কবি কমলেশ সেন-এর কবিতা
*
আমাদের প্রগাঢ় জন্মভূমি
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


ঘন হয়ে
তুমি আমাদের পাশে বসলে |
মনে হল
হীরের খনির নীচে
অন্য মানুষের সঙ্গে আমরা কাজ করছি,
গা দিয়ে ঝরছে ঘাম |

ঘাম দিয়ে
আমরা পাথুরে কয়লা আর মাটিতে নামাচ্ছি ধস |

মাটির নীচে কোনো গাছপালা নেই |
জলের স্রোতের সঙ্গে অফুরন্ত নেমে আসছে
ভালোবাসা
ক্রোধ |

রাত্রির অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে
আমরা মমতায় হেঁটে যাই |

গ্রামগুলি মানুষের নিঃশ্বাসে উত্তপ্ত,
আমরা স্পর্শ করি মানুষের নিঃশ্বাস |

গাছের ডালে ডালে ঝোলানো দোলনাগুলি
আমরা দুলিয়ে দিই |

ছাব্বিশটা বছর
আমাদের কাছে এমন কিছু নয় |
আমরা এক থালা ভাতের মতো
সমস্ত যন্ত্রণা
ধিক্কার
ক্রোধ |

আমরা গ্রামেরও নই
শহরেরও মানুষ নই |

জায়গা জমি বলতে আমাদের কিছই নেই,
আছে শুধু পিঠের ওপর চামড়ার জ্বলন্ত দাগ |

কার জমি কারা দখল করে বসে আছে |

পায়ের নীচে যে-মাটি
সে-মাটি আমরা মুঠো ভরে ভরে
বুকের মধ্যে রাখছি |

মাটিকে নিয়েই তো আমাদের স্বপ্ন |

হীরের দেশেও মাটির যে কি দাম
তা আমরাই বুঝি |

ঘাম দিয়ে
আমরা পাথুরে কয়লা আর মাটিতে নামাচ্ছি ধস |

দু’ আঙুলের মধ্যে ধরা যে হীরের টুকরা
তা আমাদের জীবন্ত দেশ |

নেলসন মান্ডেলা, আমাদের প্রগাঢ় জন্মভূমি |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
স্বাধীনতা ছাড়া কোনো কবিতারই জন্ম হতে পারে না
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


কারা যেন
এই অন্ধকার রাত্রেও
টমটমের চাকায় তুলেছে জলপ্রপাতের শব্দ |

জলের শব্দ যে কী ভীষণ হতে পারে
তা মেঘ
এবং মাটি ছাড়া আর কে এতো গভীরভাবে জানে |

জলপ্রপাতকে
গ্রাম এবং শহরের মাঝখান দিয়ে
অনায়াসে টেনে নিয়ে যাচ্ছে
যে ধূসর বাদামি কৃষ্ণবর্ণ ঘোড়া,
সেইসব ঘোড়ার নাক দিয়ে বেরুচ্ছে
গ্রীষ্মের প্রখর রোদ্দুর |

ফুটন্ত ঘাম
এবং মেঘ |

এই দেশের প্রতিটি মানুষ
নিজের বুকের মধ্যে রেখেছে অশ্বের যমজ গ্রীবা |

হে দেশ,
কার ভালবাসার পাঁজর দিয়ে
তুমি এই মাটির সহজ হৃদয়ে তুলবে
তুমুল রাগ
এবং ঝঞ্ঝা |

এই দেশের জাগরণের হাত ধরে হাঁটছেন
যে প্রিয় নাম
যে প্রিয় মানুষ,
তার বুকের মধ্যে নিয়ত ভাঙছে
জল
এবং বৃক্ষের এক অজ্ঞাত শব্দ |

জল
এবং বৃক্ষের নিবিড় বন্ধন ছাড়া
এ-দেশের মানুষের জমাট ভালোবাসার
কোনো বর্ণনাই দেয়া সম্বব নয় |

শিকড়ের নীচে রয়েছে যে পরম মাটি
সেই মাটি
আলো
এবং অন্ধকারকে নিজের মতো
কী সহজেই না উত্তাল করে তুলছে |

উত্তালের একটা নিজস্ব আবেগ
একটা নিজস্ব হৃদয়
একটা নিজস্ব রূপ আছে |

এই আবেগ
এই হৃদয়
এই রূপ
আমি এতদূর থেকে স্পর্শ করতে চাই |

জীবন
এবং সংগ্রামকে দেখতে চাই
শিকড়ের মাটির পরম বিশ্বাস থেকে |

নেলসন,
স্বাধীনতা ছাড়া কোনো কবিতারই জন্ম হতে পারে না |

কবিতার ব্যথা ছাড়া
কোনো দেশের স্বাধীনতাই আসতে পারে না |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শিশুদের জন্যে খনিজ-আপেল
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


