*
ভালোবাসার গান
কবি কবিরুল ইসলাম

ভালোবাসা নিয়ে ঢের যুদ্ধ হয়ে গেছে
এই যুদ্ধ প্রাণের গানের,---
ভালোবাসা নিয়ে আরও ঢের যুদ্ধ হবে
এই যুদ্ধ মানাভিমানের |

এই যুদ্ধে জয় নেই, পরাজয় নেই :
চলো যাই উৎসে উজানের,
ভালোবাসা নিয়ে আরও ঢের যুদ্ধ হবে

এই যুদ্ধ আবহমানের ||

.                    ******************          
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর   
নাহারের জন্য
কবি কবিরুল ইসলাম

তোমাকে আমি রেখে এসেছি তোমারই দুই হাতে :
তুমি যা করো সইতে যেন পারি
তোমার ক্ষমা বইতে যেন পারি
তোমার দিবসরাত্রিগুলি সাজানো থরে থরে
এ ঘর থেকে ও ঘর জুড়ে আদরে অনাদরে

কান্নাহাসির টুকরোগুলো রবিঠাকুরের গানে
তোমার কণ্ঠে অবলীলায় সঙ্গী খুঁজে আনে

তুমি আমার গীতবিতান, আমার গীতাঞ্জলি
আলোয় আমার ছায়াসঙ্গী, আঁধারে দীপাবলি

আমাকে তাই রেখে যাচ্ছি তোমার দুই হাতে ...

.                    ******************          
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর   
*
আত্মখনন
কবি কবিরুল ইসলাম


তুমি কী রকম বদলে যাচ্ছ ?
.                চেহারার সঙ্গে-সঙ্গে
কথাবার্তা, ব্যবহারে, চালচলনে তুমি কত বদলে যাচ্ছ
বড়ো শহরের দুস্তর অপরিচয়ে তুমি নিজেকে আব্রু করো
যেন আত্মরক্ষার গরজে


কিন্তু একে কি আত্মরক্ষা বলে ? তুমিই উত্তর দাও ---
.                                                বলো
আমি অনুমান করতে পারি :
যে-তুমি আমার টেবিলে স্বপ্নে, জাগরণে আলো ক’রে আছ
.                                                সব সময়
বিবাহপূর্বের অনুষঙ্গে ওই শাড়ীর আঁচল
হাওয়া ও মেঘের সঙ্গে উড়েছিল
.                        যেন বা রবীন্দ্রগানের কলি :
.                        “মন মোপ মেঘের সঙ্গী,
.                        উড়ে চলে দিগ্ দিগন্তের পানে ...”


তুমি কত বদলে গোছ : মধ্যবয়সিনী মেদে, তন্বী শ্যামা,
ত্বকের চিক্কনে আর সচ্ছল ফসলে
.                                আর বিউটি পারলারে আজকাল
মুখোশ ও মুখশ্রীতে
পূর্ব পরিচয় পট ঢাকা প’ড়ে গেছে যে-মেয়ে হাওয়ায় উড়তো লঘু পত্রালি...
আমি খুঁড়ে তুলতে গিয়ে রাখালদাসের
মাহেঞ্জোদারোর দূর, সুদূরের স্বপ্নে ও বাস্তবে
এক নাগাড়ে পিছু হেঁটে-হেঁটে
শিরা-উপশিরার জটিল জঙ্গলে
.                        একা
গাঁইতি-শাবলে
নিজেকে খনন করি শুধু


হয়তো তোমাকে তা স্পর্শও করে না কিন্তু
.                        আমি হাতে-নাতে ধরা পড়ি
জলের গভীর থেকে হঠাৎ যেমন মায়াবী বঁড়শিতে


মাছ উঠে আসে
সে সময় তোমার অস্তিত্ব আমি এক জেদে উপেক্ষা করি
ভুলে যাই
কিন্তু কি আশ্চর্য তুংমি হাঁটু মুড়ে
.                        আমার ভিতরে ঢুকে পড়ো
আর আমি তোমার চাইতেও বেশি
.                        বদলে যাই :
.                                আমার চেহারা
তোমার ফটোর মধ্যে জন্মগ্রহণ করে
আমার গলার স্বরে তোমার আওয়াজ
সুরে বসে | তোমার সংলাপ
আমি হ’য়ে উঠি


তোমার সবক’টি তৃণ লক্ষ্যভ্রষ্ট হ’য়ে
.                                আছড়ে পড়ে
ছো-নাচের বিশাল মুখোশ ...
তোমার সজত্ন ব্যুহ দাবার কূট চালে মাৎ
ধ্বসে পড়ে
যেন হাঁটু জলে ভরাডুবি |
.                                মাঝরাতের যোগাসনে
যে-রকম জিতেন্দ্রিয় ঋষি আতেংরক্ষা করেন


হায়, একে কি বলে আত্মরক্ষা ? কাকে রক্ষা ?
রক্ষণাবেক্ষণ কাকে বলে ? কে কার রক্ষক ?


--- এসব প্রশ্নের টানে আত্মখননে তোমার তো
.                                        এসে যায় না কিছু
শুধু আমার ভিতরে ভূমিকম্পে আমল ভাঙচিরে


হঠাৎই বদলে তুমি আমার টেবিলে উঠে বসো ||


.                    ******************          
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর   
কবি কবিরুল ইসলাম-এর কবিতা
*
*
১০০
কবি কবিরুল ইসলাম

আনন্দ জীবনে আছে অলক্ষে কোথাও
কোথাও নদীর জল রয়ে গেছে তাই
একটু ধীরে সুস্থে সেই জীবনের স্বাদ

কেউ পায়, কেউ পায় না তবু অন্বেষণ ...

তোমার অঞ্জলি ভ’রে সে-জলের ধারা
দশটি আঙিলের ভিড়ে ঝরে গেলে
দুহাত তবু তো স্পর্শে চিরচিহ্নে ঋণী

মুহুর্ত-আনন্দে আমি ধন্য হতে পারি

যতই সে-জল বন্দী : গার্হস্থ গোপনে
আহ্নিক তো সারা যায়, নাই বা হলো স্নান

এখানে কোথাও নেই বিশুদ্ধ ডাকঘর ||


.                    ******************          
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর