কবি কমলেশ সেন-এর কবিতা
*
আমরা আগুন নিয়ে আগুনের কবিতা লিখব
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |
[ অন্ধ্রের মাটিতে যাঁরা প্রতিদিন শহীদ হচ্ছেন  ]


এইমাত্র ডাকে আপনার চিঠি পেলাম |
খুঁটিয়ে দেখলাম ডাকঘরের অস্পষ্ট ছাপ
এবং অস্পষ্ট তারিখ |

কতো অল্প কথায়
কী সুন্দর গুছিয়ে-গাছিয়েই না আপনি লিখতে পারেন |

অথচ আপনি একবারও
সে চিঠিতে লেখেন না
আপনি কেমন আছেন |

লেখেন, আমরা যেন ভালো থাকি,
জানতে চান, আমাদের এখানকার খবর |

আমি জানি না,
প্রতিটি চিঠিতে আপনি কি খবর জানতে চান,
সে খবর না-পাওয়া পর্যন্ত
আপনার বুকের ব্যথা এতটুকু কমে না |

তাই আমি লিখলাম
আমরা ঠিক নেই,
এখানকার খবর খুব খারাপ
আমরা প্রতিদিন কবিতা লিখছি
আর গোপনে লিফলেট বিলি করছি |

লিফলেটে থাকছে
আপনাদের কথা,
আপনারা কেন আত্মগোপন করে আছেন,
কেন আপনাদের বাড়িতে তল্লাশি হয়
কেন আপনাদের লিখতে দেয়া হয় না
কোনো কবিতার লাইন |

আমাদের এখানকার খবর খুব খারাপ
আমাদের প্রত্যেকের বুকে দারুণ ব্যথা
আমাদের কবিতায় আমরা
আপনার কথা ঠিক মতো গুছিয়ে লিখতে পারছি না |

আমরা প্রতিদিন
আপনার ডাকঘরের ছাপের মধ্যে খুঁজি
আপনি কেমন আছেন,
এবার আপনি আমাদের জন্যে
কি কবিতা লিখছেন |

আমরা সবাই
আপনার ডাকঘরের ছাপের ওপর
আপনার আস্তানার খবর পাই,
আন্দাজ করি, আপনাদের ওখানে কি ঘটে চলেছে !

আজ সকালেই
আমরা সবাই মিলে
আপনার গুলিবিদ্ধ কবিতাকে নিয়ে
এক দীর্ঘ শোক মিছিল করলাম |

আপনি আর কোনোদিন
আমাদের খবর জানতে চেয়ে চিঠি লিখবেন না,
আপনি আর কোনোদিন
আমাদের জন্যে আর একটি কবিতার
স্তবকও গাঁথবেন না |

আমরা আপনার খবর জানার জন্যে
আর কোনো চিঠি দেব না,
আমরা দোয়াত আর কলম দিয়ে
আর কোনো কবিতা লিখব না |

আমরা প্রতিদিন
প্রতিরাত
আগুন হয়ে
আগুনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাব |

আমরা আগুন নিয়ে
আগুনের কবিতা লিখব |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
স্বপ্নের মধ্যে কজন স্বপ্নের দিগন্তজোড়া ফসল ফলিয়েছে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


কোথায় যেন হলুদ ফুলের মতো
রাশি রাশি মানবশিশু
তোমার কবিতার মধ্যে
লুকোচুরি খেলে |

লুকোচুরি খেলতে খেলতে
জলের প্রপাত হয়ে যায়,
যেন পাহাড়-ভাঙা কুয়াশা-মেশানো
নরম
সঘন রোদ |

তীর ধনুক বর্শা কাটারি
পাঁচ আঙুলের মুঠোর মধ্যে
অনায়াসে আলো-ছায়ার মতো
খেলা করতে করতে
কবিতার
কবিতার আত্মা হয়ে ওঠে |

মানব শিশুর জন্যে
এমন দীঘল, এমন প্রখর চোখ
এমন রুদ্র, সংযত আত্মা
ক’জন লুকিয়ে রেখেছে
জামার কোঁচকানো দীর্ঘ পকেটের বুকে |

দুঃখের এমন সহজ কথা
এমন সহজ শব্দ
ক’জন ক্রোধের আগুনে
দাউ দাউ করে পুড়িয়েছে |

পুড়িয়ে
কজন কবিতার মধ্যে এমন
দিবস-রজনী অক্লান্ত সংঘাত
সৃষ্টি করেছে |

জীবনকে এমন আবেগ দিয়ে
কজন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর বন্দুকের
শীতল নলের মধ্যে
জীবনের,
স্বপ্নের প্রচন্ড শব্দ তুলেছে !

