কবি মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস-এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
www.milansagar.com
*
কাটা ঘুড়ি
রাস্তায় অজস্র মুখ, মুখের মিছিল |
খুঁজি, খুঁজে যায় আনাচ কানাচ মিল ---
দুপুর রোদ ঘোলাটে, তারপর মেঘ মেঘ,
সবুজের ছাই ঘেঁষা কপাল, বিন্দু বিন্দু স্বেদ |
ঝরঝরানি বৃষ্টি শুরু আমলকীর ডাল ---
সেই এক বছর আগের দুপুরের সেই পাল ---
হাওয়া দিয়েছিল খুব, ছুটে চলা তুরগ গতি,
হারানো পথে অচেনা মুখ আয়ুষ্মতি |
আসঙ্গ দুই ঠোঁট দংশিত লাল দ্রাঘিমা রেখা ---
অজানিত কালো চোখে বিষন্ন রক্ত লেখা |
ভালোবাসাবাসি শুরু হতে বট পাকুড়ে মেশা,
জলাভূমি থেকে উঁচু টিলা, টিলা থেকে নদী ---
পেরিয়ে যেতে যেতে খেয়া নৌকো হ'ত যদি |
. ********************
উপরে
মিলনসাগর
১।
কাটা ঘুড়ি
২।
খাজুরাহো
৩।
অ
ন্য কবির জন্য
৪।
খরখরে পাতা
৫।
প
বিত্র ভোর নামে
৬।
তের-র প্লাবন
৭।
স্মৃতি-চক্কর
৮।
অস্তিত্ত্ব
*
খাজুরাহো
মৃতমানুষ আর অন্ধকার ধূসর |
মাথার ভিতরে সবুজ ঘাসের বাস,
ক্ষমাহীন নির্জনতা ফিরে যেতে বলে ---
কোথায়! অখণ্ড পাতার মর্মর |
ভিজে যাওয়া আসঙ্গ আর মেঘলা ছাদ,
উড়ন্ত চিল আর নারকেল পাতা,
কোথায় রাখি তোমাকে মনের ভেতর ---
অজস্র উই যেখানে ঢিবি তুলে খাদ |
ছোট ছোট টুকরো কাগজ-রঙীন বল,
নীল আকাশে বিন্দু টিপ লালনীল সবুজ,
আমার কপাল তিলহীন ভাস্কর্য ---
শুধু ডুবে থাকা বলিরেখা কয়েক পল |
. *******************
উপরে
মিলনসাগর
*
অন্য কবির জন্য
ভাতের পংক্তিমালায় অজস্র রাশি রাশি ফুল |
কাঠগোলাপ, শেফালি, কাশ আর গুচ্ছমূল ---
কবি না মানুষ কি বলব তোমাকে, অতিমানব!
জ্বলন্ত "আখা" প্রতিদিন জ্বলত কি "বিষাদ বালক",
শূন্য মন, ছিঁড়ে ফেলা ফুল ফাগুন আর জল |
ঝ'রে পড়া শুকনো পাতা আর লেখার কল ---
নিভে যায় শূন্য শূন্য হলুদ বন ---
যীশু ক্রুশ বিদ্ধ এখন, রক্তঝরা মন |
. *******************
উপরে
মিলনসাগর
*
খরখরে পাতা
অন্ধকারে একা ঘর,
বিষন্ন সবুজ ---
তোমার ঘরে উঁকি দিলো
বেয়ারা ভালোবাসা |
আকাশের উঁচু মগডালে
ছুঁড়ে দিও ত্রিকোণ হৃদয় |
ঝুলে থাকবে যম আসা পর্যন্ত
নারকেল পাতায়,
গাঙচিলের শক্ত ঠোঁটে |
. *******************
উপরে
মিলনসাগর
*
পবিত্র ভোর নামে
মে মাস / রবীন্দ্রনাথ | বৈশাখে
কবিগুরু, জোড়াসাঁকো একাকার |
উপাসনা --- গায়ত্রী মন্ত্র যপতে জপতে
হৃদয় উপুর করা ভালোবাসা |
কে দিয়েছিল এত! এতকাথা, এত ভ'রে
থাকা জীবন | সাগরের ঢেউ ডাকে ---
ধীরে, খুব ধারে | বার বার |
চলে যেতে চাই কবি | হাত ধ'রে
লিখে লিখে, গানে গানে, থেমে থেমে |
তবু নামে বৃষ্টি, পরপারে ঢেউ নামে,
দু-চোখের জলে বৃষ্টি রেখা প্লাবন নামায় |
শোনা যায় ভোরের আলোয় ---
"ওঁ ভূর্ভূবঃ সঃ তত্সবিতুর্বরেণ্যম্ ,
ভর্গ দেবস্য ধীমহী বিয়োঃ ন প্রচোদয়াৎ . . . . ."
