হাসিরাশি দেবী – চিত্রশিল্পী, কবি, লেখিকা, শিশু-সাহিত্যিক। জন্মগ্রহণ করেন পিতার কর্মক্ষেত্র অধুনা
পশ্চিম দিনাজপুরে। আইনজীবী পিতার নাম গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি সাহিত্যিক প্রভাবতী দেবী
সরস্বতী তাঁর দিদি।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর নাম রেখেছিলেন “চিত্রলেখা”।
তিনি ছবি আঁকার শিল্পী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শিল্পাচার্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে তিনি
পেইন্টিঙের কাজ শেখেন। পরে ভার্কর্য শিখতে ভর্তি হন কলকাতার সরকারী আর্ট কলেজে। প্যারিসে
পাঠানো তাঁর আঁকা ছবি প্রশংসিত ও বিক্রী হয়। দিল্লী বম্বাই ও লখনৌতেও তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।
তাঁর আঁকা মেঘদূত চিত্রটির জন্য তিনি মধ্যপ্রদেশের পুরস্কারে ভূষিত হন।
সাহিত্যও ছিল তাঁর সহজ বিচরণ ক্ষেত্র। তিনি প্রধানত শিশুদের জন্য লিখতেন। আকাশবাণী কলকাতার
শিশুদের অনুষ্ঠানেও তিনি অমশগ্রহণ করেছেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “বর্ণালী”, “হট্টগোল”,
"স্বনির্বাচিত কবিতা" প্রভৃতি। তাঁর গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “ভোরের ভৈরবী”, “রাজকুমার জাগো” প্রভৃতি।
তাঁর উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে "নিষ্প্রদীপ", "মানুষের ঘর", "বন্দী বিধাতা", "ভোরের ভৈরবী", "রক্তলীলার
রত্নরাজী", "রাজকুমার জাগো" প্রভৃতি। তাঁর রচিত জীবনীগ্রন্থ "স্বামী অভেদানন্দ"।
সঙ্গীতবিদ্যাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। এইচ.এম.ভি. ও গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে তাঁর গানের রেকর্ড
বেরিয়েছিল।
সভাসমিতিতে, আকাশবাণীতে নারীচেতনা ও নারী প্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
জীবনের শেষ পর্যায়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটান খাটিরার হাই স্কুল চত্তরে একটি মাত্র ঘরে।
ডঃ শিশিরকুমার দাশ লিখেছেন যে “তাঁর বহু কবিতা ও ছড়া বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কিন্তু কোনো
গ্রন্থে সংগৃহিত হয় নি। অত্যন্ত দুঃখ-পীড়িতা, প্রতিভাশালিনী এই নারীর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ষাট।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ভূবনমোহিনী স্বর্ণপদকে ভূষিত করেন।
আমরা মিলনসাগরে কবি হাসিরাশি দেবীর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারলে
এই প্রচেষ্টা সার্থক মনে করবো।
উত্স - শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩
কবি হাসিরাশি দেবীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৮.০৭.২০১৩
...