স্বপ্নের মধ্যে ক’জন স্বপ্নের
দিগন্ত-জোড়া ফসল ফলিয়েছে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শিশুর মন বলতে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


একটা শিশুকে কীভাবে লালন করতে হয়
তা আমি শিখেছি
শিশুর দুচোখের গভীর মমতা দেখে |

একটা নদীর মতো শিশুরও অভেদ্য মন আছে |

মন না থাকলে যেমন নদী শুকিয়ে
মরুভূমিতে হারিয়ে যায়,
ঠিক তেমনি শিশুর মন বলতে
আমি বুঝি অসামান্য জলরাশি |

শিশুকে তাই কোনোদিন
সনাতন,
বা রিক্ত হতে দিও না |

কিছু না পার,
অন্তত আলো আর হাওয়ায়
জলের যে অদৃশ্য অনুভব
তা জেনে নিও |

শিশুর মন বলতে আমি বুঝি
অসামান্য জলরাশি,
বা জলের অদৃশ্য অনুভব |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পারলাম কই
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


পারলাম কই ধরে রাখতে
মুঠো-ভর্তি বারুদের মতো ঘাম,
চোখের জল এমনভাবে
গাছের গোড়া দহ করতে পারে
জানতাম না |

কী চেয়েছিলাম তোমার কাছে ?
কবিতা, না জীবন ভালোবাসা ঘরসংসার,
না, এসব তামাম জিনিসকে মুড়িয়ে-রাখা
প্যারাসুট কাপড় !

আজকাল
হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে
আমার জীবন,
আমার এই আদেখলা বয়স |

যখনই লেকে বেড়াতে যাই
দেখি,
সবাই দহ জল টপকে টপকে
আগে ভাগেই বেঞ্চগুলো দখল করে বসে আছে |

ঘন ঘন মুছছে
ঘাড় মুখ হাতের আদ্যপ্রান্ত |

বাদাম বা মুড়ির ঠোঙাগুলো
ডান-বাঁ যখন যে হাত অবসর পাচ্ছে
সেই হাতে দশদিগন্ত মাত করে
ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারছে জলের দিকে |

ভাবটা, দুনিয়ার ভাইবেরাদারদের মধ্যে
এভাবেই জীবনটা হেসে খেলে
কাটিয়ে দেব |

সত্যিই কি তাই ?

মেয়েটার সাথে কি অসম্ভব প্রবঞ্চনাই না করেছে
উড়ুক উড়ুক ছেলেটা
বাপের নিঃস্ব পকেট হাতড়ে
যে-কটা গোনাগুনতি পয়সা পেয়েছিল
ভালোবাসার জন্যে তা কীভাবেই না
জলের মতো উড়িয়ে দিল |

ছেলেটার বুকে কি কোনো
দহ,
কোনো জল নেই ?

জলের স্বভাব-ধর্ম কি ছেলেটাকে স্পর্শ করেনি !


শিরিস গাছের নীচে বসতে আমার
মোটেই খারাপ লাগে না |

শিরিস গাছের আঠা দিয়ে
আমরা ছেলেবেলায় চঙ-ঘুড়ি বানাতাম |

চঙ-ঘুড়ির জন্যে
আমি কোনোদিন আমার ভালোবাসাকে
লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করিনি |


ঘাসের মধ্যে পা ডুবিয়ে
মাটির তলায় কী আছে
অনুভব করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে |

লাল-কালো ডাই পিঁপড়েগুলো
ক্ষুদে পাহাড়ি ট্যাঙ্কের মতো
আমার লোমশ পা বেয়ে বেয়ে উঠে আসে,
বুকের নীচে কী আছে
হামলা করে নিয়ে যাবে বলে |

আমি কবিতার ভেজা-ভেজা কাগজ
হিসেবের ফর্দের মতো হাতে ধরে থাকি,
হাসি—বেকুব, যার জিনিস
তাকে যে কবে দিয়ে রেখেছি |

