কবিতার অন্তর্দেশ স্পর্শ করে আছে কবি কমলেশ সেন কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |
আমি বুঝতে পারি না ওরা কেন এমন রোষে কোদাল খুরপি গাঁইতি দিয়ে আমার কবিতার অন্তর্দেশ খুঁড়ে তোলে |
সেখানে ওরা কি খুঁজে দেখতে চায় ?
আমার কবিতার নীচে কোনো মৌমাছির শব নেই কোনো বৃক্ষের হলুদ পল্লব |
আসলে আমার কবিতার মধ্যে আছে আমার স্বপ্নের দুটি নিখাদ হাত, এ-নিখাদ হাত দিয়ে আমি মাটির ওপর কবিতার অফুরন্ত চাষ করি, আমার প্রিয়তমার চোখের জল থেকে তৈরি করি মধু এবং তিক্ত মদ |
আমি তা আকন্ঠ পান করি |
একপেয়ালা মদ একজন সাচ্চা পুরুষের কাছে কতোখানি তা একজন নারীই জানে |
মানুষের মতো কবিতাও ট্রাক্টর চালাক কবি কমলেশ সেন কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |
আমি চাই না এ--গ্রহের ভার এমন মানুষের হাতে যাক, যে প্রতিদিন এ—গ্রহের পাহাড়-খন্দকে দিক্ নির্ণয়ের যন্ত্র করছে |
আমরা প্রত্যেকেই একসঙ্গে বাস করতে চাই অরণ্য থেকে ভেসে আসে যে-জংলাফুলের গন্ধ তার বেশভূষা আমার জানা, আমি হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে রাখি ভালোবাসা, এই সামান্য ভালোবাসা নিয়েই তো আমার এতো ভয়, কাকে কি দেব !
যেখানে প্রতিদিন বৃষ্টি অঙ্কুরিত হয় তার পাশ থেকে উঠে আসে জগত্সংসার গ্রহের ওপর ফেলে তার প্রহর প্রতিটি পায়ের শব্দ স্পর্শের নীচে রেখে যায় এক অদ্ভুত তৃষ্ণার কন্ঠ |
আমি সময় পেলেই জীবনের ক্যানেস্তারা পেটাই দুঃখের চোখ থেকে নামাই পাথর ছায়ার শব্দ |
বুঝতে পারি জীবন কি করুণ সারা দেহে জলের এতো কাতরতা আমাকে বুঝিয়ে দেয় আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি |
চাষ-আবাদ খেতিবাড়ি কিছুই আমি জানি না |
সারাটা জীবন অন্যের কাছে শুধু হাত পেতেছি |
আমি কবিতার একটা খামারবাড়ি করব বলে কতোদিন ভেবেছি, গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিতে চেয়েছি বুক থেকে নামানো মধুর চাক |
বৃষ্টির মতো গমের দানার মধ্যে যদি তুমুল শব্দে জেগে ওঠে কোনো ভোর, মানুষ তা এ-গ্রহের নিজস্ব সম্পদ বলেই মনে করবে |
এ-গ্রহে মানুষ চাঁদ এবং জলের সঙ্গে বসবাস করুক এ-ই আমি চাই |
আমি সবার সাথে মিলেমিশে শ্রম দেব |
মানুষের মতো কবিতাও ফসলের এই বিস্তীর্ণ মাটিতে ট্রাক্টর চালাক |
হেই, আগুন দেখে যাও [ ডাঃ পূর্ণেন্দু ঘোষকে ] কবি কমলেশ সেন কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |
আমি চাই আমার মন্ত্রের মতো উচ্চারিত কথাগুলো মানুষের পাশে হেঁটে চলুক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চুলের বাহার নিয়ে সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দিক কেউ যেন বলতে না পারে শুধু কথা বলিনি, পাশে থেকেছি |
বুকের মধ্যে যে কলমের জন্ম হয়েছিল তা আমি কিভাবে নামাব, চোখের জল আর ক্রোধের পাশে রাখতে চাই |
ভাই, যদি তোমার বুকে একটু আগুন থাকে, দাও |
কাল থেকে পেটে একটি দানাও পড়েনি জগৎ সংসার কিন্তু তাতেও টলছে না পা শিকড়ের মতো নামছে মাটির গভীরে |
জলের নীচে আগুনের মুখ দেখার জন্যে আমি তোমাদের গলা-ফাটিয়ে হাঁক দিচ্ছি |