন্তের তীব্র নিশা,
ঝটিকা, করকা ঘোর তরঙ্গ নর্তন,
উপেক্ষিত তৃণজ্ঞানে,          আসিত আমার ধ্যানে,
প্রাচীর পর্বত সম করিত লঙ্ঘন,
দেখে যেত ব্যগ্র তত যত অযতন,---
সহি রবি, মেঘ-বরিষণ |


কেন এলো কেন গেলো সুখের স্বপন,
এবে যদি দেখি কারে,        ফিরে নাহি চায় বারে,
ডাকিলে চিনিতে নারে ফিরায় বদন ;
বেণীতে নাহিক ফাঁস,          অধরে কুহকী হাস,
বেঁধে না নয়ন, গেছে চপল যৌবন,
করি নাই আবাহন, করিনি বর্জন,---
এলো গেলো সুখের স্বপন |


কাচ বাঁধি অঞ্চলে কাঞ্চনে অবহেলা,
কেন দিব দেহ দান,            প্রাণ দিয়ে নেব প্রাণ,
প্রণয় বন্ধন প'রে হবে কিনা খেলা ;
চাহিতাম উপাসনা,           কাঁদাইব --- কাঁদিব না,
না বুঝে বেদনা সহি বেদনা একেলা,
দান-প্রতিদানে ধরা আনন্দের মেলা,---
কাঞ্চনে করেছি অবহেলা!

********
.                                                                                     
উপরে
জুড়াইতে চাই  

জুড়াইতে চাই --- কোথায় জুড়াই?   
কোথা হতে আসি কোথা ভেসে যাই!
ফিরে ফিরে আসি, কত কাঁদি হাসি,
কোথা যাই সদা ভাবি গো তাই!     
কে খেলায়, আমি খেলি বা কেন?   
জাগিয়ে ঘুমাই কুহকে যেন!          
এ কেমন ঘোর হবে নাকি ভোর,     
অধীর-অধীর-যেমতি সমীর, অবিরাম গতি নিয়ত ধাই!
জানিনা কেবা, এসেছি কোথায়       
কেন বা এসেছি, কে নিয়ে যায় |     
যাই ভেসে ভেসে, কত কত দেশে,   
চারিদিকে গোল, উঠে নানা রোল,    
কত আসে যায়, হাসে কাঁদে গায়, এই                  
            আছে আর তখনি নাই!
কি কাজে এসেছি--- কি কাজে গেল,  
কে জানে কেমন, কি খেলা হল ; ---  
প্রবাহের বারি, রহিতে কি পারি,     
যাই ---যাই কোথা? ---কূল কি নাই?
কর হে চেতন,--- কে আছ চেতন,    
কত দিনে আর ভাঙ্গিবে স্বপন?---   
যে আছ চেতন, ঘুমা'ওনা আর,      
দারুণ এ ঘোর নিবিড় আঁধার,        
কর তম নাশ, হও হে প্রকাশ,---      
তোমা বিনা আর নাহিক উপায়, তব পদে           
   তাই শরণ চাই ||


.                                         ********                                     
উপরে
রাঙা কমল রাঙা করে, রাঙা কমল রাঙা পায়,
রাঙা মুখে রাঙা হাসি, রাঙা মালা রাঙা গায় |
রাঙা ভূষণ রাঙা বসন, রাঙা মায়ের ত্রিনয়ন,
কত রাঙা রবি-শশী, রাঙা নখে প'ড়ে হায় !
পদ্ম-ভ্রমে পদতলে, পড়ে অলি দলে দলে,
এলোকেশী কে রূপসী, ডাকলে তাপিত প্রাণ জুড়ায় ||


.                   ********
                                                       উপরে
জয় নীল-বসনা, পদ্মাসনা বিমল উজ্জ্বল-বরণে |
মধুর-হাস তমো-বিনাশ, মনবিকাশ স্মরণে |
নগবালা নব নলিনীমাল, নব নীরদ কেশজাল,
নব নিশাকর-শোভিত ভাল, তড়িত জড়িত চরণে |
তন্ময়ী তারা ত্রিতাপতারিণী, শরণাগত-শমনবারিণী,
পরমা-প্রকৃতি প্রথম-চারিণী, দুর্গে দুখ-হরণে ||


.                   ********
                                                       উপরে
মদ-মত্ত মাতঙ্গিনী উলঙ্গিনী নেচে ধায় |
নিবিড় কুন্তলদল বিজড়িত পায় পায় ||
নখরে অরুণ ছোটে, পদ-চিহ্নে পদ্ম ফোটে,
মকরন্দ-গন্ধ-অন্ধ ভৃঙ্গবৃন্দ গুঞ্জি ধায় |
অট্টহাস্য অবিরত তড়িত প্রকট কত,
উজ্জ্বল ঝলকে আলো, কালো বরণ-ঘটায় ||


.                   ********
                                                       উপরে
ঊর্দ্ধ জটাজুট গভীর নিনাদিনী |
উগ্রতুণ্ডা ভীমা অশিব বিমদিনী ||
দনুজ হ্রাস ত্রাস, লক্ লক্ রসনা,
অসুর-শির-চূর, ভীষণ দশনা,
ধিয়া তাধিয়া ধিয়া, টল টল মেদিনী ||

নর-কর-বেষ্টিত কপালমালিনী,
রুধির অধরা তারা শিশুশশী-ভালিনী,
নয়ন-জ্বলন-জ্বালা, সুর-হৃদি-বর্দ্ধিনী ||


.            ********
                                                      উপরে