পাবেটা কোন ছাই আমার বুকের নীচে |


ভুলে যাই
শিরিস গাছ
মাটির তলায় অনুভব
সবুজ ঘাস
এখানে-ওখানে দহে জমা
বৃষ্টির
বা চোখের জল |

চমকে উঠি,
না, ক্ষুদে পাহাড়ি ট্যাঙ্ক নয়
তোমার ঠোঁট কী সুন্দর অদৃশ্য সোনালি মৌমাছির মতো
নেমে এসেছে সটান আমার ঠোঁটের ওপর |

আমি বেদানার কোয়ার মতো
নিজের মধ্যে উপছে পড়ি |

মুঠো-ভর্তি আর ধরে রাখতে পারছি না
বারুদের মতো তোমার ঘাম |

আমার ঠোঁটের ওপর সটান নেমে এসেছে
কী সুন্দর অদৃশ্য সোনালি মৌমাছির মতো
তোমার ঠোঁট |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই শহরের বুকের ভেতর
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এই শহরকে নিয়ে যেদিন আমি গল্প করতে বসলাম,
সেদিন শহরের গভীর বুকের ভেতর
কী এক অদ্ভুত ঘ্রাণ
কী এক অদ্ভুত ব্যথা
দাপাদাপি করে উঠল |

এ বয়সের ঘ্রাণ
ব্যথা
না যৌবনের কোনো উদার অক্লান্ত স্মৃতি !

আমি কোনোদিন তেমনভাবে
আমার স্মৃতিকে বুকের ভেতর সঞ্চয় করে রাখতে পারিনি |

আমার বিশ্বাস আমার ভালোবাসা আমার করুণা
আমার স্মৃতিগুলোকে নিয়ে কোনোদিন
বেকুবের মতো হো হো করে হেসে ওঠেনি |

বরং স্মৃতিগুলো যেন আমাকে ভীষণ যন্ত্রণা না দেয়
তাই এই শহরের বুকের ভেতর
আমি তা নিজের হাতে নিজের স্বপ্নের মতো
লুকিয়ে রেখেছি |
কোনোদিন কোনো বিষাদ কোনো ভয়
আমাকে তাই অপমান করতে সাহস করেনি |

সাহস নিয়েই তো
আমি এই শহরের বুকের ভেতর তেমনভাবে বেঁচে আছি |
আমি ঘ্রাণ
এবং ব্যথার মধ্যে জীবনের মরণের আলোড়ন দেখেছি |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি কলকাতাকে অধীর হয়ে খুঁজলাম
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি এমনি করে কলকাতাকে অধীর হয়ে খুঁজলাম |

কলকাতা নাকি একদিন কলকাতার
বিশাল বুকের মধ্যেই ছিল |

একটা স্বপ্নের বোঝা হয়ে সে
কারো চোখ,
বা বুকের দারুণ নিঃশ্বাসকে বন্ধ করে দেয়নি |

বুঝতাম,
যদি সে মানুষকে ঘৃণা করত,
বা মানুষের জন্য কোনো হাত
বাড়িয়ে দিত |

সেই কবে,
কোন বিকালে কলকাতা তার
মলিন বেশভূষা ছেড়ে
সারা সহরে নীরবে টহল দিয়েছিল |

রক্তে-ভেজা একটা শিশু
তার পাশে পাশে তার মতো এক ভীষণ যন্ত্রণা
বুকে নিয়ে
তেমনি নির্বিকার হেঁটেছিল |

হাঁটতে হাঁটতে
এমন দুঃখে
এমন কষ্টে চিত্কার করে উঠেছিল |

কলকাতা,
কলকাতার মধ্যে বেদনায় অধীর হয়ে উঠেছিল |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই শহরের মতো
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


জানি না, এ-শহর এখন কি ভাবছে !

একটা শহরের মগজে কি আছে
তা বোঝা অত সহজ ব্যাপার নয় |

হা-ভাত মানুষের মতো
এ-শহরের নিজের একটা অস্তিত্ব
একটা দেমাক আছে |

সেই অস্তিত্ব
এবং দেমাকের খবর
কে কবে তেমনভাবে জানতে চেয়েছে
বা জেনেছে !

শহরের রক্তে মাংসে মিশে আছে
মানুষের অস্থির জীবন
এবং দারুণ অহংকার |

হয়তো এ-শহরেও
তার নিজের মনের মতো একটা কিছু করতে চায় |

কিছু একটা করা এ-শহরেরই সাজে |

এই শহরের মতো মেজাজ
এবং দেমাক আর কোন শহরের আছে ?

