“রাজনীতি চুরির জন্য নয়, দেশ গড়তে হবে” বসু / বর্তমান / ১৯ জানুয়ারী ১৯৯৭
আপনার সুভাষিত খেয়ে কারও কি পেট ভরবে, বসু মহাশয় ? এই সব উচ্চ উচ্চারণে কতো জলে কতো দুধ আপনিই বলুন | আপনি কি আর একটি মুহুর্তও আয়নার সামনে দাঁড়াবেন না | . আমাদের প্রবঞ্চনা করছেন করুন . কিন্তু আত্মপ্রবঞ্চনা আরও কত দিন ? . দুঃস্বপ্নেও কি কোনও দিন মিথ্যার মুখোশ খুলে . সত্যের মুখশ্রী আপনি দেখবেন না ||
রাত এগারোটা হাত-ঘড়ি তাই ব’লছে উদ্বেগ ছিল সারা রাত জুড়ে . উদ্বেগ ছিল সারা দিন ঘুরে-ঘুরে কে কাকে কতোটা বানাবে বলির পাঁঠা . ঘুম নেই সারারাত . ঘুম নেই সারাদিন
সিঁড়িতে পিছলে প’ড়ে . ডানবাহুমূল চোটের অধীন . বাইরে এবং ঘরে
তুমি বড্ড দূরে চলে যাচ্ছ ইদানিং সারা দিনমান তুমি ব্যস্ততার বর্ম পড়ে থাক ঘাড়-ভাঙা ব্যস্ততার দুস্তর আড়ালে তুমি কি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং সমুহ প্রস্তুত ? সর্বনাশ! আমি কিছুই জানিনে |
আমি এ-রকম যুদ্ধ পছন্দ করিনে দু-পক্ষ প্রস্তুত হয়ে সমকক্ষ হলে তারপরে খেলা ... তুমি এত ব্যস্ত থাক আমি কিচ্ছু খবরই রাখিনে | নাকি আমি হেরে গেলে তুমি খুশি হও ? আচ্ছা, তাই হবে | আমি যুদ্ধে হেরে যাব | দেখে নেব তোমার শক্তির ব্যবহার--- তুমি কতদূরে যেতে পার, দেখা যাবে |
দুঃখ কিংবা সুখ কিংবা ঘৃণা কিংবা প্রেম ভালবাসা কিংবা বিরহ কিছুই আর ইদানিং দ্বন্দ্বাতীত নয়--- কখন ছিল কি ? তবু এ-রকম দ্বন্দ্ব আমি কিন্তু পছন্দ করিনে | ব্যস্ততার বর্ম ছিঁড়ে ভান ছেড়ে তোমার সহজ হওয়া চাই বীজের খোলস ছিঁড়ে রোদ্দুরের দিকে যাওয়া চাই |
এ-জন্য দু-দণ্ড নয়, দু-এক দিনের ধৈর্য নয়--- মন্দাক্রান্তা অবসরে ফিরে যেতে হবে : তুমি রোদ্দুরের দিকে ঈশ্বরীর মতো আমি সমস্ত দুপুরময় হেঁটে যাব |