মাধবিকা

দখিন হাওয়া---রঙিন হাওয়া, নূতন
জীবন-রসের রসিক বঁধু, যৌবনেরি
সিন্ধু থেকে সদ্দ বুঝি আসছ আজি
গাং-চিলেদের পক্ষধ্বনির শন্ শনানি
মৌমাছিদের মনভুলানি গুনগুনানির
চললে কোথায় মুগ্ধ পথিক, পথটি বে

অনেক দিনের পরে দেখা, বছর-পারে
হোক্ না হাজার ছাড়াছাড়ি, রেখেছ
---তেমনি সরস ঠাণ্ডা পরশ, তেমনি
দেখতে পেলেই চিনতে পারি, কোনো
---কোথায় ছিলে বন্ধু আমার, কোন্
নারিকেলের কুঞ্জে-বেড়া কোন্ সাগরে
লকলকে সেই বেতসবীথির বলো তো
এলা-লতার কেয়াপাতার খবর তো

---ভালো কথা, দেখলে পথে সবাই তোমায় বন্দে তো,---
অপরাজিতা

পরাজিতা তুই সকল ফুলের কাছে,
তবু কেন তোর অপরাজিতা নাম?

বর্ণ-সেও ত নয় নয়নাভিরাম |


ক্ষুদ্র অতসী, তারো কাঞ্চন-ভাতি ;

রূপগুণহীন বিড়ম্বনার খ্যাতি!

কালো আঁখিপুটে শিশির-অশ্রু ঝরে---
ফুল কহে---মোর কিছু নাই কিছু নাই,



ফুলসজ্জায় লজ্জায় যাই নাক,


বিবাহ-বাসরে থাকি আমি ম্রিয়মাণ |

মোর ঠাঁই শুধু দেবের চরণতলে,
পূজা-শুধু-পূজা জীবনের মোর ব্রত ;
তিনিও কি মোরে ফিরাবেন আঁখিজলে---


.              ***********           
.                                                                                       
উপরে    




মিলনসাগর
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিতা
*

.                    ***********           
.                                                                                            
উপরে    




মিলনসাগর
*
আপেলের মত মুখ          আপেলের মত বুক
পরিপূর্ণ প্রবল প্রচুর ;
যৌবনের রসে ভরপুর |

একটু নাহিকো ডর তাতে ;
উঘারি বুকের বাস,          পুরায় বিচিত্র আশ
উরস পরশি নিজ হাতে!

অজানা ব্যাথায় সুমধুর---

যুবতি একেলা পথ চলে ;
পাশের পলাশ-বনে          কেন চায় অকারণে?
আবেশে চরণ দুটি টলে---
পায়ে-পায়ে বাধিয়া উপলে!

তবু কেন আনপানে টান?
করিতে রসের সৃষ্টি          চাই কি দশের দৃষ্টি?
---স্বরূপ জানেন ভগবান!

সহজে নাচিয়া যেবা চলে

জানি নাকো তারো কী ব্যাথায়


***********
.                                                                                              
উপরে    




মিলনসাগর
*
*
বন্ধু বলে' চিনতে কারো হয়নি তো ভাই সন্দেহ?
নরনারী তোমার মোহে তেমনি তো সব ভুল করে---
তেমনিতর পরস্পরের মনের বনে ফুল ধরে!
আসতে যেতে দীঘির পথে তেমনি নারীর ছল করা ;
পথিকবধুর চোখের কোণে তেমনি তো সেই জলভরা?
*         *         *          *
রঙ্গনে সেই রং তো আছে, অশোকে তাই ফুটছে তো,
শাখায় তারি দুলতে দোলায় তরুণীদল জুটছে তো?
তোমায় দেখে' তেমনি দেখে উঠছে তো সব বিহঙ্গ,
সবুজ ঘাসের শীষটি বেয়ে রয় তো চেয়ে পতঙ্গ?