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই শহরের নীচে আছে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এমনিভাবে মানুষ উঠে এসে
বসেছিল
তার পরিচিত মানুষজন
এবং পরিচিত শহরের কাছে |

এমনিভাবেই একদিন সে জেনেছিল
এ-শহরের নীচে যে মাটি,
যে জল আছে
তার সত্যিকার আদব
এবং কায়দা |

মাটি
এবং জলের মধ্যে যে-ব্যবধান
তা খুঁজতে গেলে
এ-শহরের মানুষ
কোনোদিনই নিজেকে আর তেমনভাবে
খুঁজে পাবে না |

এ—শহরের অরূপ মাটি
এবং আশ্চর্য জলের নীচে আছে
মানুষের অশান্ত ভালবাসা |

সেই ভালোবাসাকে বিনা দ্বিধায় স্পর্শ করার
প্রচন্ড সাহস
এবং শক্তি
শুধু এই শহর,
আর এই শহরের মানুষেরই আছে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভোরের রুপালি প্যাসেঞ্জার
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


কী ছিল ভোরের আকাশে
কী ছিল ছেলেবেলার দিনগুলোতে
কী ছিল উজার করে-দেয়া বছরগুলোতে ?

কে যেন আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
ছিল হে, ছিল
স্বপ্নের মেঘ ছিল
মেঘের আকাশে নদীর মোহনা খেলা করছিল |

খেলতে খেলতে
স্বপ্নের যমজ বিছানা পেতেছিল |

তুমি শুয়েছিলে
তুমি ঘুমিয়েছিলে
তুমি স্বপ্ন দেখেছিলে |

স্বপ্নের মাঝে তুমি বলে উঠেছিলে
সময় যে বড় কম, বড় কম,
সময়কে গুঁজে রেখে দাও
চিতা বাঘের ফুলেল বুকের নীচে |

ফুলেল বুকের নীচে রমণীয়
কসম খেয়ে হাঁক ছাড়ে
কবেকার কোন ছেলেবেলার মুষল রাত |

মুষল রাত,
বুঝি রাতের ঘন লোমশ বুক চিরে
কবে নিশ্চিন্তে চলে গেছে
ভোরের ফার্স্ট রুপালি প্যাসেঞ্জারে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি এই সবে মানুষকে দেখলাম
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি এই সবে মানুষকে
অভিলাষ নিয়ে দেখলাম |

মানুষ আমার কাছে শৈশবের
লুকোচুরি খেলার মতো অনাবিল |

মানুষ কেন কাঁদে
আমি বহুদিন আথাল-পাথাল ভেবেছি |

ভেবেও ঠাহর করতে পারিনি,
কান্নার এত জল
মানুষের কোন প্রত্যন্তে
জমাট বেঁধে থাকে !

আমার শৈশবের এক বন্ধুকে
আমি প্রতিক্ষণ অঝোরে কাঁদতে দেখতাম |

বুঝতে পারতাম না,
ও কেন এত উদাস হয়ে কাঁদে !

নদীর জলে সাঁতার কাটতে কাটতে
আমি ওকে কাঁদতে দেখেছি,
মনে হতো সমস্ত নদীটাই
যেন ওর বুকের অনন্ত গভীর থেকে
উত্সারিত হয়েছে |

একদিন চৈত্রের এক প্রখর রোদে
চালতা বাগানের ছায়ায় বসে
ওর চোখের টলটল জলের দিকে
তাকিয়ে থাকতে থাকতে
জিজ্ঞেস করলাম :
তোর চোখের এতো জল
তুই কোথায় জমাট বেঁধে রেখেছিস ?

এই প্রথম আমি দেখলাম
ওর মুখে একটুকরো
শনাক্ত হাসি |
ওর হাসির মধ্যে ছলকে উঠল
ওরই চোখের
অগাধ লোনা জল |

আমি এই প্রথম অনুভব করলাম
জল বলতে কি বোঝায়,
মানুষ কেন জলকে এতো প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে |
লোনা জলের মধ্যেই যেন মানুষ
লুকোচুরি খেলতে খেলতে
তার লোনা প্রত্যয় নিয়ে বেঁচে আছে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর