চিত্ত তবু রিক্ত মোদের নিত্য রহে শ
কীর্তি মোদের মৃত্তিকাতে প্রত্যহ রয়
শুণ্য' পরে নিত্য হের স্তোত্র মোদের
সিন্ধুবারি পণ্য বহি' ধন্য করে তৃপ্তিতে,
বহ্নি' মোদের রুদ্র প্রতাপ ব্যক্ত করে
বিশ্ব জুড়ি' সৃষ্টি মোদের, হস্ত মোদের
কাণ্ড মোদের, সর্বঘটে - কোন্ খানে
বিশ্বনাথের যজ্ঞশালে কর্মযোগের অ
কর্ম সে যে ধর্ম মোদের, -- কর্ম চাহি
. ***********
. উপরে
মিলনসাগর
. নিন্দা হবে জানি-----
তবু রাণী, তোমার দ্বারেই সাধবো
আঙুল আমার বশ মানেনা, সুর
অধীর আবেগ আঘাত শুধু করে
তুমি তারে গুছিয়ে বেঁধে বশ মা
সফল করে’ তোলো তোমার ভাবে
মর্ম্মরিয়া বাজুক সে তার মর্ম্মতা
গুঞ্জরিয়া উঠুক বুকের গোপন ব্যথা
করুক লোকে কানাকানি, হাসুক
তোমার চোখের দীপ্তিতে আজ দী
. শঙ্কা তোমার নাই----
নিভৃত যে কুটীর খানি গ্রামের সীমানায় ;
উদার মাঠে নদী পারের পথটি গেছে বাঁকা,
শিয়রে তার নিঃশ্বসিছে বুনো-ঝাউয়ের শাখা |
এদিক বড় লোক চলেনা, ভাবে ---- যে জন যায়----
এমন সাঁঝে মাঠের মাঝে গজল কে বাজায় !
পথিক জানবে কেমন ক’রে কে লাগায় সে সুর ;
কাহার দেওয়া ব্যথায় হেথা সেতার ভরপুর !
না-হয় হেথায় নাইক প্রাসাদ, যন্ত্রী নাই বা আছে,
একটি ভক্ত জাগে তবু একটি দেবীর কাছে !
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিতা
|
মাতা বিনতার দুখের দুলাল, মানুষ নয় সে, পাখি!
মায়ের দুঃখ-ভরা দাসীত্ব ঘুচাইয়াছিল না কি?
যতই এ-হিয়া উঠে গুমরিয়া বিপদ-বেদনা-বিষে,
মানুষের ঘরে জন্ম লভিয়া সে-কথা ভুলিব কিসে?
কোথা প্রাণপণ প্রবল নিষ্ঠা, চিত্ত অকুতোভয়,
কই সে বেদনা, শক্তিসাধনা, পণ মৃত্যুঞ্জয়?
প্রচণ্ড তেজ চাই সে গরুড়---আমাদেরই মাঝে চাই,
অমৃতের লাগি সেই প্রাণপণ--- ভুলিবনা ভুলি নাই |
এস তপস্বী, উগ্রশক্তি, এস হে কর্মবীর,
কর দৃঢ় পণ মায়ের চক্ষে মুছাতে অশ্রুনীর ;
যে মায়ের বুকে জন্ম তোমার, রাখ আজি তার মান |
যে জননী আজ ভিখারিনী হয়ে ভুলেছে আপন বাণী,
অর্জিয়া তারি ধর্মরাজ্য কর তাঁরে রাজরাণী |
. ***********
. উপরে
মিলনসাগর
. তখনো শ্রাবণ-সন্ধ্যা
. নিঃশেষে হয়নি বন্ধ্যা-----
. থেকে থেকে ঝরিতেছে জল ;
. পবন উঠিছে জেগে,
. বিজলী ঝলিছে বেগে------
. মেঘে মেঘে বাজিছে মাদল |
. এই কবিতাটি মিলনসাগর থেকে
. কপি পেসেট করা হয়েছে
জনহীন ক্ষুব্ধ পথ
. জাগিছে দুঃস্বপ্নবৎ----
. বুকে চাপি’ আর্ত্ত অন্ধকার ;
কোনমতে কাজ সারি’
. যে যার ফিরিছে বাড়ী,
. ঘরে ঘরে বন্ধ যত দ্বার|
. এই কবিতাটি মিলনসাগর থেকে
. কপি পেসেট করা হয়েছে
. শূন্য ঘরে
. হিয়া গুমরিয়া মরে
. স্মরি’ যত জীবনের ভুল ;
অকস্মাৎ তারি মাঝে
. ধ্বনি কার কানে বাজে-----
. চাই ফুল----চাই কেয়াফুল !
. এই কবিতাটি মিলনসাগর থেকে
. কপি পেসেট করা হয়েছে
. পাগল ! আজি এ রাতে
. এ দুর্য্যোগ-অভিঘাতে----
. বৃষ্টিপাতে বিলুপ্ত মেদিনী ;
. তার মাঝে কে আছে,
. কেতকী-সৌরভ যাচে !
. কোথায় বা হবে বিকিকিনি ?
পবন উঠিছে মাতি !
. কিছুক্ষণ কান পাতি’
. মনে হ’ল গিয়াছে বালাই ;
সহসা আমারি দ্বারে
. ডাক এল একেবারে----
. চাই ফুল --- কেয়াফুল চাই !
. ভাবিলাম মনে মনে-----
. হয়ত বা এ জীবনে
. কোনোদিন কিনেছিনু ফুল ;
. সেই কথা মনে ক’রে
. আজো বা আশায় ঘোরে ;
. কিম্বা কারে করিয়াছে ভুল !
তাড়াতাড়ি আলো তুলি’
. বাহিরিনু দ্বার খুলি,
. সবিস্ময়ে দেখিলাম চেয়ে----
মাথায় বৃহৎ ডালা,
. দাঁড়ায়ে পসারী-বালা-----
. শ্রাবণ ঝরিছে অঙ্গ বেয়ে ;
. কহিলাম, এ কি কান্ড !
. তোমার পসরাভান্ড
. আজ রাতে কে কিনিবে আর ?
. এ প্রলয়ে কারো কাছে
. কিছু কি প্রত্যাশা আছে-----
. কেন মিছে বহিছ এ ভার !
. এই কবিতাটি মিলনসাগর থেকে
. কপি পেসেট করা হয়েছে
আর্দ্র দেহে আর্দ্র বাসে
. সে কহিল মৃদু হাসে,-----
. শিরে বায়ু সুগন্ধ ছড়ায়----
যে ফুল বেসাতি করি,
. বাদল যে শিরে ধরি,-----
. কপালে লিখিল বিধি তাই !
. বহিয়া দুখের ঋণ
. যে কষ্টে কাটাই দিন-----
. এ দুর্দ্দিন কিবা তার কাছে ?
. ------ ওগো তুমি নেবে কিছু ?
. নয়ন হইল নীচু----
. সেথাও বা মেঘ নামিয়াছে !
খোলা দরজার পাশে
. বায়ু গরজিয়া আসে,
. ফুলবাসে ভরি দেহ-মন ;
ঝর-ঝর ঝরে জল,
. আঁখি করে ছল-ছল
. ঘনাইয়া প্রাণের শ্রাবণ !
. বাদলের বিহ্বলতা----
. বুঝি হায় ! লাগিল তা’
. নয়নে বচনে সর্ব্ব দেহে ;
. সহসা চাহিয়া আড়
. রমণী ফিরাল ঘাড়-----
. উর্দ্ধে যেন কি দেখিবে চেয়ে !
না কহিয়া কোন বাণী
. পসরা লইনু টানি’-----
. মূল্য তার হাতে দিনু যবে,
উজার করিতে ডালা
. কাঁদিয়া ফেলিল বালা------
. ওমা এ কি ---- এত কেন হবে ?
. এই কবিতাটি মিলনসাগর থেকে
. কপি পেসেট করা হয়েছে
. কহিনু ---যা’ কিনিলাম,
. এ নহে তাহারি দাম-----
. প্রতিদিন দিতে হবে মোরে ;
. এক পণ দুই পণ----
. যেদিন যেমন মন,
. তাহারি আগাম দিনু তোরে ;
কতক বুঝে’ না-বুঝে’
. হৃদয়ের ভাষা খুঁজে’
. বহুকষ্টে জানাইয়া তাই,
পুষ্পগন্ধে মোরে ঘিরে’
. অন্ধকারে ধীরে-ধীরে
. পসারিনী লইল বিদায় |
. ফিরিনু একলা ঘরে-----
. বাদল তখনো ঝরে,
. পুষ্পগন্ধে পূর্ণ গৃহতল ;
. শয্যা লইলাম পাতি’
. নিবায়ে দিলাম বাতি----
. আবার আসিল বেগে জল !
রুদ্ধ জানালার ফাঁকে
. বাতাস কাহারে ডাকে,
. বিজলী চমকি’ কারে চায় !
কোন্ অন্ধ অনুরাগে
. ত্রিযামা যামিনী জাগে
. শ্রাবণ ব্যাকুল-ব্যর্থতায় !
. সঙ্গীহীন শূন্য ঘরে
. হিয়া গুমরিয়া মরে----
. স্মরিয়া এ জীবনের ভুল ;
. সেই সাথে থেকে- থেকে
. মনে হয় --- গেল ডেকে’
. কাননের যত কেয়াফুল !
. ***********
. উপরে
মিলনসাগর
. বিজন নদী তীর-----
ঝাউ শাখাতে ঘনায় ধীরে নিশীথ সুনিবিড় ;
দুয়ার না হয় খোলাই থাকুক, কিসের ক্ষতি তায় !
ভয় কোর’ না --- ভৃত্য দ্বারে রইল প্রতীক্ষায় !
দখিন বায়ে গৃহচ্ছায়ে কাঁপছে যে দীপ খানি,
সেই কাঁপনের সুরটি ধরে’ গমক যাবো টানি !
থরথরিয়ে কাঁপবে আঙুল , বক্ষ কাঁপবে সাথে,
অশ্রু কাঁপবে নয়ন-পাতে ব্যাকুল বেদনাতে |
মূর্চ্ছামগ্ন মৌন রাতি প্রহর বেড়ে যায়
ঝিঁঝির ঝুমুর সঙ্গে কাঁদে সেতার মূর্চ্ছনায় |
. বাতাস যদি থামে,-----
ভোরের রাতে হঠাৎ ছাতে বাদল যদি নামে ;
দুয়ার ফাঁকে হাওয়ার হাঁকে প্রদীপ যদি নিবে !
ভক্ত তোমার বাহির দ্বারে, আগলটি কি দিবে !
দীপ নিবে যায়, কি ক্ষতি তায়---কি ফল বলো লাজে,
মল্লারেতে মীড় মিলিয়ে সেতার যে তার বাজে !
মেঘের পর্দ্দা ঘনায় যদি অন্ধ রাতের পরে,
কি প্রয়োজন, দুয়ার দেওয়া রইল কিনা ঘরে !
অশ্রু নামে বর্ষাসম ---- হায় গো রাণী হায়,
মুর্ত্তীমতী সিদ্ধি কি তার ফলবে সাধনায় |
. ঐরে এল আলো-----
রক্ত ঊষা পরল ভূষা সাদার সাথে কালো |
বায়ুর কন্ঠে নাই গরজন, ভজন গাহে পাখী,
পূর্ব্বাচলের তোরণ দ্বারে অরুণ মেলে আঁখি ;
উদাস তব নয়ন-তারার পান্ডু করুণ ছবি----
ক্লিষ্ট আকাশ নির্ণিমেষে দিনের দাহ দেখছে শুধু চাহি’ !
ঘরে ঘরে আগল আঁটা, আমার ঘরেই মুক্ত শুধু দ্বার,
সেই যে খুলে’ চলে’ গেছে তেম্ নি আছে, কে দেয় উঠে’ আর !
পথের ধারে নিমের গাছে একটি কেবল তিক্ত মধুর শ্বাস
ক্ষণে ক্ষণে জানায় শুধু গোপন বুকের উদাসী উচ্ছ্বাস !
হাহা করে তপ্ত হাওয়া শষ্যহারা বসন্ত-শেষ মাঠে,
চোতের ফসল বিকিয়ে গেছে কবে কোথায় অজানা কোন্ হাটে !
উদার মলয় নিঃস্ব আজি, সাম্ নে শুধু ধূসর বালুচর
পঞ্চতপা দিক্-বিধবার বসন খানি লুট্ ছে নিরন্তর !
কোন্ পথে সে গেছে চলি’ মরু-বেলায় চিহ্নটি নাই তার,
লুপ্ত সকল শ্যামলিমা লয়ে তাহার মুগ্ধ উপাচার ;
জাগ্ ছে শুধু প্রখর দাহ তৃষ্ণাভরা বিশুষ্ক জিহ্বায়
দিনান্ত সে আস্ বে কখন ? দম্ কা বাতাস ধমক্ দিয়ে যায় ;
. ***********
. উপরে
মিলনসাগর
কর্ম
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
শক্তি মায়ের ভৃত্য মোরা- নিত্য খা
শক্ত বাহু, শক্ত চরণ, চিত্তে সাহস স
ক্ষুদ্র হউক, তুচ্ছ হউক, সর্ব সরম-শ
কর্ম মোদের ধর্ম বলি কর্ম করি রাত্রি
চৌদ্দ পুরুষ নিঃস্ব মোদের - বিন্দু তা
কর্ম মোদের রক্ষা করে অর্ঘ্য সঁপি
সাধ্য যেমন - শক্তি যেমন - তেমনি
দুঃখে-সুখে হাস্যমুখে কর্ম করি নিষ্ঠা
কর্মে ক্ষুধার অন্ন যোগায়, কর্মে দেহে
দুর্ভাবনায় শান্তি আনে --- নির্ভাবনা
তুচ্ছ পরচর্চাগ্লানি--- মন্দ ভালো--- কো
নিন্দা হতে মুক্তি দিয়া হাল্কা রেখে
পৃথ্বি-মাতার পুত্র মোরা, মৃত্তিকা তার শয্যা তাই ;
পুষ্পে-তৃণে বাসটি ছাওয়া, দীপ্তি-হাওয়া ভগ্নী-ভাই |
তৃপ্তি তাঁরি শস্যে-জলে ক্ষুত্ পিপাসা দুঃসহ |
মুক্ত মাঠে যুক্ত করে বন্দি তাঁরেই প্রত্যহ |
ক্ষুদ্র নহি - তুচ্ছ নহি - ব্যর্থ মোরা নই কভু |
অর্থ মোদের দাস্য করে - অর্থ মোদের নয় প্রভু |
স্বর্ণ বল, রৌপ্য বল, বিত্তে করি জন্মদান,
দাসীপুত্র
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
পরের দুয়ারে দাসী বটে আজি, তবু সে
ভুলিবারে চাই সতত সে কথা ; ভুলিবারে
কাঙালের ঘরে যাহা কিছু জোটে, সে যে
উপবাস ক্ষীণ শীর্ণ বক্ষে শুকায়ে গিয়াছে
তবু তাই খেয়ে বাঁচে এই প্রাণ, তাই দিয়ে
ধূলামাটি মাখা তাহারই অঙ্কে বাঁধি দুদিনে
হাঁটিতে শিখেছি যার হাঁটু ধরে, যে বুকে
হক ভিখারিনী---তবু সে জননী, কেমনে ভু
. কেয়াফুল
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সাধনা
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
. দ্বিপ্রহরে
বইয়ের পাতায় মন বসেনা, খোলা পাতা খোলাই পড়ে’ থাকে,
চোখের পাতায় ঘুম আসেনা---- দেহের ক্লান্তি বুঝাই বলো কা’কে ?