তেমনি---সবই তেমনি আছে! --- হ'লাম শুনে' খুব খুশী,
প্রাণটা ওঠে চনচনিয়ে, মনটা ওঠে উসখুসি', ---
নূতন রসে রসল হৃদয়, রক্ত চলে চঞ্চলি', ---
বন্ধু তোমায় অর্ঘ্য দিলাম উচ্ছলিত অঞ্জলি |
গ্রহণ করো, গ্রহণ করো---বন্ধু আমার দণ্ডেকের---
জানিনাক আবার কবে দেখা তোমার সঙ্গে ফের ||

.                    ***********           
.                                                                                          
উপরে    




মিলনসাগর
*
ফাল্গুনী চাঁদের জ্যোছনা-জুয়ারে ভুবন ভাসিয়া যায়,
স্বপন-দেশের পরী-বিহঙ্গী, পাখা মেলে উড়ে' যায়'!
শ্যামল কোমল ঘাসে
মিলনসাগর এই   বিকচ পুন্দরাশে
বন-মল্লিকাবাসে,
মিলনসাগরএই   ফুরফুরে মলয়ায়---
তারালোক হ'তে কিরণ-সুতায় ধীরে ধীরে নেমে আয়ে |

ঘাসের ডাঁটায় ফড়িং ঘুমায় সবুজ-স্বপন-সুখে,
পদ্মকোরকে অচেতন অলি শেষ মধুকণা মুখে!
ঝিঁঝির ঝি ঝিট তান,
মিলনসাগর দেখ   নিশি শেষে অবসান,
টুনটুনিদের গান  
মিলনসাগর  এবে   বিরত ক্লান্ত বুকে ;---
মোহ-মুর্ছিত মুখর ধরণী, সব ধ্বনি গেছে চুকে' ||

শিরীষ-ফুলের পাপড়ি খসায়ে পরাগ করিব দান,
রজনীগন্ধা গেলাস ভরিয়া অমিয়া করাব পান ;
ঘুম যদি তোর পায়
মিলনসাগর হোথা   ঘুমাবি হিন্দোলায়,
মৃদু দোল দিব তায়,
মিলনসাগর গাহি'   মৃদু-গুঞ্জন গান,---
ঊর্ণনাভের ঝিকিমিকি জালে কেশরের উপাধান |

জোনাকির আলো নিভাবে যখন ঊষার কুয়াশাসারে,
স্বপন-শয়ন ভাঙি' দিব তোর পাপিয়ার ঝংকারে!
ফিরে' যেতে মন চায়,
মিলনসাগর যাস্ ঝিরি ঝিরি ঊষা-বায়,
প্রজাপতির পাখায়---
মিলনসাগর হিম সিক্ত শিশিরধারে ;
নিয়ে যাস্ এই রজনীর স্মৃতি ধরণীর পরপারে ||
এই কবিতা মিলনসাগর.কম থেকে কপিপেস্ট করা

.               ********************           
.                                                                          
উপরে    




মিলনসাগর
আজ
ওরে
এই
এই
তোর

দেখ্
দেখ্
হেথা
ছোট
দেখ্

তোরে
তোরে
শেষে
মোরা
চারু

শেষে
মোরা
যদি
চড়ি'
সাথে
স্বপ্ন দেশ
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
নের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মার শোলক্-বলা কাজ্লা দিদি কই?
রে লেবুর তলে,
থোকায় জোনাই জ্বলে,
ন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মার কোলের কাছে কাজ্লা দিদি কই?

তে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;
থায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
তে আমি যখন
ডাকি তখন,
কে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
কি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
কাজ্লা দিদি    
যতীন্দ্রমোহন বাগচী

বল্ মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে!
দিদির মত ফাঁকি দিয়ে
আমিও যদি লুকাই গিয়ে
স্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল |
ম গাছের ফাঁকে ফাঁকে
লিটা লুকিয়ে থাকে,
য়ে তুমি দিও না মা ছিঁড়তে গিয়ে ফল,
যখন শুনবে এসে বলবি কি মা বল্ |

-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
সময় মাগো আমার কাজ্লা দিদি কই?
র তলে পুকুর পাড়ে
ডাকে ঝোপে ঝাড়ে,
র গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতো জেগে রই,---
হোল মাগো, আমার কাজ্লা দিদি কই?
যৌবন-চাঞ্চল্য
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী