কবি কমলেশ সেন-এর কবিতা
*
ভালোবাসা হে, ভালোবাসা
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


পায়ের নীচে দামাল মাটির
নাগাল না পেয়ে,
ভাবি, শেষমেশ এই পাতালপুরী !

কী খাব
কোথায় পাতব সংসার
রাখব ঠাঁটবাট,
হায়, শেষ পর্যন্ত কপালে
এই লেখা ছিল !
জলের ওপর আঁক কাটতেই দেখি
এই তো সেই আকাশ, জোয়ান পুরুষ আমি
এতেই ভয় !

জলের মধ্যে আঙুল ডুবিয়ে
আকাশ উল্টে দিতেই দেখি
চোখের জল নয়,
বুকের চেনা অঙ্গার |

দেখাই যাক না
কোথাকার জল কোথায় আশ্রয় নেয় |

এক আঙুলের জোরেই
আমি জলের মধ্যে অঙ্গার নয়,
ডুবিয়ে দিই আকাশের অনন্ত মুখ |
আমি প্রশ্রয় দিই
ব্যথার আবদার,
মানে আমার নিজের যা’কিছু ভালো লাগে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি যখন এই বৃষ্টির দেশে এলাম
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি যখন এখানে এলাম
তখন ওরা সবাই কুড়ুল দিয়ে
কেটে চলেছে
বৃষ্টির তুমুল শব্দ
এবং ঘ্রাণ |

আমি যে বাড়িতে আস্তানা গাড়ব বলে
পা রাখলাম,
সেই কাঠের তৈরি বাড়ি
বৃষ্টির জল
এবং দুর্দান্ত হাওয়ার শব্দে
ফুলে ফেঁপে উঠেছে |

কাঠের পাটাতনগুলি থেকে
কফির নিবিড় ধোঁয়ার মতো বেরুচ্ছে
কাঠগোলাপের এক অদ্ভুত গন্ধ |

বুঝতে পারছিলাম না
আমি ঘরে,
না চিরহরিৎ কোনো অরণ্যের মর্মরে !

এমন একটা তুমুল বৃষ্টির দেশে
আমি কোনোদিন চোখের পাতা এক করে আসব
ভাবতেই পারিনি |

এই প্রথম দেখলাম
এখানে বৃষ্টি কী তোলপাড় শব্দে
জন্ম নেয়
মানুষের পবিত্র রতিক্রিয়ায় |

সারা রাত ধরে
মাটির নীরব আর্তির ওপর  ঝরে পড়ে
শব্দ
এবং নক্ষত্রের ধাতব গন্ধ |
শব্দ
এবং গন্ধ
মাটিকে মূর্ত,
অভাবিত করে তোলে |

আমি ঘুমের ঘোরে
না কাঠবেড়ালির লোমশ ওমের মধ্যে
একটা অরাজক অরণ্যকে আবার ভীষণভাবে খুঁজে পাই |

হে জল
হে বৃষ্টির গ্রহ,
কার আতঙ্ক নিয়ে তুমি হাওয়ার গভীরে
পিষ্ট কর
শম্বরের পরিপূর্ণ প্রাণসম্পদকে |

আমি
জলে-ভেজা এই কাঠের পাটাতনের ওপর
বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে
এই প্রথম দেখলাম
বৃষ্টি
এবং মানুষের সাধের জন্ম |

আমি হাওয়ার দারুণ শব্দের অন্তর থেকে
শম্বরের দীর্ঘশ্বাস মুক্ত করার জন্যে
এই সারা বৃষ্টির দেশে
মাটিতে চোখ গুঁজে খুঁজে চলি
ঝিঁঝিঁপোকার অজ্ঞাত আস্তানা |

বৃষ্টির তুমুল ঘ্রাণের মধ্যে
আমি নিজেকে আবার
নিজের মধ্যে আবিস্কার করি |
এক হাত থেকে আর-এক হাতের মুঠোয়
পতাকার মতো তুলে দিই
বিজয়ী মানুষের চোখের সজল পল্লব |

এই বৃষ্টির দেশে
জল
মাটি
এবং অরণ্যের অনুজ গন্ধ থেকে
মানুষ তার দু’হাতের বিস্মিত শক্তিতে
টেনে বের করে
তার নবীন সন্তান-সন্ততিকে |

এ-ভাবেই
এই তুমুলবৃষ্টির দেশে
মানুষ নিজের মধ্যে সৃষ্টি করে
আকাশভাঙা বৃষ্টি
এবং ঝড়ের এক নৈসর্গিক আলোড়ন |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মানুষের শাবক নদীর শাবক
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এক যে ছিল মানুষ
সে ভাঙতো চাল
এবং মাটির ঢেলা |

মানুষের মতো বেঁচেবত্তে থাকার আগেই
সে জন্ম দিল
এক মানুষের শাবক

মানুষের মতো মরার আগেই
সে জন্ম দিল
এক নদীর শাবক |

হেই উজান নদী
হেই স্বপ্নের নদী |

মানুষের শব নিয়ে
পাহাড়ের দিকে
নদীর দিকে
কারা হৈ হৈ ছুটল!

মানুষের শাবক
নদীর শাবক !

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভারতবর্ষের এতো জমি
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


দু’হাত ছড়িয়ে দিলেই কী পাওয়া যায়
মনের মতো আবাদী জমি !

তোমরা জমির জন্যেই কি
জমির ওপর তরবারি দিয়ে শব্দের লহর তুলেছিলে ?

কারা তোমাদের সাথে বুক বেঁধে ছিল,
কারা তোমাদের পেছন থেকে
চালিয়েছিল গুলি ?

এ দিব্যি ঘুমের দেশে
মানুষ মাঝে মাঝে আকাশ-পাতাল
সব এক করে দেয় |

তখন তোমাদের কথা সবার মনে পড়ে |

জমির জন্যে
তোমরা মুক্ত জমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলে |

জেলের প্রশস্ত প্রাচীরের গায়ে
তোমরা হয়তো এখন ভারতবর্ষের জমির
পরিমাপ করছ |

এক-একজন কৃষক পরিবারের
কতোটুকু জমি হলে চলবে !

ভারতবর্ষের এত জমি,
এ-জমিতে যদি মানুষের হাত না পড়ে
তবে তা কোন কাজে লাগবে !

মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কি
কোনো জমি তেমনভাবে বেঁচে থাকতে পারে ?

জমিরও তো একটা সহ্যের সীমা আছে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমাদের নিজস্ব এক ভারতবর্ষ
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আজ,
আজ এ-ভোরে,
ঠিক ভোরে
হাওয়ার ঝাপট উঠল তুলোর খেতে |
মাটি
হাওয়া
এবং তুলোর জড়াজড়ি
সৃষ্টি করল
এক উষ্ণ মে-দিনের ভোর |

ঠিক
আজ ভোরে
জামরুল গাছের তীক্ষ্ম শাখা
এবং পল্লবের গোপন আস্তানা থেকে
বিদ্যুতের মতো ঝিলিক দিয়ে উঠল
চিতাবাঘের এক ডোরাকাটাআকাশ,
দুধের ফেনার চেয়েও নরম
পায়ের নীচে
হাওয়া
শুষ্ক জল
এবং তুলোর এক আদিগন্ত চষা-জমি |

যে-জমি আজন্ম মাটিতে ফুল ফোটায়
কিম্বা মাটি ফুল হয়ে ওঠে |

তুলো থেকে জন্ম নেয়
ভোরের অগ্নি
এবং স্বদেশ |

আমরা সবাই এই শুষ্ক জলে
মাটি
এবং হাওয়ার নিভৃত থেকে
এই ভোরে তুলে আনি
অভ্র
মোম
এবং সূর্যের অলীক কেশর |

পাথরের চাঁইগুলো
জলের তেষ্টায় ছটফট করে,
মাটির নীচে জাগায়
রক্তের জীবন,
চেতনা |

আজ,
ঠিক আজ ভোরে
মানুষের বুকের মধ্যে আকাশের মতো ভেসে ওঠে
মে-দিনের অগ্নি
এবং পতাকা |

জল
এবং মাটির মধ্যে
আমাদের নিজস্ব এক ভারতবর্ষ |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জ্বলন্ত ঈগলের পাখনার মতো
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এই ভেজা-ভেজা শালুক মাঠে
আলের পাশেই জমা ছিল
আমাদের বাপ-দাদার সহায়-সম্বলহীন চোখ |

বেজায় শীতের দাপটেও পাথর হয়ে যায়নি
কোনো চোখের বিষণ্ণ আদল |

ছোঁ-মেরে মাটিকে স্পর্শ করার মতো
এমন পাখনা
একমাত্র জ্বলন্ত ঈগলেরই থাকে |

আলের পাশে
মানুষের ছেঁড়া-ফাটা জামার ভিড়ে
কে যেন বলে ওঠে
মাটিতে লাঙল না ফেললে
এ বর্ষাটা মাঠে মারা যাবে |

ভাইসব,
যে যেখানেই থাক
চোখ দিয়ে মাটিকে স্পর্শ কর |

ঈগলের পাখনার মতো
তোমাদের দু’হাতের শক্তিতে থাক
প্রমণ্য আগুন |

জান তো
আগুনে পুড়েই
মানুষ সোনার মতো নিখাদ হয়ে ওঠে |

আলোর পাশে আমাদের বাপ-দাদার
সহায়-সম্বলহীন চোখ |

আমরা এ-মাটিকে
নিজের সন্তানের মতো
দুধে-ভাতে জোয়ান করে তুলেছি |

মানুষের মতো জোয়ান মাটি
রোষে নিজেকে নিঃস্ব করে দেয় না,
বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখে

ঝড় এবং ভীষণ ভালোবাসা |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি জ্বলন্ত বয়সের মতো বেড়ে উঠি
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমার মুখের মতো ঝলসে গেছে শস্যখেত
নক্ষত্রের চেয়ে আমার বয়স বেশি নয় |
কে কতটুকু প্রাজ্ঞ তা এখনও যাচাই হয়নি |

নক্ষত্রের বুকে আলোড়িত পাথর মাটি
হয়তো বা জল এবং অগ্নিকুন্ডও |

আমি জানি মানুষের পৃথিবীতে কীভাবে তৈরি করতে হয়
শস্যের খেত, জ্বালানির জন্যে অনল |

আমার ঝলসানো মুখ
মেশাতে পারি আগুন এবং মাটির যৌগিক শক্তি |

আমার বয়সের গাছ-পাথর দিয়ে
আমি এখনও তৈরি করতে পারি
সাহস
এবং শক্তির এক অনবদ্য নিঃসঙ্গতা |

আমি নক্ষত্রের পূর্বপুরুষদের মতো
দু’পাখনা মেলে ধরে রাখতে চাই না
আমার ভেতর থেকে উঠে-আসা নৈঃশব্দ |

গোধূমের মধ্যে আমি
জ্যোত্স্নার তরবারি
এবং জ্বলন্ত বয়সের মতো বেড়ে উঠি |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কবিতার অশুদ্ধ গভীর ভাষার মধ্যে
[ কবি মহাদেব রাও-কে ]
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


এই পাহাড় থেকে ঐ পাহাড়ে লাফিয়ে নামতে গিয়ে
মাঝে মাঝে সূর্যও পা ভেঙে বসে,
মুখ থেকে ঝরে ঘাম |

ক্লান্ত বলতে যা বোঝায় তা নয় |

বুকের মধ্যে কতখানি হাওয়া
এবং উষ্ণতা আছে
দিব্যি খেয়ে সে বলতে পারে না |

একটা যন্ত্রণা মাঝে মাঝেই তাকে নিয়ে যায়
মানুষ
এবং মানুষের জীবনের কাছে |

জীবনের সঙ্গে সে মিশিয়ে দেয়
নিজের প্রাচীন অস্তিত্বকে |

সে বোঝে মানুষ এবং মানুষের জীবন ছাড়া
সে কী করবে এই পৃথিবীকে ওলোট-পালোট করে |

একটা ভয় এবং বিশ্বাস নিয়ে
সে মাটি এবং জলের কাছে জানায়
তার দীর্ঘ অতীতের রহস্যময় জীবনকথা |

কবিতার অশুদ্ধ গভীর ভাষার মধ্যে
সে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে খাক করে দেয়
নিজের পোশাক
এবং অস্থি |
কবিতাকে সে কখনই হাতের পাঁচ আঙুল ভাবেনি |

ইচ্ছে করলেই সে তা রাখতে পারেনি
তার বুকের জ্বলন্ত পকেটে |

পকেট-ভর্তি মমতা নিয়েই
সে ঘুরে বেড়িয়েছে |

হাত থেকে হাতে তুলে দিয়েছ নিজের মমতা |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃষ্টির ধারার মধ্যে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


বৃষ্টির ধারার মধ্যে
আমি জলজ-গাছের মতো বেড়ে উঠেছি |

পৃথিবীর প্রাচীন নগর থেকে উঠে আসছে
মাটির পরতে পরতে
উদাসীন এক সভ্যতা |

বিদায়,
বিদায় হে জননী তোমাকে |

তুমি কেন বৃষ্টির ধারাকে ধরে রাখতে পারনি
তোমার অনামিকা আঙুলের সুপ্ত ক্রোধ এবং বিশ্বাসের মধ্যে,
কেন বিস্মিত ফসলের নীচে
লুকিয়ে রাখনি
সময়ের ভীষণ নৈঃশব্দ্যকে |
আমি পৃথিবীর এই নবীন শহরে
বৃষ্টির অযুত ধারার মধ্যে
জেগে বসে আছি |

পড়ছি প্রাচীন শোক এবং শৌর্য-গাথা |

বৃষ্টির মধ্যে আমি খুঁজে চলেছি
প্রাচীন মুখ,
পুরাকালের কোনো শোক
পুরাকালের কোনো ব্যথা |

সময় থাকতেই আমি ধরে রাখি
বৃষ্টির প্রতিটি ধারার নিকষ শব্দরূপ |

আমি জলজ-গাছের গভীর আত্মার মতো
শব্দকে বুকের মধ্যে পালন করি |

শব্দ যাতে একদিন আগুনের শিকড়-বাকড়ের মতো
সূর্যকে ধরে রাখতে পারে
মগ্ন জল এবং মাটির নীচে |

আমি বৃষ্টির ধারার মধ্যে
বৃষ্টির শব্দকে দু’হাতে ওলোট-পালোট করি
পুরাকালের কোনো শোক
এবং ব্যথার জন্যে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাটির মানুষ যেন ভুল না করে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি দূর থেকে
চোখের উপর হাত রেখে
ঠাওর করতে পারি না
এ-চোখের জল,
না অন্য কিছু |

মানুষ কেন এমনভাবে
কান্নার মধ্যে নিজেকে উন্মুক্ত করতে চায় ?

অঙ্গ দাঁড় করিয়ে রাখে
যে কনিষ্ক মাটি,
সে-মাটি এখনও
আমার পায়ের তলায় জোগান দিয়ে যাচ্ছে
.                                    শক্তি |

আমি
.   হটাৎ হটাৎ
কখনও গলা ফাটিয়ে চিত্কার করে উঠি না |

বলি না,
ইচ্ছে করলেই আমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে
তুলকালাম করতে পারি |

নিজের বুকের ওপর নিজের পরিচিত
আঙুলের শব্দ রেখে
ফিস ফিস করে বলি,
পারবো

পারবো হে, পারবো |

পারবো হে, পারবো |

পায়ের তলায় মাটির যে বিশাল অস্তিত্ব
সেই অস্তিত্ব নিয়ে
বেঁচে থাকতে হলে
চাই মাটির মতো গড়ন

আমি কবে থেকে
নিজেকে মাটির মতন আপ্রাণ গড়ে তুলছি |

নিজেকে নিজে বলি
মাটির মানুষ যেন তোমাকে
.                ভুল না করে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর