কথা হয়ে ওঠে কবি কমলেশ সেন কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |
অসম্ভব ভালো লাগে আমার নিজের সঙ্গে কথা বলতে |
এক হাত থেকে আর এক হাতে আমি কথার ঝনঝন শব্দ তুলে দিই, বিশ্বের চোখ বেয়ে বেয়ে পড়ছে জল, বুকের মধ্যে এক অদ্ভূত মন |
মন বুঝি দেশ | একটুকরো ছেঁড়া কাপড়ের মধ্যে আমরা জড়িয়ে নিই চোখের জল, কেউ যেন ভেজা বুকের দিকে চোখ না নামায় |
মাটি থেকে উঠে আসছে সোঁদা গন্ধ গন্ধের মধ্যে ডুবে আছে ধরাতল একটা শব্দের মধ্যে যেমন থাকে আর একটা শব্দের হৃদয় |
আমরা এখন কোনো কথা বলার আগে ভেবে নিই কতোটুকু কথা আমার সঙ্গী আমার পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, ঠিক আছে কমরেড, আমি আছি |
আমার বুকের মধ্যে অরণ্যের যে গভীরতা তা আমি ছুঁড়ে ফেলে দিই আমার বাইরে, পাথরের ওপর ধরে রাখি জল আগুনের নীচ থেকে উঠে-আসা হরিণের গন্ধ চিতাবাঘের ডোরাকাটা রঙ |
তুই চাইলে কবি কমলেশ সেন কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |
আমার দুপাশে ডানা জাগিয়ে আমি উড়তে চাই না নীল আকাশের নীচে পাখিদের দেশ আমাকে মনে করিয়ে দেয় কোথায় আছে সমুদ্র, বৃক্ষের সমাধি |
তোর পৃথিবীতে তুই আমাকে নিয়ে মেঘের মতো খেলা কর বৃষ্টি চাইলে, আমাকে ঘিরে তোল বৃষ্টির শব্দ |
আমার পোড়া-কপালের ছাঁচ কবে পালটে গেছে পৃথিবীর হৃদ্ পিন্ড জুড়ে এখন মৌসুমী হাওয়া, নদীর জলে সারাটা জীবন বৈঠার মতো সপাৎ সপাৎ ফেলছি হাত, জলের অরণ্যের মধ্যে ভাসিয়ে দিয়েছি বাঁশের কেল্লা |
পৃথিবীর মানচিত্রের মধ্যে শুধু ধরে রেখেছি মানুষ আর পাখির দেশ |
পাখির চোখে পৃথিবীর ধানের বয়স |
পাথির পৃথিবীতে মিথ্যের কোনো পল্লব নেই |
তুই যদি আমাকে ঠিক ঠিক বুঝে থাকিস একটুকরো আগুন আমার মুখে তুলে দিস |
বাকিটা রেখে দিস নিজের জিম্মায় | তুই চাইলে কবিতার অক্ষরগুলো আগুনে পুড়িয়ে নিজের মতো করে নিস |