কবি কমলেশ সেন-এর কবিতা
*
আগুনের শিকড়, আমার ভালোবাসা
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


তুমি তো জানো এই মুহূর্তে
আমার দু’ চরণের নীচে কেমন মাটির মতো পড়ে আছে |
                                                  
আমার বুকের ওপর আঙুল ঠুকে বলতে পারি
সূর্যাস্তের পর পৃথিবী তার ভোল পালটাবে
বাদাম গাছে ঝুনঝুন করে বেজে উঠবে রাত্রির বাতাস |

তুমি দক্ষিণ হাত আমার দিকে প্রসারিত করে তুলে দেবে
একটুকরো জ্বলন্ত অঙ্গার |

মাটির নীচে অঙ্গার পুঁতে দিয়ে
আমি আগুনের বৃক্ষ পল্লব চাই না |

এই নাও আমার ব্যথা ভালোবাসা
অনেক দুঃখে এতোদিন তোমার জন্যে রেখে দিয়েছি |

কাল ভোরে তুমি মাটির দিকে চেয়ে
এই মুহূর্তকে তুলে নিও |

তোমার বুক থেকে পেটের দিকে নামছে
আগুনের শিকড় |

আমার ভালোবাসা |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সবাই ভালো তো
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


সারা রাত আমরা গভীর নৈঃশব্দ্যে
এ ওর কুশল নিই
সারা রাত আমরা গভীর ঘুমে
বৃষ্টির টানা শব্দ শুনি |

ভোরে জাগে চোখ
পাথরে জাগায় বিস্ময়
এক  ঋতু থেকে আর এক ঋতু
পল্লব থেকে ফুল |

মানুষের মধ্যে ওঠে তুমুল ঝড়
ঝড়ে ওড়ে মাটি ও পাথর
শস্যের সবুজ প্রান্তর |

সারা রাত আমরা গভীর অশ্চর্যে ডুবে থাকি
কুশল নিই এ ওর :

সবাই ভালো আছে
সবাই ভালো তো !

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তাদের একহাতে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এখানে পৃথিবী কবে শিকড়হীন হয়ে পড়েছে
বৃষ্টির অলি-গলি দিয়ে ছুটছে
জীবনের ঝরা-পাতা
শুকনো পাতার ওপর জল এবং স্থলের মানচিত্র
কোনো ভয় নেই
সবরকম ভয়ের দুয়োর তারা এক এক করে খুলে দেখেছে |

হাত পা এমন কি গর্দান ছাড়াও
তারা পৃথিবীর জলের ওপর ঘুরে বেড়ায়
খোঁজে জলের প্রাচীন রূপ
সূর্যের নানা রঙের মধ্যে বিরামহীন বাতাস
শব্দের গভীর ভাষা |

ঘরমুখো মানুষগুলো সমুদ্র পার হয়
বালির ওপর দিয়ে হাঁটে,
বালির ওপর রাখে পায়ের যাদুকরী ছাপ |

যারা তাদের পেছনে আসছে
তারা জানবে এখানে একদিন জেলেদের শহর ছিল
মাছের গন্ধ হয়তো তখন ম ম করবে না
বালির ওপর শুকোবে না
হাঙর সামান মাছর গা থেকে ঝরে-পড়া
নোনা জল |

এত দুঃখের মধ্যেও এখানে মানুষ
জলকে প্রণাম করে
আগুন দিয়ে সেঁকে মাছের শরীর |

মাছের দেশে সমুদ্রকে চোখের মধ্যে ধরে রাখে
কোন কালের শুভ রাত্রি |

কারা এই রাতে মাছের জন্যে
সমুদ্রকে খুন করে
সমুদ্রের পায়ের নীচ থেকে টেনে নিয়ে যায় ক্রোধের বয়স |

এই রক্তাক্ত খুনের মধ্যেও
মানুষ চোখ খুলে মানুষের চোখের দিকে তাকায়
খোঁজে বালির উপর উলঙ্গ শিশুদের ইজেরের দড়ি |
তাদের একহাতে স্বপ্ন জল
একহাতে নুনের পরম আকাশ |

জল এবং বাতাসের ভয়ঙ্কর শব্দের মধ্যে এখানে ভোর হয় |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই সূর্যাস্তেও
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


সূর্যাস্তের পেছনে ছুটতে ছুটতে
আমরা সবাই অরণ্যের মুহূর্ত হয়ে গেলাম
আমাদের গভীর বনভূমি থেকে উঠে এসেছে সমুদ্র
আমরা সেখানে নির্জনে আমাদের পোশাক
ছাড়ি |

তালিমারা প্যান্টের পকেটে সমুদ্রের হলুদ চিতল
চিতলের চোখে ভানুমতীর খেল |

এককাল গিয়ে আর এককালে ঠেকেছে জীবন
এতোকাল পরে দুঃখের একটা মানে বোঝা যায় |

দুঃখকে বোঝাই, এতো দুঃখ কিসের !

সূর্যাস্তের পেছনে ছুটতে ছুটতে
একটুকরো ভালোবাসা ক্লান্ত হয়ে পড়ে
ঘামে ভিজে যায় মাটির প্রবল ছায়া |

ভালোবাসা ক্ষমা জানে করুণাও জানে |

চোখের অনন্তে তার মাতাল হয়ে উঠছে
বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা
ঝঞ্ঝার এক দীর্ণ-আকাশ |

ভালোবাসার ফুল পেলে
এই সূর্যাস্তেও আমরা পেছন ফিরে তাকাই |

পেছনে অরণ্যের মুহূর্তে আমাদের নির্জনতার
পাথর |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রেম এবং দুঃখের মধ্যে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


সারাটা জীবন আমি ব্যস্ততার সাথে
সবকিছু ভুলতে চেয়েছি
প্রেম এবং দুঃখ শুধু আমাকে জাগিয়ে রাখে |

পকেটে হাত রাখলে
সজীব হয়ে ওঠে পতাকা
দিগ্ নির্ণয়ের যন্ত্র বলে দেয়
ভালোবাসার ডালপালা কোনদিকে ছড়াচ্ছে
তার প্রেম |

এমন দিনে আবহাওয়ার খবর নিতে
একটুকরো আগুন রেখে দিই
কলমের পরম-মুখে |

কাগজের ওপর এঁকেবেঁকে ছোটে
নদী,
আগুনের শাখা-প্রশাখা |

প্রেম এবং দুঃখের মধ্যে চোখের অথৈ জল |

আমি মুক্ত কন্ঠে বলতে পারি
নদী
আগুনের শাখা-প্রশাখা আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে |

আমি ছুটছি,
বুকের মধ্যে উড়ছে বৃষ্টির পতাকা |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আল্লার দেশের প্রেসিডেন্টের জন্যে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এই লতাগুল্ম আর অতল জলের দেশে, যেখানে নিয়ত
ধ্বংস এবং জন্মের ভীষণ আপত্য খেলা চলে, সেখানে
আমি আর খলিল চাচা প্রতিদিন
ডাহুক-ডাকা জ্যোত্স্না রাতে সমুদ্রকে ডাকি \
সমুদ্র বড় আবেগে খলিল চাচার উঠোনে
উঠে আসে | খলিল চাচার পায়ের কাছে
স্থির পড়ে থাকে | যেন ঝরা অতসী ফুল |

চাচি সেই স্থির নীল পানিতে
দমকা-হাওয়ায় হাতের গোছা ধোয় |
পা-ভেজানোর আগে, মুহূর্তে চোখের পলক তুলে
চাচাকে ফিসফিস করে বলে, এ-পানি
আমাগোর দ্যাশকে বারবার ভাইস্যা দিতাছে |
আর এখন দ্যাখছো পোলাপাইনের বাড়বাড়ন্ত
বয়সের মতো কেমনডা শান্ত | য্যান ছ্যামড়া
কিচ্ছুডা জানে না |

চাচির হাতের কাচের চুড়ি নোনা জলের নীচে
ঠুনঠুন বেজে ওঠে | যেন বুকের মাঝখানে বাজছে
ছেলেভুলানো বাঁশের ঝুনঝুনি | শব্দে উঠোনের
জ্যোত্স্নাময় সমুদ্র চাচার কোল ভাসিয়ে ছলাৎ ছলাৎ
চোখের কাছে উঠে আসে | লোনা জলের মধ্যে
কেমন একটা শিহরণ সারা শরীর মনে
খেলে যায় | চাচা মুঠো করে ধরে রাখতে চায়
সেই শিহরণ |

চাচা চোখ বুজে আল্লার দরবারে সটান চলে যায় |
মাথার গোল নকশা-কাটা টুপি খুলে
কোলের ওপর সযত্নে রাখে | এভাবে প্রতিদিন
দামাল সমুদ্রকে উঠোনে খোকা-চাঁদের মতো
ধরে রাখলে কেমন হয় !

