তোমাকে আমি রেখে এসেছি তোমারই দুই হাতে : তুমি যা করো সইতে যেন পারি তোমার ক্ষমা বইতে যেন পারি তোমার দিবসরাত্রিগুলি সাজানো থরে থরে এ ঘর থেকে ও ঘর জুড়ে আদরে অনাদরে
তুমি কী রকম বদলে যাচ্ছ ? . চেহারার সঙ্গে-সঙ্গে কথাবার্তা, ব্যবহারে, চালচলনে তুমি কত বদলে যাচ্ছ বড়ো শহরের দুস্তর অপরিচয়ে তুমি নিজেকে আব্রু করো যেন আত্মরক্ষার গরজে
কিন্তু একে কি আত্মরক্ষা বলে ? তুমিই উত্তর দাও --- . বলো আমি অনুমান করতে পারি : যে-তুমি আমার টেবিলে স্বপ্নে, জাগরণে আলো ক’রে আছ . সব সময় বিবাহপূর্বের অনুষঙ্গে ওই শাড়ীর আঁচল হাওয়া ও মেঘের সঙ্গে উড়েছিল . যেন বা রবীন্দ্রগানের কলি : . “মন মোপ মেঘের সঙ্গী, . উড়ে চলে দিগ্ দিগন্তের পানে ...”
তুমি কত বদলে গোছ : মধ্যবয়সিনী মেদে, তন্বী শ্যামা, ত্বকের চিক্কনে আর সচ্ছল ফসলে . আর বিউটি পারলারে আজকাল মুখোশ ও মুখশ্রীতে পূর্ব পরিচয় পট ঢাকা প’ড়ে গেছে যে-মেয়ে হাওয়ায় উড়তো লঘু পত্রালি... আমি খুঁড়ে তুলতে গিয়ে রাখালদাসের মাহেঞ্জোদারোর দূর, সুদূরের স্বপ্নে ও বাস্তবে এক নাগাড়ে পিছু হেঁটে-হেঁটে শিরা-উপশিরার জটিল জঙ্গলে . একা গাঁইতি-শাবলে নিজেকে খনন করি শুধু
হয়তো তোমাকে তা স্পর্শও করে না কিন্তু . আমি হাতে-নাতে ধরা পড়ি জলের গভীর থেকে হঠাৎ যেমন মায়াবী বঁড়শিতে
মাছ উঠে আসে সে সময় তোমার অস্তিত্ব আমি এক জেদে উপেক্ষা করি ভুলে যাই কিন্তু কি আশ্চর্য তুংমি হাঁটু মুড়ে . আমার ভিতরে ঢুকে পড়ো আর আমি তোমার চাইতেও বেশি . বদলে যাই : . আমার চেহারা তোমার ফটোর মধ্যে জন্মগ্রহণ করে আমার গলার স্বরে তোমার আওয়াজ সুরে বসে | তোমার সংলাপ আমি হ’য়ে উঠি
তোমার সবক’টি তৃণ লক্ষ্যভ্রষ্ট হ’য়ে . আছড়ে পড়ে ছো-নাচের বিশাল মুখোশ ... তোমার সজত্ন ব্যুহ দাবার কূট চালে মাৎ ধ্বসে পড়ে যেন হাঁটু জলে ভরাডুবি | . মাঝরাতের যোগাসনে যে-রকম জিতেন্দ্রিয় ঋষি আতেংরক্ষা করেন
হায়, একে কি বলে আত্মরক্ষা ? কাকে রক্ষা ? রক্ষণাবেক্ষণ কাকে বলে ? কে কার রক্ষক ?
--- এসব প্রশ্নের টানে আত্মখননে তোমার তো . এসে যায় না কিছু শুধু আমার ভিতরে ভূমিকম্পে আমল ভাঙচিরে