মরা-পাহাড় এবং গাছের শক্ত পায়ের
নীচ থেকে উঠে এল
ভাঙা চাঁদ |

মাটির ওপর পা নামাতেই
অতীতের এক হ্রেষার ধ্বনি
সবুজ ঘোড়ার আদল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল
হীরের খনির মধ্যে |

খনির মধ্যে
কেপটাউনের ঝড়ের আকাশ,
মামুষের কালো ঘাম
এবং শরীর |

মাঝ-দরিয়ার জলের ওপর
ভেসে উঠল
মর্টারে-দগ্ধ মাছের উদ্বিগ্নমন,
জলের ভীষণ রূপ
এবং আধার |

আফ্রিকার মানুষ
মজবুত পায়ের শিকল দিয়ে তৈরি করছে
চাঁদের নির্জন মুখ,
শিশুদের জনঅয খনিজ-আপেল |

প্রত্যেকের হাতে ভাঙা-চাঁদ,
তার নিজের ঘুমন্ত চোখ |

যাঁকে নিয়ে এত বছর ভীষণ যুদ্ধ,
তিনি লক্ষ লক্ষ চোখের ঘেরের মধ্যে
এসে দাঁড়ালেন |

তিনি কী শান্তি চাইবেন,
না, যারা এতো বছর ভীষণ যুদ্ধ করলেন
তাদের কাঁধের ওপর দিয়ে দেখবেন
ভাঙা-চাঁদ
সবুজ-ঘোড়ার আদল
শিশুদের জন্যে খনিজ-আপেল |

ভয়ের নীচে
হীরের খনিতে কবে ভেঙেছে ঘুম,
কবে খনিজ-আপেলের গাছে এসেছে
নির্জন চোখের পল্লব |

মাটির নীচে গাছের শক্ত পা
নিঃশব্দে মাটিকে ভেঙে চুরমার করছে |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চাঁদের দেশে কোনো জলের শিকড় নেই
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


চাঁদের দেশে কোনো জলের শিকড় নেই

জলের শিকড় বলতে মানুষ বোঝে
পেট্রোল
এবং কয়লার ঝলসানো রূপ |

পেট্রোল
এবং কয়লার ঝুলন্ত মাইয়ের মতো
পিট পেলে
চাঁদের দেশেও মানুষের অবাধ
আবাদ গড়ে ওঠে |

চাঁদের দেশে জলের শিকড়ের নীচে
মানুষের জন্ম
এবং মৃত্যু হয় |

মানুষ
পেট্রোল এবং কয়লার পকেটে রাখে
গম
এবং স্বপ্নের মাটি |

পেট্রোল
এবং কয়লার জ্বলন্ত ডালপালা
মানুষের ন্যাংটো বুকের ওপর
শব্দের মতো দাপাদাপি করে |

জলের শিকড় বলতে মানুষ বোঝে
নিজের চোখের ভেতর একটা আস্ত জগৎ |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কবিতার অন্তর্দেশ স্পর্শ করে আছে
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি বুঝতে পারি না
ওরা কেন এমন রোষে কোদাল খুরপি গাঁইতি দিয়ে
আমার কবিতার অন্তর্দেশ খুঁড়ে তোলে |

সেখানে ওরা কি খুঁজে দেখতে চায় ?

আমার কবিতার নীচে কোনো মৌমাছির শব নেই
কোনো বৃক্ষের হলুদ পল্লব |

আসলে আমার কবিতার মধ্যে আছে
আমার স্বপ্নের দুটি নিখাদ হাত,
এ-নিখাদ হাত দিয়ে আমি মাটির ওপর
কবিতার অফুরন্ত চাষ করি,
আমার প্রিয়তমার চোখের জল থেকে
তৈরি করি
মধু
এবং তিক্ত মদ |

আমি তা আকন্ঠ পান করি |

একপেয়ালা মদ
একজন সাচ্চা পুরুষের কাছে কতোখানি
তা একজন নারীই জানে |

আমি নারীর প্রেম
নারীর প্রীতি দিয়ে
কবিতার পরিধি
কবিতার গভীরতা মেপে দেখেছি |

কবিতার অন্তর্দেশ স্পর্শ করে আছে
আমার স্বপ্নের দু’টি নিখাদ হাত |

পলাকাটা ছুরির মধ্যে ছলাৎ  ছলাৎ  শব্দের ঢেউ তুলছে
বৃষ্টির এক অনন্য পৃথিবী
নারীর অসহ্য যন্ত্রণা |

নারীর ভালোবাসা |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মানুষের মতো কবিতাও ট্রাক্টর চালাক
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি চাই না এ--গ্রহের ভার
এমন মানুষের হাতে যাক,
যে প্রতিদিন এ—গ্রহের  পাহাড়-খন্দকে
দিক্ নির্ণয়ের যন্ত্র করছে |

আমরা প্রত্যেকেই  একসঙ্গে বাস করতে চাই
অরণ্য থেকে ভেসে আসে যে-জংলাফুলের গন্ধ
তার বেশভূষা আমার জানা,
আমি হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে রাখি
ভালোবাসা,
এই সামান্য ভালোবাসা নিয়েই তো
আমার এতো ভয়,
কাকে কি দেব !

যেখানে প্রতিদিন বৃষ্টি অঙ্কুরিত হয়
তার পাশ থেকে উঠে আসে জগত্সংসার
গ্রহের ওপর ফেলে তার প্রহর
প্রতিটি পায়ের শব্দ স্পর্শের নীচে
রেখে যায় এক অদ্ভুত তৃষ্ণার কন্ঠ |

আমি সময় পেলেই জীবনের ক্যানেস্তারা পেটাই
দুঃখের চোখ থেকে নামাই পাথর
ছায়ার শব্দ |

বুঝতে পারি জীবন কি করুণ
সারা দেহে জলের এতো কাতরতা
আমাকে বুঝিয়ে দেয়
আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি |

চাষ-আবাদ খেতিবাড়ি কিছুই আমি জানি না |

সারাটা জীবন
অন্যের কাছে শুধু হাত পেতেছি |

আমি কবিতার একটা খামারবাড়ি করব বলে
কতোদিন ভেবেছি,
গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিতে চেয়েছি
বুক থেকে নামানো মধুর চাক |

বৃষ্টির মতো
গমের দানার মধ্যে যদি তুমুল শব্দে
জেগে ওঠে কোনো ভোর,
মানুষ তা এ-গ্রহের
নিজস্ব সম্পদ বলেই মনে করবে |

এ-গ্রহে মানুষ চাঁদ এবং জলের সঙ্গে বসবাস করুক
এ-ই আমি চাই |

আমি সবার সাথে মিলেমিশে শ্রম দেব |

মানুষের মতো কবিতাও
ফসলের এই বিস্তীর্ণ মাটিতে ট্রাক্টর চালাক |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জন্ম জন্মান্তের ভালোবাসা
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


মানুষের করতলে এঁকেবেঁকে ওঠে দ্রাক্ষালতা
মুঠোর মধ্যে যেন একগুচ্ছ আঙুর |

ঠোঁটের ডগায় তুমি তুলে দাও
স্নেহ
মমতা |

পাতার পবিত্র সবুজে ভেসে ওঠে
মানুষের সত্যিকার মন |

মনের মধ্যে শিকড় নামায় দ্রাক্ষালতার গাছ |

একহাঁটু জল ভেঙে তুমি আস
আমার বুকের মধ্যে |

বুকের মধ্যে বসে আছি আগ্নেয় পাথর |

আমরা দু’জনে একসঙ্গে অনসন করি |

পৃথিবীর তামাম খাদ্য আমরা তুলে দিতে চাই
মানুষের নীরব হাতে |

এখন সারা পৃথিবী জুড়ে নাকি খাদ্যের ভীষণ সংকট |

প্রতিটি ধান গমের দানায় ওড়ে
মানুষের বেদনার যৌগিক পতাকা |

হা হা করে হাসতে হাসতে
আমরা মানুষের দুয়োরে ছুঁড়ে দিই
জন্ম জন্মান্তের ভালোবাসা |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃক্ষের অলক হয়ে উঠেছি
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


সারাটা জীবন আমি ছিন্ন শির নিয়ে
ঘুরেছি
বৃষ্টির দেশে এলে গাছপালার মতো
সবুজ হয়ে উঠেছে আমার চোখ
লতাগুল্মের মতো আমার চুল
বাতাসের শব্দকে ভেঙে চুরমার করেছে |

কে যেন পেছন থেকে  বলে উঠেছিল      
ঘোড়া হাঁকাও
সবুজের মধ্যে খোঁজ গাছের অনন্ত প্রাণ
এই জলাভূমিতে আর কিছু না পাও
পাবে পাইথন সোনালি চিতল |

পাইথন সোনালি চিতলের একটা নিজস্ব নাম আছে
এই বনভূমি এই জলের দেশে |

গাছের শিকড় এখানে বেঁধে রেখেছে
জলের রঙ আর্তচিত্কার,
আলো-ছায়ার বিচিত্র কাঁথার ওপর
মাটি বুনে চলেছে ব্যথার সংসার |