আমি খলিল চাচার ভেজা-ভেজা উঁচু দাওয়ায় বসে
সারা বাংলাদেশের নীল মুখের ওপর
চোখ ফেরাই | সারা দেশ নমকে পুড়ে ইটের
মেহেদি রঙ নিয়েছে |  একমুঠো গতরের ধান নেই যে,
দেশের মানুষ মুখে তোলে | পেটের জ্বালার নীচে
তলানি দেয় |
এদেশে এমন একজনও প্রেসিডেন্ট আসেননি, যিনি
পোড়া ধান মুখে তুলেছেন | কিম্বা সমুদ্রের ঘন পানি দিয়ে
আল্লাকে সেজদা করেছেন |

মুসলমানের দেশে মুসমানের লাশ পাটখড়ির মতো
ভাসে | মুসলমানের মোমিন প্রেসিডেন্ট মুসলমানের কবরের জন্যে
মুঠিভর মাটিও রাখেননি | বলেছেন, সবই
আল্লার কুদরত | আল্লার কুদরতের ওপর তো কোনো
প্রেসিডেন্ট হাত দিতে পারেন না | আল্লার গজব
আল্লাই সয়ে নিবেন তাঁর নিরাকার শরীরে |

ভোর হওয়ার আগে তিনিসমস্ত লাশ ভাসিয়ে দেন
সমুদ্রের ঘন নুনে | সমুদ্র সমস্ত লাশ ভাসিয়ে
নিয়ে যায় বেহেশতে | হুর পরীর দেশে |
আল্লার নূর তাদের পবিত্র করে তোলে |

খলিল চাচা সমুদ্রের ঢল-জ্যোত্স্নায় বাংলাদেশের
দশকোটি বেওয়ারিশ মানুষের মুখ দেখে |
তাদের চোখে লোনা জল |  কোন জল সমুদ্রের
আর কোন জল চোখের খলিল চাচার
বিজ্ঞ চোখ ঠিক ঠাহর করতে পারে না |

প্রতি বছর দু’লাখ মানুষের নুন-মাখা লাশ
ভেসে গেলে দশ কোটি মানুষের দেশে আর কতো
মানুষ হাটু মুড়ে আল্লাকে মোনাজাত করে ? কতো চাল
প্রতিবছর উদ্ বৃত্ত হয় !

প্রেসিডেন্ট আল্লা আপনাকে চাঁদের মতো
নসিব দিয়েছেন | আপনি দুবেলা গোস্ত-ভাত খেয়ে
পেট থেকে তৃপ্তির ঢেকুর তুলুন | আপনার বুকের ওপর
নিশ্চিন্তে ঘুমাক প্রহরের রূপ, ছায়া |

খলিল চাচা তার খোলা উঠোনের সমুদ্রে
মরা মাছের মতো চিৎ-শুয়ে
আল্লার কুদরত দেখে | এমন গরীব দেশের
যিনি আল্লা তিনি দশকোটি মানুষের জন্যে
কীভাবে গোষা জোগাবেন |

আমি জানি না খলিল চাচার উঠোনের সমুদ্র
খলিল চাচার খোলতাই দাড়ি খলিল চাচার নসিব গোষা
খলিল চাচার আলনী নিদ
বাংলাদেশের কোন ইতিহাস কেতাবে লেখা আছে |
খলিল চাচার বুকের ভেজা-কবুতর
খড়ের চালের ওপর শূন্য আকাশের মতো ভাসে |

খোদার আকাশ এমনই নিরাকার হয় |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমরা তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছি
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


কোনো মোহমুক্তি ঘটাতে আমি চাইনি
যা কিছু ঘটেছে তার একটা যুক্তি
আমি দাঁড় করাতে চেয়েছি
আয়নার সামনে নিজেকে ধরে রাখতে গিয়ে
পেছন থেকে আর্শির মধ্যে ফেলেছি
পেছনে কী ঘটেছে কী ঘটছে |

ঘাড় বেয়ে বেয়ে নামছে চুল
কেউ এ-চুলকে বলে বাবরি
কেউ বা বলে মেঘের কালো ঢল
গাছের ডালে ডালে জীবনের প্রবাহ
একহাত আর একহাতের মধ্যে
নিচ্ছে উষ্ণতার আবেগ,
সবাই যে-যার মতো কথা বলেছে
সব কথার খেই ধরে
আমরা দাঁড়াতে পারি এমন সত্যের কাছে
যেখানে মাটি ফুঁড়ে
ঝরনা জলের মতো উঠছে,
মাটিকে ভেজাচ্ছে আর এক সত্য কথা |

মোহমুক্ত ঘটাতে যেয়ে
যারা আকাশকে পাতালে চালান দিয়েছে
বুকের সভ্যতার ওপর দিয়েছে হানা
তাদের মুখের দিকে স্তব্ধ চেয়ে আছে
মানুষ |

দিনক্ষণ গুনে আমি বলতে চাই না
সবকিছু মিথ্যার একটা সীমা আছে |

বুকের মধ্যে ছলকে উঠছে নদী,
নদী-মাতৃকার দেশে চিরপরিচিত নদীর কাছেই
আমরা সমস্ত নালিশ জানাই |

নদী, ওদের ভরা-ডুবির জন্য
আমরা তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছি |

তুমি মুখ তোল |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কবিতার রুধির বারুদ এবং রোদ্দুর
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