. *******************
উপরে
মিলনসাগর
*
তের-র প্লাবন
অভাগ্য বাসা বেঁধেছিল | মেয়েটা জন্মেছিল
তের তে | বুধবারের অস্বাভাবিক রাতে |
পরদিন কালী পুজো | বাজি পটকা আর
অমাবস্যার পার | তবু সেই কালো আকাশ
আলোর মত জ্বলে | এক টুকরো মোতির মত |
প্রতি তের তে কার্তিকের সন্ধ্যেয় ভূত-চতুর্দশীর
প্রদীপ জ্বলে | মাটির প্রদীপ | আর মদন মোহন
সন্দেশের পুজো পান | বিকেলের লুচিপায়েসের
গন্ধে বন্ধুরা ভীড় করে | সেই কাজল টিপের
মেয়েটা তেরো তেই জীবনের ভীত তৈরি করে |
পড়ার পর রাঁধা নয়, পড়ার পর জীবন স্থায়ী-
অর্থ-নিরাপত্তায় স্বাবলম্বী হবার দিন তেরো |
তাই অভাগ্য জেঠিমা / মামীমার কথার তোড়েই
গেছে ভেসে বন্যায় --- তোর্সার | এখন তিস্তায় জল
জমে, বানভাসি মেয়েটা দু-হাতে জল আটকায়
তেরো কে দুয়ো দিয়ে আকাশ প্রদীপ জ্বলে |
. *******************
উপরে
মিলনসাগর
*
স্মৃতি-চক্কর
জলছবি ঘুরে ঘুরে আসে / বয়ঃসন্ধি বেলা গন্ধ |
গোল ঘেরা বারান্দা আর তোর্সার বাঁধ |
পাথর পাথর আর পাথর স্তূপ ---
নির্জন পাহাড় মন --- ঝর্ণা ঝরা |
ইছামতী হতে চায় |
নৌকোর পার ধরে ভেসে ভেসে সূর্যের আলো অন্ধ,
সবুজ পাতা আর সীমানা-ওপার বাংলাদেশ ---
পায়ে পায়ে মনে মনে শরীরে শরীরে |
ফিরিয়ে আনে বয়ঃসন্ধি | দু-খানা পাখা জুড়ে
পরী হয়ে উড়ে বেড়াই ভিক্টোরিয়ার মাথায় ---
. *******************
উপরে
মিলনসাগর
*
অস্তিত্ত্ব
আকাশে মুখ তুলেছি
ঘাস জমি একাকার ---
মাটির উঠোন --- স্থলপদ্মের ঝাড় |
শুধু তোমায় ছুঁয়ে থাকব বলে,
নিরক্ত ঘুম ছুঁয়ে যাওয়া
স্বপ্ন স্বপ্ন ভোর দিগন্ত লাল |
রাতের তারা ঢেকে আছে দীর্ঘকালো চুল---
কপালের লাল দাগ --- তোমার জন্য |
পেরিয়ে যাক দীঘল ছোঁয়া ডুব---
ক্ষণজন্ম আর পরজন্ম
একাকার --- শুধু আছ বলে |
. *******************
উপরে
মিলনসাগর