| কবি কালিদাস রায়ের কবিতা |
| শুর্দ্ধ কথা কবি কালিদাস রায় “আহরণী” কাব্যগ্রন্থ থেকে শুর্দ্ধ করে’ কথা বলার আমার সদাই চেষ্টা, আমি বলি কেষ্টপ্রসাদ লোকে বলে কেষ্টা। মাছেরে তাই কহি মচ্ছ, কাছারে তাই বলি কচ্ছ কোটেরে তাই কোষ্ট কহি পিপাসারে তেষ্টা। আমেরে কই আম্র, যেমন জামেরে কই জাম্র, তামায় যেমন তাম্র কহি মামায় কহি মাম্র। পাঠশালাকে পট্টশ্যালক, আটচালাকে অষ্টচালক, কম্বলে কই অল্প-শক্তি ভেবে ভেব শেষটা। চিত্র কলায় চিত্তরম্ভা, কাঁচিরে কই কাঞ্চী, কাসিরে কই বারাণসী, হাঁচীরে কই হাঞ্চী। আলুরে কই অলাবু তাই শ্বশুরে কই শ্বশ্রূ-মশাই, অবাক হয়ে চেয়ে রহে মু-মুক্ষু এই দেশটা। . *********************** . সূচিতে . . . মিলনসাগর |
| বদান্যতা কবি কালিদাস রায় “আহরণী” কাব্যগ্রন্থ থেকে যাহা কিছু কামাই সবি চ্যারিটিতেই যায়, দানের পুণ্য ছাড়া আমার কিছুই নাহি হায়। বড় ছেলেয় দিচ্ছি পঁচিশ, মাসে বাইশ নিচ্ছে শচীশ, দুধের রোজও আছে খোকার, গয়লা টাকা চায়। গয়লা পালন হচ্ছে, কাজেই দানই বলা যায়। পাঁচশ’ টাকার গয়না দিয়ে দিলাম মেয়ের বিয়ে, ফেরত ত আর দিলনাক, বেহাই গেল নিয়ে, তা’ ছাড়া এই পূজার সময় কাপড় চোপড় তা’ও দিতে হয়, মুল্যটা তার রাখছি লিখে খয়রাতী খাতায়। বাধ্য নহি দিতে, কাজেই দানই বলা যায়। ভায়ের মায়ের ( আমারো তাই, তার-ও হলো যা। ভায়ের কাছেই থাকে তাইতে বলছি ভায়ের মা ), কাশী যাওয়ার সময় যখন, টাকার জন্য লিখল মাখন, দশটি টাকা---দুইটি আনা খরচ হলো তায়, ভায়ের দেওয়ার কথা,---তাই তা দানই বলা যায়। গিন্নীকে দেই দু’দশ টাকা প্রায়ই মাঝে মাঝে, তিনি তাতে গয়না গড়ান, একোবারেই বাজে। মায়ের শ্রাদ্ধে ভাগনে বেচু চাইলে টাকা, দিলাম কিছু বাবার মেয়ের শ্রাদ্ধ, তা’ত আমার নহে দায়, দেখলে ভেবে এরে নিছক দানই বলা যায়। গিন্নী আমার রাঁধতে জানেন, তবু ঠাকুর পুষি, গরীব বামুন পাচ্ছে খেতে তাতেই আমি খুসি। যেদিন আমি যাইনা বাজার ঝি-চাকরের জয়জয়কার। চুরি ক’রে নিশ্চয়ই ত বেশীর ভাগই খায়, প্রকার-ভেদে পরোক্ষে তায় দানই বলা যায়। তা’ছাড়া প্রায় সকল জিনিষ পয়সা দিয়েই কিনি, দেখতে গেলে পয়সা নিয়ে খেলছি ছিনি মিনি। পাঁচটা লোককে কোনরূপে পালন করি চুপে চুপে। কোনো রূপে পরোপকার একটা অছিলায়, ঢাক পেটাতে কিন্তু ভায়া দেখবে না আমায়। . *********************** . সূচিতে . . . মিলনসাগর |