কবিতা লিখি না লিখি
ভোর থেকে দাঁড়াই কেরোসিনের লাইনে |

পুড়িয়ে দিই গায়ের ক্লান্ত ভেজা পোশাক,
ডাল চাল চিনি এ-সবের জন্যে
হাতের মধ্যে ঠেসে দিই
রুধির
এবং বারুদ |

মূর্খ,
আমি তুমি সবাই |
প্রতিদিন নেতাদের কথা গপগপ করে খাই,
ধমক খেয়ে
পায়ের নীচে গোপনে লুকোই
খিদের জ্যান্ত বাছাকে |

বাছা পায়ের নীচে মাটিতে
খিদের অম্লান গাছ হয়ে গজায় |

এক-ঢোক জল খেয়ে
লিখি :
আমাদের কোনো পরওয়া নেই
এ-সব নেতাদের অগ্নিবর্ণ চোখ |

বাছারা কাল থেকে বুকঠুকে বিলি করবে
কবিতাপ রুধির
বারুদ
এবং রোদ্দুর |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চোখের জলের মতো
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


গাধার পিঠের ওপর মাথা রেখে
আমরা ঘুমিয়ে আছি |

পিঠের ওপর মৌমাছির মতো গুনগুন চক্কর খাচ্ছে
আমাদের ভূত ভগবান ভবিষ্যত |

প্রতিদিন আমাদের বাজিয়ে দেখা হচ্ছে
আমরা কি কি ধাতু দিয়ে তৈরি |

গায়ের ওপর থেকে চটে গিয়েছে নিকেল-করা রঙ,
তৃণভূমির মাটিতে অজন্মা হলে
শিকড়ে মাটি যে-রঙ ধারণ করে,
তেমনি রঙ ধরেছে
আমাদের আদ্যিকালের মনে |

মৌসুমে আমরা আবার তৃণভূমির মতো
ফিরে পাব আমাদের বৈভব |

জং-ধরা মাটির নীচ থেকে তুলে আনব
আমাদের হারানো শব্দ |

পিঠের ওপর ঈগলের জ্বলন্ত চোখের মতো
ঘুরে চলেছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড |

আমাদের গাধার পায়ের নীচে
পৃথিবীর আজন্ম শক্তি |

মৌচাকের মতো ক্ষতবিক্ষত এই মাটির ওপর
আমরা নিয়ত ঝরাচ্ছি আমাদের ঘাম
আমাদের আবেগ |

প্রতিটি কোদালের কোপে
রসুনের কোয়ার মতো অনায়াসে উঠে আসছে
বাপ-দাদার আহত দুঃখ
আতঙ্ক
এবং ভালোবাসা |

মাটির নীচে আমরা মানুষের জন্যে
কোনো শহর
কোনো সভ্যতা গড়তে চাই না |

গাধার পায়ের নীচে যে জীবন্ত মাটি
সেই মাটির রঙ আমরা মেশাতে চাই
আমাদের অনুজ অঙ্গে |

আমরা নিঃস্ব হতে পারি,
কিন্ত আমাদের ধুতির খোটে বাঁধা
মৌমাছির উষ্ণ পৃথিবী |

এই পৃথিবীকে
আমরা পায়ে পায়ে সযত্নে বেঁধে রাখতে চাই |

চোখের জলের মতো
আমরা ধরে রাখি আমাদের পরম বিশ্বাস |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভালোবাসার জন্যেই
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমরা এমনিভাবেই পৃথিবী দেখি |

পৃথিবীর চিরন্তন ছায়া
আমরা বুকের মধ্যে গোলাকার ধরে রাখতে চাই না |

আমাদের হাতের পাঞ্জায় নেই
কোনো স্ফটিক জলের মতো আয়না |

নিজের দারুণ রাগ
বন্ধু, আমরা তোমার পোড়া মুখের আয়নায় দেখতে চাই |

একমুঠো চালের জন্যে
পুরোনো বন্ধুদের কাছে আমরা আর যেতে চাই না |
ভীষণ লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যাই |

আমাদের ভালোবাসার পৃথিবীকে যারা ঘৃণা করে
তাদের নির্লজ্জ মুখের ওপর
আমরা ছুঁড়ে দিই জলের ভীষণ শব্দ |

আমাদের পৃথিবী
তোমাদের পুলিশের বেয়নেটের নীচে
জমাট রক্ত হয়ে ওঠে |

আমরা আমাদের ভালোবাসার নিরন্ন পৃথিবীতে
বন্ধু, তোমাদের জন্যে শুধু
জমিয়ে রাখি ঘৃণা |

ভালোবাসার জন্যেই
আমরা ঘৃণাকে এতো ভালোবাসতে শিখেছি |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর