কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিতা
*
নিমেষে তাহার প্রতিশোধ লয় চড়ি’ তার শিরোপরে।

মানুষ কি সেই ধূলি চেয়ে হীন, সহিবে সে অপমান ?
আত্মার সেই মহাদুর্গতি নহে দেবতার দান!
নাই ভগবান, নাইক ধর্ম, যাদের শিক্ষামূলে,
ছিন্নমস্তা শিক্ষা সে শুধু শয়তানি ইস্কুলে!---

দূর করি’ সেই ঝুটো সভ্যতা’ যত ফুঁকো শিক্ষার,
দূর করি’ সেই ভেক্-নেওয়া যত অপমান ভিক্ষার,
আপনার মত আপন শিক্ষা নিজে নিতে হবে জিনে’,
মুক্তির পথ মিলিবে তবে তো দেশ জোড়া দুর্দিনে।
ডাকিছে শেয়াল, রাত্রি দুপুর হ’ল বুঝি এইবার ;
খাটুনির দেহ এইবার ভাই বিশ্রাম দরকার!

সৌরভ যেন পাইবা কিসের---চিঁড়ে-কোটা বুঝি হয়!
ঢেকির শব্দ --- তাই তো রে ঠিক! সমস্ত বাড়ীময়
নূতন ধানের মধুর গন্ধ মাতায়ে তুলিছে মন---
আর কি চাই রে ? কোন আয়োজনে নাই কিছু প্রয়োজন।
অতখানি দুধ ?---কি হবে রে ভাই ? খানিকটা রাখ তুলে’,
হজম-ই হয় না খাঁটি দুধ, সে যে বহুদিন গেছি ভুলে’।
এখো-গুড় নাকি! বাড়িতে হয়েছে ? তিন মন দশ সের!
সবি ত বাড়ীর! হায়, একি দান গরীব গৃহস্থের!

.               ***************************           
.                                                                                            
উপরে    




মিলনসাগর
চাষার ঘরে
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী

প্রভাত হইতে ভদ্র-পাড়ায় ঘুরে’ ঘুরে’ সারাবেলা,
হজম করিয়া হরেক-রকমে ভদ্র-আনার ঠেলা---
মুখোস-পরানো মলাম মিথ্যা, বিনীত অহংকার,
*


.               ***************************           
.                                                                                            
উপরে    




মিলনসাগর
প্রিয়ার আবাস খুঁজি' সারাদিন ফিরি সযতনে
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
শনিবারের চিঠি, বৈশাখ ১৩৫১ (এপ্রিল ১৯৪৪) সংখ্যা থেকে নেওয়া

প্রিয়া
*
---ওরা বিলকুল ঘুস্ তুতো ভাই,
তুমি লও এত, আমি এত চাই,---
.        চোরাই বাজারে বাস।


আর এরা কারা---কঙ্কালসার,---
প্রতি হাড়খানা গোণা যায় যার,
.        জুড়ি সারা দিকদেশ ?
---এরাই যে ভাই, ভারতবর্ষ,
নাই যাহাদের বিষাদ-হর্ষ,
.        ম’রেও হয় না শেষ।

চোখে নাই দিঠি, মুখে নাই বাণী
.        হাত দুটো পাতা আছে ;
কারো বহে শ্বাস, কারো বা বয় না
উড়িছে শকুনি, সবুর সয় না,
.        শেয়ালে লয় বা পাছে!

ভিক্ষায় গেছে যাদের জীবন,
.        মরণে কি করে তার ?
সেই হাত-পাতা---ললাট-লিখন,
.        দারা-সুত---কে-বা কার!

.            ***************************           
.                                                                                            
উপরে    




মিলনসাগর
বে-নামা
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
শনিবারের চিঠি, ফাল্গুন ১৩৫১ (ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫) সংখ্যা থেকে নেওয়া


ওরা ভাই, কারা---প্রকাণ্ড মুখ
গলা থেকে শুরু---নীচে নাই বুক---
.        তুবড়ির মত ফোটে ?
---এরা দেশনেতা, যে সব জনের
*
জনতার কোলাহল এড়াইয়া চল ওইখানে,
মনের মানুষ যেথা খুলিয়াছে দেহ-আবরণ,
যন্ত্রের গর্জ্জন যেথা ডুবে গেছে বাণীহীন গানে,
সেখানে নীরব ব’স, সময়ের তরঙ্গের মুখে
বিরাট বৃহৎ বহু ফেনা হয়ে ফাটিছে বুদ্বুদে,
বহু কীর্ত্তিমান জন চিহ্নহীন বালুবেলা-বুকে,
অনেক পঙ্কিল জল ভ’রে গেছে কহ্লারে কুমুদে।
মন্বন্তর পার হয়ে নবজন্ম লভিবে কাহারা---
রাজ্য আর রাজনীতি উচ্চকণ্ঠে করিছে আহ্বান,
বহু জনপদ-দুঃখে হাহাকার করিছে সাহারা
কবির কাব্যেতে শুধু লেখা আছে পতন উত্থান!
কোথা রাম, রামায়ণ যে লিখেছে তারে নমস্কার।
অতীতের ইতিহাস ভবিষ্যের নহে কি ইঙ্গিত ?
রাজপথে কোলাহল, দুঃসাহসী, রুদ্ধ কর দ্বার,
রুদ্ধ ঘরে গুমরিছে সুবিপুল বিশ্বের সঙ্গীত।

.            ***************************           
.                                                                                 
উপরে    




মিলনসাগর
*
এত আশা, এত কলা ছলনা,---
একটি ভুলের লাগি জীবনে
কিছুই সফল তব হ’ল না!

এমন পূজার ফুল হায় রে,
না লাগিল দেবের সেবায় রে!
বাসি বাস শ্বসি মরে আকাশে
ঝরা দল কাদায় লুটায় রে।

.        *************************           
.                                                                                  
উপরে    




মিলনসাগর
*
কভু শিবে দলি’ প্রকট-জিহ্বা অনাচারে শক্তির,
ঘরে ঘরে তুমি অন্নপূর্ণা, অন্নের থালা বহ,
রোগে শোকে তুমি ইষ্টদেবতা, কানে বরাভয় কহ ;
মাতৃরূপের মহিমার সাথে রমণী সে রমণীয়,
আধেক বন্ধ আধেক মুক্তি কামনায় কমনীয়!
শক্তির সাথে শান্তি মিলাও হে চিরগোপনচারী,
কবির প্রণতি লহ তুমি সতী, রহস্যময়ী নারী!

.                 *************************           
.                                                                                   
উপরে    




মিলনসাগর
পথভ্রষ্ট হ’লে কি এখনি ?
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
শনিবারের চিঠি, ফাল্গুন ১৩৫১ (ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫) সংখ্যা থেকে নেওয়া

হে পথিক, ক্লান্ত তুমি ? পথভ্রষ্ট হ’লে কি এখনি ?
স্বৈরিণী
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
শনিবারের চিঠি, জৈষ্ঠ ১৩৫০ (মে ১৯৪৩) সংখ্যা থেকে নেওয়া

ঝুটো মতি গিলটির গহনা---
নারী
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী
শনিবারের চিঠি, আশ্বিন ১৩৫১ (সেপ্টেম্বর ১৯৪৪) সংখ্যা থেকে নেওয়া

কণ্টকঘন দুঃখগহন সরণির সহচরী,