এখানে একটা গন্ধের মধ্যে আর-একটা গন্ধ
মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে,
মাটির সাথে মিশে যাওয়া ঘাম
মাটির রূপ নিচ্ছে |

সবাই ঘাড় থেকে নামাতে চাইছে
সংসারের ভীষণ বোঝা,
খুঁজছে এমন একজন সংসারী- মানুষ
যার পাঁচটি আঙুল ছুঁয়ে আছে
মানুষের দুঃখের সংসার |

গাছের শিকড় গাছকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে
জলা-মাটির ওপর
মানুষের পা খুঁজছে মাটির গভীর ঠাঁই |

মাটির দেশে এতো আলো এতো ছায়া
কীভাবে ধরে রেখেছে বৃষ্টির তুমুল শব্দ |

হায়, দুঃখের মধ্যে এমন গাছ
এমন বৃষ্টি
এমন চোখের জল
আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছে |

শিকড় ছাড়া গাছের মতো মাটির মুখ দেখছি |

আমি ভাবছি, ভাবতে ভাবতে
এ-ভালোবাসা এ-যন্ত্রণার মধ্যে বৃক্ষের অলক হয়ে উঠেছি |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেই, আগুন দেখে যাও
[ ডাঃ পূর্ণেন্দু ঘোষকে ]
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


আমি চাই আমার মন্ত্রের মতো উচ্চারিত কথাগুলো
মানুষের পাশে হেঁটে চলুক
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চুলের বাহার নিয়ে
সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দিক
কেউ যেন বলতে না পারে
শুধু কথা বলিনি,
পাশে থেকেছি |

বুকের মধ্যে যে কলমের জন্ম হয়েছিল
তা আমি কিভাবে নামাব,
চোখের জল আর ক্রোধের পাশে রাখতে চাই |

ভাই, যদি তোমার বুকে একটু আগুন থাকে, দাও |

কাল থেকে পেটে একটি দানাও পড়েনি
জগৎ সংসার কিন্তু তাতেও টলছে না
পা শিকড়ের মতো নামছে মাটির গভীরে |

জলের নীচে আগুনের মুখ দেখার জন্যে
আমি তোমাদের গলা-ফাটিয়ে
হাঁক দিচ্ছি |

হেই, আগুন দেখে যাও |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমাকে ভাবায়
কবি কমলেশ সেন
কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত “অপ্রকাশিত কবিতা” কাব্যসংকলন ( ২০১১ ) থেকে নেওয়া |


তুমুল হৈ চৈ-এর মধ্যে আমার ঘুম ভাঙল

জড়ানো ঘুম চোখের পাতা থেকে
নেমে এল বুকের কাছে
মনে পড়ল গতকালের স্বপ্ন |

এক বৃদ্ধ অবিশ্বাসে তার যুবতী বৌয়ের
বুকে চালিয়ে দেয় ছুরি,
বৌ মাটিতে পড়ে ব্যথায় ছটফট করে
অস্ফুট কন্ঠে বলে, খুন করলে আমার ভালোবাসা ?

বৃদ্ধ মাটিতে হাঁটু ভেঙে বসে
দুহাত তুলে ঈশ্বরকে প্রার্থনা জানায় ;
ওর আত্মা সুখে থাক |
তারপর কান্নায় ভেঙে পড়ে
বৌয়ের রক্তে-ভেজা আঁচল দিয়ে মোছে চোখ |

চোখের কোণে থমকে থাকে জল নয়,
বৌয়ের গরম রক্ত |   

বৌয়ের বুকের ওপর ছড়িয়ে দেয়
ফুলের পাপড়ির মতো স্নিগ্ধ লোহিত মাটি |

বৃদ্ধ নিজের হাতে সাজায়
নিজের বুকের চিতা
মাটি থেকে তুলে নেয় কান্নার শব্দ |

স্বপ্নের মধ্যে ভালোবাসার চিতা জ্বলে
পুড়ে যায় দু’টি মানুষ
বৃদ্ধ এবং যুবতী |

তুমুল হৈ চৈ-এর মধ্যে ভাঙা ঘুম
রাত্রির স্বপ্ন খোঁজে,
নিজের বুকের দিকে অবাক তাকায়
বুকের ওপর স্নিগ্ধ মাটি
চোখের কোণে রক্তের ঢেউ |

এ-দু’টি হাত যদি না থাকত,
এমনভাবে খুন হত না প্রেমের যুবতী,
এমন দু’টি হাত আছে বলেই
খুনের পর এত কান্না |

এতো চোখের জল এতো বুকের রক্ত
এমন ভালোবাসার হাত
আমাকে ভাবায়
আমি ভাবি |

.          ********************  

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর